সোমবার । ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ । ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

সংকটে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা

নিজস্ব প্রতি‌বেদক, বাগেরহাট

অবকাঠামো ও চিকিৎসা সংকটে বাগেরহাটের একমাত্র মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কাক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত দরিদ্র রোগীরা। পর্যাপ্ত নার্স, শিশু ও গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় নবজাতক ও প্রসূতি মায়েদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়।

বাগেরহাট শহরের আলিয়া মাদ্রাসা সড়কে ১৯৮১ সালে প্রসূতি মা ও নবজাতকদের সুচিকিৎসার জন্য মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার ৩৯ বছরেও জেলাবাসীকে কাক্ষিত সেবা দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই প্রত্যন্ত গ্রাম ও দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসে প্রসূতি মা ও শিশুরা। তবে চিকিৎসক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় শিশু ও প্রসূতি মায়েদের। দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা জানেন না চিকিৎসক আছে কিনা। তারপরও একমাত্র ভরসা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে যেতে হয় অন্য হাসপাতাল ও ক্লিনিকে।

সদর উপজেলার কাড়াপাড়া এলাকা থেকে রইসা বেগম নামের মধ্য বয়সি এক নারী শিশু সন্তানকে নিয়ে মা ও শিশু কেন্দ্র এসে ডাক্তারের দেখা না পেয়ে ফিরে যায়।

উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার নাজমা আক্তার জানান, একদিকে ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে আমরা যথাসাধ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছি। চিকিৎসক ও জনবল সংকট সমাধান হলে প্রয়োজনীয় সেবা পাবে বলে জানান তিনি।
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ২০ শয্যার হাসপাতালের জন্য মাত্র ৮টি পদ রয়েছে। পদগুলো হচ্ছে দুইজন চিকিৎসক (মেডিকেল অফিসার-ক্লিনিক এবং মেডিকেল অফিসার-এ্যানস্থেশিয়া), একজন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা, দুইজন সহকারী নার্সিং এ্যাটেন্ডেন্ট, একজন পিয়ন কাম চৌকিদার, একজন গাড়ি চালক, একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী। এসব পদের মধ্যে চিকিৎসক, ফিমেল মেডিকেল এ্যাটেনডেন্ট ও পরিকল্পনা পরিদর্শিকার পদগুলো শূন্য রয়েছে।

মেডিকেল অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডাঃ মাসুদ আল ইমরান জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় নবজাতক ও প্রসূতি মায়েদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বাগেরহাট পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ বশিরুল বসির খান জানান, সারাদেশেই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসক ও নার্স সংকট রয়েছে। বাগেরহাটে এর ব্যতিক্রম নয়। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো পূণঃনির্মাণ করার জন্য অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে সংস্কার করার জন্য একটি বরাদ্দ পাওয়া গেছে অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন