তিন বিপদে সুন্দরবনের হরিণ। কুমিরের কামড়, বাঘের থাবা, শিকারির ফাঁদের ভয়। নিরাপত্তা নেই জলে, স্থলে ও বনে। শ্যামনগর, কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ, রামপাল ও মোংলায় গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৫০, খাসির মাংস ৯শ’ টাকা দাম হলেও হরিণের মাংসের কেজি ৬শ’ টাকা। দাম কম, দুষপ্রাপ্য এবং বেকার জনগোষ্ঠীর একাংশ বনে শিকারের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় শিকারিদের পদচারণা বনের অভয়ারণ্যে, উপকরণ হিসেবে নাইলন সুতোর ফাঁদ। হরিণ শিকারের অপরাধে এবছরের প্রথম দশ মাসে ৪১টি মামলা হয়েছে। আসামি ১শ’ দুজন, গ্রেপ্তার হাতেনাতে ১৬ জন। পলাতক ৮৬ জন আসামিকে খুঁজছে পুলিশ। সুন্দরবনে ১লাখ ৩৬ হাজার ৬শ’ চারটি হরিণের আবাসস্থল। এ জরিপ ২০২৩ সালের।
সুন্দরবন সংশ্লিষ্ট পাঁচ উপজেলায় হরিণ শিকারিদের পদচারণা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে কয়রার আংটিহারা, জোড়শিং, ৪নং কয়রা, মহেশ্বরীপুর, পাইকগাছার গড়ইখালীতে শিকারিরা বংশ পরস্পরে পেশাদার। তাদের সাথে পারদর্শী দিনমজুররাও, দৈনিক এক হাজার টাকা পারিশ্রমিকের চুক্তিতে। অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময় তারা শিকারের জন্য বেছে নেয়। শিকার হলেই জোয়ার ভাটা উপেক্ষা করে ছুটে আসে লোকালয়ে, খদ্দেরের চাহিদা পূরণে। এ মাংসের জন্য একশ্রেণির খদ্দেরও রয়েছে। কোস্ট গার্ড, বনবিভাগ ও পুলিশ প্রতিমাসে গড়ে ৩০ কেজি মাংস উদ্ধার করছে। বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্টদের দায়ের করা মামলার পলাতক আসামিদের পুলিশ খুঁজছে।
সুন্দরবন (পশ্চিম) বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান হরিণ সংরক্ষণে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, “স্মার্ট পেট্রোলিং টিম গঠন হয়েছে। অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় তারা বনে অবস্থান করে। হরিণ পাচার ও শিকার প্রতিরোধে ডোন ও বন সংলগ্ন এলাকায় উঠান বৈঠক হচ্ছে।”
বন বিভাগের নিযুক্ত আইন কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান বলেছেন, “২০২২ সাল থেকে বাগেরহাট ও খুলনার ১৫০ বন মামলা বিচারাধীন। হাতে নাতে ধরা পড়া ৯০ শতাংশ আসামিদের সাজা হচ্ছে। পালাতক আসামিদের মধ্যে ৩০ শতাংশের সাজা হয়েছে। মামলার ধরণগুলো হচ্ছে হরিণ শিকার ও কীটনাশক দিয়ে মাছ ধরা।”
উল্লেখ্য, সাজাপ্রাপ্ত ও পেশাদার শিকারিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছে কয়রার মহারাজপুরের দিদারুল ইসলাম, আংটিহারার মিজানুর রহমান গাজী, দাকোপের বানিশান্তার ওমর আলী, কালাবগীর শফিকুল বৈদ্য, ইয়াসিন গাজী ও রামপালের ফরিদ হাওলাদার।
খুলনা গেজেট/এনএম

