বুধবার । ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ । ৩০শে পৌষ, ১৪৩২

সালেহা হত্যা : ঘাতক লালন গ্রেপ্তার হলেও সহযোগীরা অধরা, প্রতিবাদে মানববন্ধন

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি

ডুমুরিয়ার গৃহবধূ সালেহা হত্যার মূল ঘাতক লালন গাজীকে গ্রেপ্তার করলেও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি খুলনা পিবিআই। পাচঁ মাসেও উদ্ধার হয়নি মস্তক। এদিকে ঘাতক লালন গাজী ও তার সহযোগীদের শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে পরিবার ও এলাকাবাসী। গতকাল সোমবার বিকেল ৩ টায় ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

নিহত সালেহা বেগমের ছেলে বলেন, “আমার মার থেকে তার বিদেশ থেকে অর্জিত ৩২ লাখ টাকা জালিয়াতি করে নিয়ে নিয়েছিল লালন গাজী।”

তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মা কোনো অপরাধ করেনি। পরিকল্পিতভাবে আমার মাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি সরকারের কাছে শুধু একটাই দাবি জানাই আমার মায়ের খুনিদের যেন ফাঁসি হয়।”

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা গাজী শফিকুল ইসলাম শফি, মাক শহিদ মোল্লা, শাহীন ফকির, মুজাফ্ফর ফকির, মোজাহার আলী ফকির, শিউলি, আনোয়ারা বেগম, নিপা বেগম, মাকুল শেখ, আব্দুল্লাহ ফকির, জাফরুল সরদার, রিজাউল ফকির, মুজাহিদ ফকির, হযরত ফকির, লিলি বেগম, তিশা, আপরির, ছামিয়া, আরিফা প্রমুখ।

খুলনা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেসটিকেশন (পিবিআই) জানায়, “বটিয়াঘাটার ঝপঝপিয়া নদী থেকে গেল বছর ২০ আগস্ট উদ্ধার মস্তকবিহীন নারীর লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় বটিয়াঘাটা থানায় একটি অপমৃত্য মামলা হয়। অপরদিকে প্রতিবেশী লালন গাজী ফুসলিয়ে মজিদ ফকিরের স্ত্রী সালেহা বেগমকে নিয়ে দীর্ঘদিন নিরুদ্দেশ থাকায় তার ছেলে শামীম ফকির খুলনা আদালতে অপহরণ মামলা দায়ের করে। ওই মামলার সূত্র ধরে ১৮ ডিসেম্বর রাতে সুনামগঞ্জের হালুয়াঘাট এলাকা থেকে লালন গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআই এর কাছে স্বীকার করে লালন এবং তার মামাতো ভাই সিগারসহ ৪/৫ জনে সালেহাকে ১৯ আগস্ট রাতে জবাই করে হত্যা করেছে। মস্তক আলাদা করে মাথার নীচের অংশ ঝপঝপিয়া নদীতে ফেলে দেয় তারা। মাথার অংশও একই নদীর প্রায় ৩ কিলোমিটার দুরে ফেলে দেয়। পুলিশ মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করলেও এখনও পর্যন্ত মাথার অংশ উদ্ধার করতে পারেনি।”

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রেজোয়ান জানান, “মূল ঘাতককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করা হচ্ছে।” মাথা উদ্ধার না হওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, “নদীতে প্রচুর স্রোত। যে কারণে ঘাতক যে স্থানে ফেলেছে বলছে তার আশপাশের দুই কিলোমিটার তল্লাসী করেও মাথা পাওয়া যায়নি। তবে আবারও ডুবুরি দিয়ে মাথা খোঁজা হবে।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন