খুলনা মাদকের বিক্রি ও সেবন ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। অভ্যুত্থানের পর অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক বিক্রেতারা। মাদকের দখল নিয়ে একাধিক খুনোখুনির ঘটনাও ঘটেছে। তারপরও থেমে নেই, মাদক কেনা-বেচা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, “খুলনায় বিগত দিনে মাদকের ৯ জন পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। এটা এখন বেড়ে ১২ জন হয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে খুলনা মহানগর ও জেলার ৯ উপজেলার ৩৫ জন পাইকারি মাদক বিক্রেতা এই আত্মঘাতী পণ্য সরবরাহ করছে। অধিদপ্তরের হাতে তালিকা থাকলেও তাদের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারছে না তারা। যার কারণে মাদক বিক্রিও বন্ধ হচ্ছে না।”
জানা গেছে, খুলনার ওয়াসার পাম্প অপারেটর রিপনকে ৩ মাস আগে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। দুমাস আগে ফুলতলার যুগ্নিপাশায় ফেন্সিডিলসহ গ্রেপ্তার হয় এক পুলিশ সদস্য। সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক কর্মী প্রায়ই মাদকসহ গ্রেপ্তার হচ্ছে। তবে প্রকৃত গডফাদার একজনও গ্রেপ্তার হয়নি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ওই সূত্রের দাবি, গডফাদাররা অত্যন্ত উচুঁতলার।
অধিদপ্তর জানায়, মাদক খুলনায় পৌঁছাতে ব্যবহার করা হয় বহনকারীদের। যে কারণে গডফাদার ও লগ্নিকারীরা ধরা পড়ে না। অভ্যুত্থানের পর প্রশাসনের মনোবল ভেঙে পড়ায় এবং তাদের নজরদারি কম থাকায় মাদক কয়েকগুণ বেড়ে গেছে খুলনায়। বর্তমানে এক হাজার খুচরা বিক্রেতা পুরো জেলা জুড়ে মাদক বিক্রি করছে।
সূত্র জানায়, খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গেল ১০ মাসে ১ হাজার ৬১৭ টি অভিযান চালিয়েছে। এ অভিযানে ৬৫ কেজি গাজা, ১০ হাজার ৬৮৯ পিস ইয়াবাসহ, ১১২ বোতল ফেন্সিডিলসহ বিপুর পরিমাণ আর এস, চোলাই মদ ও ডিনেচার্ড স্পিরিট উদ্ধার করা হয়। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৮০ জনকে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে ৩৩৮ টি। মামলা হয়েছে ৩৭১টি।
খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক আহসানুর রহমান বলেন, “গডফাদার ও লগ্নিকারীদের গ্রেপ্তারে নতুন কৌশলে অভিযান সাজানো হচ্ছে।” বরাবরই এসব গডফাদার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অভিনব কৌশলে এসব উচুঁতলার শীর্ষ নেতাদের ওপর বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
মাদক বিক্রি ও সেবনের ১০ ভাগও নিয়ন্ত্রণে আসেনি দাবি করে তিনি বলেন, “জনবল সংকটে কাজের সমস্যা হচ্ছে, তবে অভিনব কৌশলে অতিদ্রুত ভালো খবর পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।”
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, “মাদকের কারণে খুলনার যুব সমাজ ধ্বংসের পথে। শহরে হত্যাকা-, গোলাগুলির অন্যতম কারণ এই মাদক। এ অবস্থায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে শুধু তালিকা করে বসে থাকলে হবে না। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণে সফল হলে পুরস্কার এবং ব্যর্থতার পরিচয় দিলে দপ্তরটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রথা চালু করতে হবে। তাহলে এসব প্রতিষ্ঠান সক্রিয় হবে। অন্যথায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সুফল দেশের মানুষ পাবে না।
খুলনা গজেট/এএজে

