২০১৮ সালে খুলনার সেন্ট জোসেফ’স স্কুলে ক্লাস নাইনে পড়ার সময় কাঁচা হাতে গান রচনার প্রয়াস নেওয়ার মধ্য দিয়ে আমি প্রথমবারের মতো লেখালেখিতে হাত দিই। কিন্তু পারিপার্শ্বিকতাসহ নানা কারণে সেখানে থিতু হতে না পেরে নিজেকে ডাইভার্ট করি কবিতার অঙ্গণে।
কয়েক বছরের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি কবিতা লিখেছিলাম নিজের এক ব্যক্তিগত ডায়েরিতে। যার কয়েকটি ২০২০ সালের দিকে সাহিত্যানুরাগীদের একটি ক্ষুদ্র অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করেছিলাম তখন। কয়েকটি ই-ম্যাগাজিনও বের করেছিল প্ল্যাটফর্মটি। আমার কয়েকটি আনাড়ি কবিতা আর ছোট ছোট দু-একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল তাতে।
কোনো গণমাধ্যমে লেখা প্রকাশের বিষয় তখনও মাথায় আসেনি আমার। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার যুদ্ধে শামিল থাকা অবস্থায় আব্বার সঙ্গে গাজী আলাউদ্দিন আহমেদ আঙ্কেলের পরিচয়ের সুবাদে প্রথমবারের মতো খুলনাভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম খুলনা গেজেট- এ কবিতা প্রকাশের বিষয়ে কৌতূহলী হয়ে উঠি। আলাউদ্দিন আঙ্কেল সরাসরি আমাকে সংবাদমাধ্যমটির মেইলে লেখা পাঠাতে বলেন এবং আমি লেখা পাঠাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে আসার পরের দিন দেখি আমার কবিতা ‘প্রক্ষালিত প্রতিবেদন’ প্রকাশিত হয়েছে খুলনা গেজেটের সাহিত্য পাতায়। সেটা ছিল এক স্মৃতিময় মুহূর্ত!
এরপর সময়ের পরিক্রমায় আমি ভর্তি হই বেরোবির সাংবাদিকতা বিভাগে। বোঁদলেয়ার, আল মাহমুদের কাব্য পড়ে কবিতাকে ‘ধ্যান-জ্ঞান’ মনে করা আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষের কিছু কবিতা প্রকাশ করতে থাকে খুলনা গেজেটও। ২০২৩ সালের শেষ দিকে রংপুরে চলে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু বড়ভাই, বন্ধু ও সহপাঠী আমাকে কবিতার বাইরে লেখালেখি বিস্তারে অনুপ্রাণিত করতে শুরু করেন। ফলে সেই বছরের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রথমবারের মতো আমি কলাম লেখায় হাত দিতে চেষ্টা করি কৌতূহলের বশবর্তী হয়ে। লিখে ফেলি ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস: এক সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত’ এবং ‘বিজয় দিবস এবং কিছু পূর্বাপর ভাবনা’ শিরোনামের দুটো কলাম।
লেখা শেষ করেই কলামদ্বয় আমি প্রথমে প্রেরণ করি খুলনা গেজেটের মেইলে। পরে পাঠাই কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায়। প্রথমবারের মতো কলাম লেখায় আমি সন্দিহান ছিলাম সেগুলো প্রকাশিত হবে কি না। তবে আমাকে অবাক করে দিয়ে সবখানেই তা প্রকাশিত হয়। সবার আগে প্রকাশ করে খুলনা গেজেট তাদের ‘মুক্ত ভাবনা’ শাখায়। বিহ্বলিত হয়ে আমি সেগুলো শেয়ার করি আমার সোশ্যাল হ্যান্ডেলগুলোতে। কারণ নিজের প্রথম লেখা প্রকাশিত হওয়ার অনুভূতি কী তা নবীন লেখক হওয়া ছাড়া ঠাহর করা অসম্ভব!
সে দিক থেকে তাই বলতে গেলে, খুলনা গেজেটে কবিতা বা কলাম প্রকাশিত হওয়ার মধ্য দিয়েই লেখালেখিতে আমার অভিষেক ঘটেছে মোটামুটি পাকাপোক্তভাবে। যার ফলে আমি নতুন করে সৃজনের উন্মাদনা দ্বারা তাড়িত হয়েছি সর্বদা। আমার বিশ্বাস, আমার মতো আরও অনেকেই খুলনা গেজেটের নানা উদ্যোগ দ্বারা এ রকম ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন বিভিন্ন দিক হতে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই খুলনা গেজেট বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে সংবাদ উপস্থাপন করে আসছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। পাশাপাশি, আমার মতো তরুণ লেখকদের লেখালেখি করার একটি উন্মুক্ত মঞ্চে পরিণত হয়েছে গণমাধ্যমটি। ফলে খুলনা ও এর আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে সংবাদমাধ্যমটির এক সুগঠিত পাঠকশ্রেণি। এরই ধারাবাহিকতায় পাঠকদের আস্থার ভার কাঁধে নিয়ে সম্প্রতি মুদ্রিত সংবাদপত্র হিসেবে খুলনাঞ্চলে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে খুলনা গেজেট।
এমতাবস্থায়, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখা এবং তরুণ সাংবাদিক, লেখক ও একইসঙ্গে পাঠকদের অন্তর্ভুক্তকরণের বিষয় নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে খুলনা গেজেট দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সচেতন নাগরিক সমাজ বিনির্মাণের এক অমায়িক সোপানে পরিণত হবে এটাই প্রত্যাশা!
লেখক : শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
খুলনা গেজেট/এএজে