আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। খুলনা-৫ আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে বৈধ প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ ৪ জন। তারা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিসিবি’র সাবেক সভাপতি ও বিএনপি’র মোহাম্মদ আলি আসগার লবি, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির চিত্ত রঞ্জন গোলাদার ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. আব্দুল কাইউম জমাদ্দার। এই নির্বাচনে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিয়েছেন তাদের হলফনামা।
প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, খুলনা-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী আলি আসগর লবি বার্ষিক আয় এবং সম্পদে শীর্ষে রয়েছেন। তার অস্থাবর এবং স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৬৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৫০ টাকা। বার্ষিক আয় ২ কোটি ৪৫ লাখ ১৫ হাজার ৬১০ টাকা। হলফনামায় ৬টি মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ারের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ১৪ লাখ ৯ হাজার ৭৩৩ টাকা রয়েছে। তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫ শত টাকা। হলফনামায় ৪৮টি মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে আরও দেখা যায়, বিএনপি’র প্রার্থী আলি আসগর লবির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক, পেশা ব্যবসা। তার বিরুদ্ধে খুলনা ও ঢাকায় দায়ের করা ৬টি মামলায় খালাস, প্রত্যাহার ও কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। তার বর্তমান মূল্যে ৫২ কোটি টাকার অস্থাবর রয়েছে। এরমধ্যে নগদ ১ কোটি ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৩৮৩ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৬ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার ৫০০ টাকা, পোস্টাল, সেভিং সার্টিফিকেঁসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৪০ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার টাকা, ২ কোটি ৮৪ লাখ ৯৪ হাজার ২৪ টাকার মোটরযান, ৩০ হাজার টাকার স্বর্ণ, ১২ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র, ২ লাখ টাকার আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।
এছাড়া বর্তমানে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এরমধ্যে অর্জনকালীন মূল্যে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকার অকৃষি জমি ও ৪ কোটি ৬০ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ টাকার বাড়ি/এপার্টমেন্টের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তার বর্তমান মূল্যে স্ত্রীর ৩ কোটি টাকার অস্থাবর এবং ৬ কোটি ৬০ লাখ ৬১ হাজার ৬১১ টাকার সম্পদ রয়েছে। তার ১৩ কোটি ৭১ লাখ টাকার দায় রয়েছে এবং তার স্ত্রীর দায়ের পরিমাণ ২৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ২০০১ সালে খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে আলি আসগর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার প্রতিশ্রুতি হিসেবে অর্জনসমূহ, বৈকালীতে খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও ২০০৪ সালে রূপসা সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে। খুলনায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর তৈরি করাও তার প্রতিশ্রুতি ছিল।
এদিকে জামায়াতের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার ২০০১ সালে তিনি এই আসনে চারদলীয় জোটের সাবেক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এম কম (এ্যাকাউন্টিং)। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী, তার পূর্বের পেশা শিক্ষকতা। মিয়া গোলাম পরওয়ারের নামে খুলনা ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ৪৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা কোয়াসড এবং বাকি মামলাগুলো থেকে তিনি খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন। তার বর্তমান আনুমানিক ১৪ লাখ ৯ হাজার ৭৩৩ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এরমধ্যে তার কাছে নগদ রয়েছে ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে ৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৩৩ টাকা। তার টিভি, ফ্রিজ, ল্যাবটপ, রাইস কুকার, ফ্যান, গিজারের মূল্য ৮০ হাজার ৬৫০ টাকা এবং ১ লাখ ১০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। এছাড়া তার বর্তমান আনুমানিক এক কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে। পরওয়ারের স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ২২ লাখ ৫৭ হাজার ২০ টাকা। গোলাম পরওয়ারের ওপর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় ৩ হাজার ৩৩০ টাকা।
মিয়া গোলাম পরওয়ার তার নির্বাচন-পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি হিসেবে ৯০ শতাংশ সন্ত্রাস দমন, ৭৫ শতাংশ ফুলতলা উপজেলার ভূমি উন্নয়ন কর হ্রাসকরণ, ৮০ শতাংশ রাস্তাঘাট, হাটবাজার, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং ৩৫ শতাংশ জলাবদ্ধতা নিরসন, নদী ভাঙ্গন রোধ ও ভরাট, খাল খননের বিষয়টি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির চিত্ত রঞ্জন গোলাদারের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসসি ও পিএইচডি, পেশা আইনজীবী। তার বার্ষিক আয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার ৪১ লাখ ৫ হাজার ১৬৮ টাকার অস্থাবর এবং এক কোটি ১ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. আব্দুল কাইউম জমাদ্দারের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর, পেশা হিসেবে কৃষি ও ব্যবসা (বাড়ি ভাড়া) উল্লেখ করেছেন তিনি। তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা। তার বর্তমানে আনুমানিক ২ কোটি টাকা মূল্যের অস্থাবর এবং ৬০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে।
খুলনা গেজেট/এনএম
