বুধবার । ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ । ৩০শে পৌষ, ১৪৩২
দু’জনের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ১১ লাখ টাকা

নগরীতে নৌবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারক চক্র সক্রিয়, আটক ১

নিজস্ব প্রতি‌বেদক

বাংলাদেশ সেনা ও নৌবাহিনীতে সদস্য পদ নিয়োগের কোনো বিজ্ঞপি প্রকাশ হলে সক্রিয় হয়ে ওঠে প্রতারক চক্র। তাদের খপ্পরে পড়ে সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়ে সহজ-সরল মানুষ। এমন এক চক্রের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়েছে রাজশাহীর নওগা জেলার মোঃ রাজু ও মোঃ ফারুখ হোসেনের পরিবার। তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ১১ লাখ টাকা।

এমনই এক প্রতারক চক্রের সদস্যকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে নৌবাহিনীর সদস্যরা। গতকাল শনিবার দুপুরে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন সঙ্গিতা সিনেমা হলের সামনে থেকে মোঃ তরিকুল ইসলাম ওরফে তারা মিয়া (৬২) নামে ওই প্রতারককে আটক করা হয়। আটক তরিকুল ইসলাম খুলনা নগরীর খালিশপুর থানাধীন ১১৭ গোয়লখালী এলকার বাসিন্দা মোকাম মোল্লার ছেলে। সে কখনও নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য আবার কখনও পুলিশের সাবেক সদস্য হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিত।

প্রতারণার শিকার হওয়া মোঃ রাজু বলেন, “নৌ বাহিনীতে সদস্য পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য ছেলে মোঃ রাকিবকে নিয়ে খুলনায় আসি। এরপর শফিক নামে এক দালালের সাথে তার পরিচয় হয়। ছেলেকে চাকরি পাইয়ে দিতে তার সাথে ৮ লাখ টাকা চুক্তি হয় এবং তারা মিয়া নামে নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার সাথে তাকে মোবাইলে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তারা মিয়া তার ছেলেকে নৌবাহিনীতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে মোবাইলের মাধ্যমে তাকে প্রথমে ২০ হাজার এবং একই দিন দুপুরে আরও ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়। পরের দিন রাতে প্রতারক তারা মিয়া প্রত্যায়ন পত্র দিলে তারা বাড়িতে চলে যান।”

তিনি আরও জানান, “প্রতারক তারা মিয়া ফোন দিয়ে দালাল শফিকের সাথে যোগাযোগ করতে নিষেধ এবং তাকে কত টাকা দিয়েছেন তা ফেরত নেওয়ার জন্য তাদের চাপ দিতে বলে। পরে তাদের জানানো হয় নৌবাহিনীতে নিয়োগের জন্য তাকে আরও ৩ লাখ টাকা প্রদানের কথা। নৌবাহিনীতে নিয়োগপত্র নেওয়ার জন্য তারা বাড়ির গরু, ছাগল এবং এনজিও থেকে ঋণ করে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা প্রতারক তারা মিয়াকে দেন।”

তারা মিয়া তাকে একটি নীল কাগজ এবং নিয়োগপত্র ধরিয়ে দিয়ে কাউকে বিষয়টি না জানানোর জন্য বলে। ২৬ নভেম্বর রক্ত পরীক্ষার কথা বলে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নেয়। চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার কাছ ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তারা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন যে নিয়োগপত্র এবং কাগজ দেওয়া হয়েছে তার সবই ভুয়া।

অপর ভুক্তভোগী মোঃ ফারুখ হোসেন বলেন, “এক মামার মাধ্যমে তারা মিয়ার সাথে মোবাইলে পরিচয় হয়। মোবাইলে কথা বলার একপর্যায়ে ৮ লাখ টাকায় চাকরির চুক্তি হয়। নিযোগপত্র দিয়ে আমার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নিয়েছে। রক্ত পরীক্ষার কথা বলে আরও সাড়ে ৩ লাখ টাকা নিয়েছে। তবে রক্ত পরীক্ষা করেনি। আজ ৭০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা জানালে আমরা খুলনায় আসি। খুলনায় এসে নৌবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করলে তারা মিয়ার বর্ণিত ঠিকানা সঙ্গিতা সিনেমা হলের সামনে চলে আসি। পরে নৌবাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে থানায় সপোর্দ করে। চাকরি দেওয়ার কথা বলে সে আমার কাছ থেকে মোট ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।”

সোনাডাঙ্গা থানার ওসি তদন্ত অনিমেষ মন্ডল জানান, “নৌবাহিনীর সদস্যরা দুপুরে এক প্রতারককে আটক করে পুলিশের নিকট সপোর্দ করেছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন