খুলনায় জেকে বসেছে শীত। জবুথবু হয়ে পড়ছে নগরবাসী। তীব্র এ শীতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মানুষের ভিড় বাড়ছে গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে। তবে শপিং মলের চেয়ে ফুটপাথের পুরানো কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এসব দোকানগুলির খরিদ্দারদের মধ্যে বেশি সংখ্যক মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
পৌষ মাসের আজ ১৩ দিন। গত কয়েকদিন ধরে খুলনায় শীতের তীব্রতা একটু বেশি। ‘পৌষের শীত মোষের গায়’, এ প্রবাদটি যেন খুলনার মানুষকে স্মরণ করে দিচ্ছে।
নগরীর ডাকবাংলো হার্ডমেটাল গ্যালারি থেকে শুরু করে ক্লে রোড মোড় পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, সোয়েটার, জ্যাকেট, মাফলার, হুডি, এবং মাহিলা ও শিশুদের গরম কাপড় বিক্রি করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কেউ ফুটপাথে আবার কেউ ভ্যানে আবার কেউ দোকান খুলে শীতবস্ত্র বিক্রি করছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাদের হাকডাকে মুখর এসব এলাকা। তবে পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের সরবরাহ থাকলেও গত বছরের তুলনায় এবার তার দাম তুলনামূলক অনেক বেশি বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
খালিশপুর পিপলস গেট থেকে গরম কাপড় কিনতে আসেন করিম উদ্দিন। অনেক ঘোরাঘুরি করার পর জব্বার মার্কেটের একটি দোকানে জ্যাকেট কেনার জন্য দাম করেন। কিন্তু সেটির দাম নতুনের থেকে বেশি হওয়ায় মার্কেটের বাইরে চলে যান তিনি।
সোনাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আকাশ অভিযোগ করে বলেন, “শুক্রবার অফিস বন্ধ থাকায় গরীবের মার্কেট বলে পরিচিত জব্বার মার্কেটে আসেন। এখানে এক দোকানি ৮০০ টাকার জ্যাকেটের মূল্য হেকেছেন ১ হাজার ৮০০ টাকা। যা আমাদের মতো গরীব মানুষের পক্ষে কেনা সম্ভব নয়।”
জব্বার মার্কেটের ব্যবসায়ী কামাল হোসেনে বলেন, “হঠাৎ করে গত কয়েকদিনের তুলনায় শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি বেড়েছে বেশি। কয়েকদিন আগে যা বিক্রি হত তার থেকে এখন দ্বিগুণ বেড়েছে। দোকানে বিভিন্ন ধরনের ফ্যাশানাবল জ্যাকেট রয়েছে। ইয়ং বয়সের ছেলেরা তার দোকানে ভিড় করে। পেডিং জ্যাকেট এবার চলছে বেশি। যারা মোটরসাইকেল রাইড করেন তাদের জন্য এটি বেশ আরমদায়ক।” তিনি আরও বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার বেলের দাম ২-৩ হাজার টাকা বেশি হওয়ায় শীতবস্ত্রের দাম একটু বেশি।”
এদিকে জব্বার মার্কেটের তুলনায় দাম কম হওয়ায় ক্রেতারা ভিড় করছেন ফুটপাথের দোকানগুলোতে। সেখানে মানভেদে বড়দের শীতবস্ত্রের দাম সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত এবং শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের শীতবস্ত্র মিলছে ২০০ থেকে ৫০০ টাকায়। মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে এসব দোকান এখন একমাত্র ভরসা। অনেককেই পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য শীতবস্ত্র কিনতে দেখা গেছে ফুটপাথের এসব দোকানগুলোথেকে।
খুলনা গেজেট/এনএম
