খুলনার আদালত পাড়ায় দুই হত্যা মিশন সফল করতে সরাসরি ৭ জন অংশ নেয়। আরও বেশ কয়েকজন আদালত চত্বরকে সেন্টারে রেখে বিভিন্নস্থানে সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান নেয়। প্রতিপক্ষ হামলা চালালে তাদের ওপর পাল্টা হামলার প্রস্তুতিও নিয়েছিল তারা।
৩০ নভেম্বর সকাল থেকে আদালত পাড়ায় সোর্সও নিয়োগ করা হয়। সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুনে অংশ নেওয়া একশন টিমের ৭ জন হাসিব হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি রাজনের ওপর হামলা চালায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দুই হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ইজাজুল হোসেনের বরাত দিয়ে এমন তথ্য সাংবাদিকদের কাছে উপস্থাপন করেন র্যাব-৬ এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল নিস্তার আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, “হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীদের সাথে ইজাজুল ছিলেন। আদালত চত্বর থেকে ধারণ করা ২৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে হলুদ গেঞ্জি পরা অবস্থায় তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেছে। উপযুক্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে তাকে রূপসা উপজেলার আইচগাতি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার পর সে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। রাতভর তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধার এবং অন্যান্য সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। হত্যা মিশনে অংশ নেওয়া ৭ জনের নাম উল্লেখ করেছে আটক ইজাজুল। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করতে চাননি র্যাবের ওই কর্মকর্তা।
সাংবাদিকদের কাছে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আদালত পাড়ায় নিয়োগকৃত সোর্সের মাধ্যমে একশন টিমের সদস্যরা খবর পায় হাসিব এবং রাজন হাজিরা দিয়ে বের হয়েছে এবং প্রধান ফটকের পাশে অবস্থান করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে একশান টিমের ৭ সদস্য হাসিব এবং রাজনের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে তাদের দু’জনকে গুলি এবং পরে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।”
তিনি আরও জানান, “খুলনার দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। এলাকার আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং মাদক কারবার নিয়ে দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বে খুলনায় একাধিক হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ড গুলোর সুষ্ঠু তদন্তে পুলিশের পাশাপাশি র্যাবও ছায়া তদন্ত করছে।”
উল্লেখ্য, ৩০ নভেম্বর খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রবেশ দ্বারের পাশে সন্ত্রাসীরা গুলি এবং কুপিয়ে হাসিব হাওলাদার এবং ফজলে রাব্বি রাজনকে হত্যা করে। নিহত দুই যুবক ওইদিন আদালতে একটি মামলার হাজিরা দিতে এসেছিলেন।
খুলনা গেজেট/এনএম
