আমন মৌসুমে আর দেখা মিলছে না স্থানীয় জাতের ধান। কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও হাইব্রিড ধানের দাপটে ডুমুরিয়ায় ফসলি মাঠ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির ধান। উচ্চ ফলনের কারণে হাইব্রীড ধান চাষে কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে তুলশীমালা, ইন্দ্রশাইল, নাজিরশাইল, পাটনাই ও কাটারিভোগের মতো অনেক ঐতিহ্যবাহী আমন ধানের জাত বিলুপ্তির পথে। এদিকে অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরশীল হাইব্রীড জাতের ধান চাষাবাদের কারণে মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।
জানা যায়, একটা সময় খুলনার ডুমুরিয়াসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিলগুলোতে আমন মৌসুমে ব্যাপকভাবে চাষাবাদ হতো বাদশাভোগ, রূপশাইল, বাঁশফুল, ক্ষীরাইজালি, রানী স্যালুট, চিনিকানাই, কুমড়াগোড়, কৈজুড়ি, মরিচশাইল, ঘুনশি, কাচড়া, চাপাল, কৈজুড়িসহ ২০টিরও বেশি স্থানীয় জাতের ধান। যা এখন আর তেমন চোখে পড়েনা। এসব জমি এখন হাইব্রিড ধানের দখলে। এগ্রো, ধানীগোল্প, আগমনী, এরাইজ-৭০০৬, সুরচী-১, ব্র্যাক হাইব্রিড, ব্রি-হাইব্রিড-৬সহ উচ্চ ফলনশীল বহু জাতের ধান চাষাবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে ১৪ হাজার ৯৩৯ হেক্টর জমিতে উফশী ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষাবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে আমন মৌসুমে। এ পর্যন্ত ৮০ পার্সেন্ট ধান কর্তন করা হয়েছে। হাইব্রিড জাতের ধান হেক্টর প্রতি ৭ থেকে সাড়ে ৭ টন পর্যন্ত ফলন হয়েছে এবং উপসী জাতের ধান হেক্টর প্রতি সাড়ে ৫ থেকে ৬ মেঃটন ফলন হয়েছে। স্থানীয় জাতের ধানে ফলন কম হওয়ায় এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে কৃষকরা স্থানীয় জাতের ধান চাষের আগ্রহ হারিয়েছে।
এদিকে স্থানীয় জাত বিলুপ্তির কারণে এবং রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরশীল হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করায় পরিবেশ ও মাটির স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। একটা সময় আমন মৌসুমে বগারখোর, কালিদাশপুর, খড়িয়া, মির্জাপুর, বিলপাবলা, টিয়াবুনিয়া, ভেল্কামারী, জেলেরডাঙ্গা, ধাইগা, লতা, বিলডাকাতিয়া, মাদবকাটি, বিলপাটেলা, ঘোনা, কাটেঙ্গা, টোলনাসহ আশপাশ এলাকার বিলগুলোতে ব্যাপকভাবে স্থানীয় জাতের ধান চাষাবাদ হতো। এসব এলাকায় আমন মৌসুমে প্রায় সব ধরণের ধান চাষাবাদ বন্ধ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ডুমুরিয়ার দক্ষিণাঞ্চল বিলগুলোতে যেমন, সাহস-জয়খালী, দিঘলিয়া, আসাননগর, সেনপাড়া, ঝালতলা, কালিকাপুর, দত্তডাঙ্গা, আকড়া, বাহিরআকড়াসহ ১৫/২০টি বিলে আমন ধানের চাষাবাদ হয়েছে। তবে এসব এলাকায় স্থানীয় জাতের ধান চাষ আর দেখা মিলছে না।
আকড়া গ্রামের কৃষক অখিল মন্ডল জানান, “আগে আমরা স্থানীয় ধান চাষ করতাম। ফলন কম হওয়ায় এখন উচ্চ ফলনের হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করেছি।”
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইনসাদ ইবনে আমিন জানান, “চলতি আমন মৌসুমে বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা উচ্চ ফলনের আশায় স্থানীয় জাতের ধান চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়েছে। উপসী এবং হাইব্রিড জাতের ধানের চাষাবাদ করছে অধিকাংশ কৃষক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের চেয়ে এবার বেশি ফলন হয়েছে।”
খুলনা গেজেট/এনএম
