বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকে বলা হয় দূষিত বাতাসের শহর। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, বায়ু দূষণে মাঝে মাঝে ঢাকাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে খুলনা। বায়ু দূষণ নিয়ে বিশ্বব্যাপী কাজ করা সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের হিসেবে শনিবার সকাল ১০টায় খুলনার বায়ু মান ছিল ২৭৯। একই সময়ে ঢাকার বায়ু মান ছিল ২০২। বায়ু মান ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকলে খুবই অস্বাস্থ্যকর হিসেবে ধরা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নগরীর বয়রা মোড়ে বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্র (ক্যামস) থেকে সার্বক্ষণিক বায়ুদূষণের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। প্রতি এক ঘণ্টা পর পর এটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
ক্যামসের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের অর্ধেকটাই খুলনার বাতাস ছিল অস্বাস্থ্যকর। এর মধ্যে গত ১২ নভেম্বর খুলনার বাতাস ছিল দেশের মধ্যে সবচেয়ে দূষিত। ওই দিন সকাল ৯টায় বায়ু মান ছিল ৩০৯। যা মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। গত ২৬ নভেম্বর সকালে খুলনার বায়ু মান ২৭৭। ওইদিনও ঢাকার বায়ু মান ছিল অনেক কম।
সম্প্রতি নগরীর সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল, রূপসা স্ট্যান্ড মোড়, রূপসা সেতু অ্যাপ্রোচ রোড, গল্লামারী মোড়সহ কয়েকটি প্রধান সড়কে ঘুরে দেখা গেছে, যানজটের পর মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পড়ছে বাতাসের দূষণ নিয়ে। সড়কগুলোতে ধুলোর পরিমাণ এতই বেশি যে, একবার যাতায়াতের পর জামা-কাপড়ের রংই পাল্টে যায়। শিপইয়ার্ড, বাস টার্মিনাল সড়কে মুখোশ পরে চলাচলও এখন কষ্টকর।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেন, “এক সময় খুলনাকে শান্ত নিরিবিলি নির্মল বায়ুর শহর বলা হতো। যারাই বেড়াতে এসেছেন খোলামেলা, দূষণমুক্ত পরিবেশের প্রশংসা করতেন। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন কাজ, ইটভাটা, জৈব জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারসহ নানা কারণে খুলনার সেই সুনাম আর নেই। সরকারি দপ্তরগুলোর ব্যর্থতাই খুলনা শহরটি দূষিত বাতাসের শহরে পরিণত হচ্ছে।”
পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের পরিচালক সাদিকুল ইসলাম বলেন, শহরের পাশে প্রচুর ইটভাটা, সংস্কারহীন সড়ক, অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ কাজ, মেয়াদোত্তীর্ণ মোটরযান থেকে নির্গত বিষাক্ত ভারী ধাতুই দূষণের মাত্রা বাড়াচ্ছে। বায়ু দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। এছাড়া নির্মাণ কাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।”
খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ রুহুল আমিন বলেন, “বাতাসে বস্তুকণার পরিমাণ বাড়লে অল্পতেই মানুষ কাশি ও অ্যাজমায় আক্রান্ত হয়। বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ে।”
খুলনা গেজেট/এনএম
