বুধবার । ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ । ৩০শে পৌষ, ১৪৩২
নিম্নমুখী শীতকালীন সবজিও

১০০ টাকায় ৮ কেজি আলু

নিজস্ব প্রতি‌বেদক

শীত মৌসুমে শাক সবজিসহ সকল প্রকার তরিতরকারির দাম কমেছে। তবে এর মধ্যে আলুর দাম অস্বাভাবিকভাবে কমেছে। যা বিগত কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। বর্তমানে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ৮ কেজি আলু। এই আলু কিছু দিন আগেও বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ভ্যান গাড়ি ঘুরে ঘুরে হ্যান্ড মাইক দিয়ে এই নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে।

চলতি মৌসুমে কৃষকের খেতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে শীতের সবাজির আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কমেছে শীতকালীন সবজির। এসব সবজির মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, পেঁয়াজের কালি, কাঁচাঝাল ও পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজি প্রতি ২৫-৩০ টাকা। তবে দাম কমেনি মাছ-মাংসের।

গতকাল শুক্রবার নগরীর রূপসা, নিরালা, ময়লাপোতা সন্ধ্যা বাজার ও নিউ মার্কেট কাঁচা বাজারের তথ্যানুযায়ি প্রতি কেজি বেগুন ৪০-৫০ টাকা, ফুল কপি ২০-২৫ টাকা, বাঁধাকপি ২০-২৫ টাকা, শিম প্রকার ভেদে ২০-৫০ দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৩০-৩৫ টাকা, মূলা ২৫-৩০ টাকা, গাজর ৫০-৬০ টাকা, টমেটো ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম কমেনি খিরাই এর। বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি। ধুুনদোল ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩৫-৪০ টাকা, কাঁচাঝাল ৭০-৮০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০-৬০ টাকা, রসুন ৭০-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ডিমের দাম কমলেও কমেনি মাছ ও মাংসের দাম। সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ৩২-৩৬ টাকা এবং লাল ডিম প্রতি হালি ৩৬-৪০ টাকা। আকার ভেদে রুপচাঁদা মাছ ৯০০-১৬০০, ইলিশ মাছ ৮৫০-১৪০০ টাকা, চাকা চিংড়ি ৬০০-৭০০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৭০০-১২৫০, গলদা চিংড়ি ৮৫০-১৩০০ টাকা, দেশি কই মাছ ৯০০-১০০০ টাকা, শিং মাছ ৮০০-১১০০ টাকা, ভেটকি মাছ ৬০০-৭৫০ টাকা, রুই মাছ ২৫০-৩২০ টাকা, কাতলা মাছ, ৩০০-৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০-২২০ টাকা, পাঙাশ ২০০-২২০ টাকা, পাবদা মাছ ৩৫০-৪৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি ১৪০-১৫০ টাকা, কক ও সোনালি ২৩০ টাকা, গরুর মাংস ৭০০-৭৫০ টাকা, খাসি ১০০০-১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

নিরালা সন্ধ্যা বাজারের সবজি বিক্রেতা মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমদানি বেশি হওয়ার কারণে বর্তমানে সবজির দাম অনেক কম। দাম কমার সাথে সাথে আমাদের বেচাকেনা কমে গেছে। এখন আগের চেয়ে বিক্রি অনেক কমে গেছে।”

নিরালা বাজারের আরেক সবজি বিক্রেতা সোয়েব বলেন, “শীতের সবজির আমদানি বেশি হওয়াতে দাম অনেক কম। গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে কেজি প্রতি কিছু সবজি ২০-৩০ টাকা কমেছে।”

বাজার করতে আসা আব্দুল আজিজ বলেন, “সবজির দাম কমলে কী হবে সবজি রান্না করার জন্য যে চিংড়ি মাছ প্রয়োজন তার তো দাম কমেনি।”

রূপসা বাজারের সবজি বিক্রেতা মোঃ সোহাগ বলেন, “কাঁচা মালের আড়তে সবজি অনেক বেশি তাই দাম কম।”

বাজার করতে আসা কাঠ ব্যবসায়ী মোঃ ইখলাস হোসেন বলেন, “সবজির দাম আরো কমবে মনে হচ্ছে। দাম কমার কারণে এক সাথে একটু বেশি বাজার করি। যাতে দু- এক দিনে বাজারে না আসা লাগে।”

নিরালা বাজারের সবজি বিক্রেতা লোকমান বলেন, “সবজির দাম কমাতে আমাদের আয় কিছুটা কমেছে। আগে যে সবজি ৭০-৮০ টাকা বিক্রি করতাম তা এখন কমে ২৫-৩০ টাকা হয়েছে। এখন অনেকে বাজার পর্যন্ত আসে না। ভ্যানের উপর থেকে বাজার করে।”

বাজার করতে আসা এনজিও কর্মকর্তা বাবুল বলেন, “বাসা থেকে বের হলে সামনে শুধু সবজি পড়ে। ভ্যানে সবজি, রাস্তার উপর সবজি, বাজারে সবজি।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন