হাদির ওপর পরিকল্পিত হামলা বিচ্ছিন্ন ঘটনা না হয়, বৃহৎ ষড়যন্ত্রের ছোট্ট একটি অংশমাত্র বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, ১৭ বছর আন্দোলনের পর কথা বলার স্বাধীনতা পেয়েছি। হাদি আমার সন্তানতুল্য। হামলার খবর শুনে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। আমি মনে করি, এ আঘাত হাদির ওপর নয়, বাংলাদেশ গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ওপর। তাই কালো শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
ৃ
তিনি অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে যারা আক্রমণাত্মক স্লোগান দিয়েছে, তারা বিশেষ একটি দলের নেতাকর্মী। তারা অনেক বেয়াদবি করেছে। তবে আমি নির্দেশনা দিলে আমার নেতাকর্মীরা তুলোধুনো করে দিতো। মব সৃষ্টিকারীরা চেয়েছিল—হাদি মারা যাক। আর আমরা তাকে বাঁচাতে চাই। তাই নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছি। আমরা চাই আসল ঘটনা প্রকাশ হোক। বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের মুখোশ উন্মোচন হোক।
মির্জা আব্বাস বলেন, হাদি সহযোগিতা চাইলেই আমি সহযোগিতা করতাম। আমরা চাই, সে আবারও নির্বাচনে ফিরে আসুক। সে আমার শত্রু নয়, প্রতিযোগী। আগে শত্রু ছিল একটি, আর এখন বহুমুখী শত্রুর কবলে বাংলাদেশ। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না ও বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সফু। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে পুনরায় নয়াপল্টনে গিয়ে শেষ হয়।
এর আগে, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর বক্সকালভার্ট এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে গুরুতর আহত ওসমান হাদিকে উদ্ধার করে বিকেল পৌনে ৩টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। ঢামেকের জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা শেষে রাত ৯টার দিকে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
খুলনা গেজেট/এএজে
