গত ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২০ লাখেরও বেশি ভারতীয় দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সাল থেকে নাগরিকত্ব ত্যাগের এই হার আরও বেড়েছে। গত ১৪ বছরে কত জন ভারতীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন, তথ্য-পরিসংখ্যান দিয়ে তা জানিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রক। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে প্রশ্নের লিখিত জবাবে এস জয়শঙ্করের মন্ত্রক এই তথ্য জানিয়েছে
পরিসংখ্যান বলছে, ১৪ বছরে ২০ লাখের বেশি মানুষ ভারতের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্তই এই সংখ্যাটা ৯ লাখেরও বেশি। পরিসংখ্যান এ-ও দেখাচ্ছে যে, ২০১১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত প্রতি বছর নাগরিকত্ব ত্যাগের সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজারের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। কিন্তু ২০২২ সাল থেকে সংখ্যাটা ২ লাখে পৌঁছোয়।
কী কারণে নাগরিকত্ব ত্যাগের হার বাড়ল, তার সুস্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি বিদেশ মন্ত্রক। তবে জয়শঙ্করের মন্ত্রকের বক্তব্য, ব্যক্তিগত কারণেই অনেকে ভারতের নাগরিকত্ব ত্যাগ করছেন। এই পরিসংখ্যানের সূত্রে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে ‘ব্রেন ড্রেন’ তত্ত্ব নিয়ে। যে তত্ত্ব অনুসারে, ভারতের মেধাবী ছাত্র-যুবরা উন্নত সুযোগ সুবিধার জন্য পশ্চিমের দেশগুলিতে চলে যাচ্ছেন। সত্তরের দশকে ভারতের নাগরিকত্ব ত্যাগের ঊর্ধ্বমুখী হার এই তত্ত্বকে আরও জোরদার করেছিল।
ভারত দ্বৈত নাগরিকত্ব (একই সঙ্গে দুই দেশের নাগরিকত্ব) স্বীকার করে না। আমেরিকা, কানাডা কিংবা ব্রিটেনের নাগরিকেরা অন্য দেশের নাগরিকত্ব পেতে পারেন। ভারতীয়দের অনেকেই কর্মসূত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। সে দেশের নাগরিক সুযোগ সুবিধা পেতে অনেকেই সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী, অন্য দেশের নাগরিকত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের নাগরিকত্ব হারাবেন সেই ব্যক্তি। সমাজমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী ভারতীয়দের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা স্বেচ্ছায় নিজেদের ভারতীয়ত্ব ত্যাগ করতে চান না। কিন্তু নিয়মের ফাঁসে তা করতে বাধ্য হন। সূত্র : আনন্দবাজার ডট কম
খুলনা গেজেট/এনএম
