Edit Content
খুলনা, বাংলাদেশ
শনিবার । ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ । ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২
Edit Content

দৈনিক খুলনা গেজেট: বহু প্রত্যাশা দুই বঙ্গের মানুষের কাছে

মোহাম্মদ সাদউদ্দিন

ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা একদিন তৈরি করে মহাসাগর। এক ফোটা বৃষ্টিকে যারা দুর্বল ভাবে তাদের মতো বোকা আর কেউ নেই। কেননা ফোটা ফোটা বৃষ্টি দারুণ বলবান। ‘খুলনা গেজেট’ আজ ৫ বছর অতিক্রম করে ৬ বছরে পদার্পণ করেছে। বর্তমান দিনে কোনো মিডিয়া শুরু করে তার পরিণতি হয় খুব ট্রাজিক। অচিরেই শেষ হয়ে যায়। সেই খুলনা গেজেট এই ৬ বছরে পদার্পণ করার মুখেই তা ‘দৈনিক খুলনা গেজেট’ পত্রিকায় পরিণত হতে চলেছে। এর চেয়ে ভালো কিছু হতে পারে না।

সংবাদপত্রের বা মিডিয়া জগতের মধ্যে টিভি চ্যানেলগুলো ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া হিসেবে নিজেদের মেলে ধরেছে। কিন্তু অনলাইন পোর্টালগুলো তার চেয়ে আরো দ্রুততার সঙ্গে খবরকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। বিশেষ করে একেবারে থানা স্তর বা লোকাল স্তরের খবরগুলো অতি গুরুত্ব সহকারে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। বিশ্বখবর, জাতীয় খবরের, পাশাপাশি বাংলাদেশের ৮ বিভাগীয় শহর, ৬৪ জেলার লোকাল স্তরের খবর, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের খবর, পূর্বভারতের খবর, পশ্চিমবঙ্গের খবর এই ‘খুলনা গেজেট পোর্টালে যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্ব পেয়েছে ভারতের তথা পশ্চিমবঙ্গে ওয়াকফ সংশোধনী আইন নিয়ে খবর। পশ্চিমবঙ্গ সরকারি মেশিনারি দ্বারা যেভাবে ওয়াকফ সম্পত্তি বেদখল-জবরদখল হয়েছে তার খবরগুলি খুলনা গেজেট পোর্টালে দারুণভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। দুই বাংলার সুন্দরবন এলাকার নদীভাঙন বা নদী বাঁধ মেরামতির নানান সমস্যা খুলনা গেজেটে গুরুত্ব পেয়েছে। বেশি গুরুত্ব পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গে পিছিয়ে পড়া জেলা হিসেবে একদা গৌতমড়বঙ্গে রাজধানী মালদহ, একদা নবাবী আমলে বঙ্গ-বিহার-উড়িষ্যার রাজধানী মুর্শিদাবাদের খবরগুলি। নবাবী স্থাপত্যগুলির কী পরিস্থিতি তার খবর বেশি বেশি করে এনেছে খুলনা গেজেট।

পশ্চিমবঙ্গের বঙ্গভাষী শ্রমিকদেও যেভাবে নির্যাতন ও হেনস্থার শিকার তা খুলনা গেজেটে চিত্রিত হয়েছে। খুলনা নিউজ পোর্টাল হিসেবে খুলনা গেজেট দুই বঙ্গের যোগসূত্রকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে, আরো শক্তিশালী করেছে। নানান প্রতিকূল ও চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ‘খুলনা গেজেট’ আজ ‘দৈনিক খুলনা গেজেট’ পত্রিকাতে পরিণত হতে চলেছে। বলা যেতে পারে এটা আরো একটি মাইলস্টোন। দীর্ঘজীবী হোক খুলনা গেজেট দৈনিক পত্রিকা। বুকভরা আশীর্বাদ রইল। রইল অনেক অনেক দোয়া ও শুকরিয়া। খুলনা গেজেট পত্রিকা ভারত-বাংলাদেশ, দুই বঙ্গসহ বিশ্ব বাঙালি পাঠকের কাছে আরো বেশি সমাদৃত হবে। প্রত্যাশা পূরণে এগিয়ে চলুক।

”নিউজ পোর্টাল হিসেবে খুলনা গেজেট দুই বঙ্গের যোগসূত্রকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে, আরো শক্তিশালী করেছে। নানান প্রতিকূল ও চড়াই- উৎরাই পেরিয়ে ‘খুলনা গেজেট’ আজ দৈনিক পত্রিকাতে পরিণত হতে চলেছে। বলা যেতে পারে এটা আরো একটি মাইলস্টোন। খুলনা গেজেট পত্রিকা ভারত-বাংলাদেশ, দুই বঙ্গসহ সারা বিশ্বের বাঙালি পাঠকের কাছে আরো বেশি সমাদৃত হবে।”

সাংবাদিকতা জীবনের চার দশকের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে কত মিডিয়া এসেছে আর গেছে। কত ম্যাগাজিন মাঝমাঠেই মারা গেছে। এগুলো অনেক সময় আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের জন্যই হয়েছে। নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা বা ম্যানেজমেন্ট ও পরিকাঠামোগত ভিত্তি না থকালে এই ঘটনাগুলিই ঘটে। সেদিক থেকে খুলনা গেজেট তার ক্ষুদ্র সামর্থ নিয়ে একটা নির্দিষ্ট চিন্তাধারা নিয়ে এগিয়েছে। ফলে ছেদ বা বন্ধ হয়ে যায়নি। এর কারণ হলো, ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের মনোবলের ফলেই সে এগিয়ে গেছে। খুলনা গেজেট কারুর তেলবাজি করেনি। বিশেষ কেও কোনো রাজনৈতিক দলের। উপমহাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে সে যেমন তুলে ধরেছে, তেমনি সত্যকে সত্য বলেছে।

২০২০ সালের এক মহামারি করোনা গোটা পৃথিবীকে আতঙ্কিত কেও তোলে। সেই সময় অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সে খবরগুলি করেছে কাউকে পরোয়া না করেই। আবার ভারতের মতো বিশাল দেশে জনবিরোধী কৃষি আইন তথা কর্পোরেট স্বার্থবাহী কৃষি আইনের বিরুদ্ধে যে বিশাল আন্দোলন রাজধানী দিল্লির চারিদিক ঘিেও ফেলেছিল কৃষক-শ্রমিক খেতমজুর তাতে উপায় না পেয়ে মোদী সরকার শেষ পর্যন্ত কৃষি আইন বাতিল করতে বাধ্য হয়। একবছর ধরে লাগাতার কৃষক-শ্রমিক খেতমজুরদের এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন লাগাতার স্বাধীন ভারতে হয়নি। ‘খুলনা গেজেট’ সেই আন্দোলন ধীরে ধীরে অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে ধারাবাহিক ছেপেছিল। মোটকথা যে পথ ধরে খুলনা গেজেট অগ্রসর হচ্ছে তাতে দৈনিক পত্রিকা তার সাফল্যের মুখ দেখবেই দেখবে।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সংবাদপত্র হল চতুর্থ স্তম্ভ। তাই বাংলাদেশে যে একটা গণঅভ্যুত্থান হতে চলেছে, তাও আঁচ করতে পেরেছিল খুলনা গেজেট। খুলনা গেজেটই প্রথম স্পষ্ট করেছিল যে, সীমা লঙ্ঘনকারীর পতন হবেই। তা আমরা বাস্তবেও দেখলাম।

ভারতের এক বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশে বারবার সেখানে সংবিধানকে মানা হয় না। এন আর সি অথবা এস আই আরের নামে নাগরিককে নাগরিকত্বহীন অথবা ভোটারকে ভোটহীন করা হচ্ছে। আর তার বিরুদ্ধেও খুলনা গেজেট চুপ থাকেনি। খুলনা গেজেট পোর্টাল উপমহাদেশের পাঠকের কাজে একটা নির্ভরযোগ্য পোর্টাল। তারপেও সেটা রেখেই খুলনা গেজেট দৈনিক পত্রিকা আরো একটা সংযোজন। প্রিন্ট মিডিয়া খবরের যে একটা অপরিহার্য দিক এই উপলব্ধিই খুলনা গেজেটকে পাঠকের কাছে নতুন আঙ্গিকে হাজির হবে। প্রতিযোগিতার বাজারে খুলনা গেজেট দৈনিক পত্রিকা আরো এগিয়ে যাবে, এটা আমরা আশা করছি।

এই দৈনিকের দীর্ঘ আয়ু কামনা করি। কথায় বলে, সেই বড় বরফ বিক্রেতা যে বরফের দেশে বরফ বিক্রি করতে পারে। খুলনা গেজেট দৈনিক পত্রিকা আমাদেও সেই আশা পূরণ করবে। কেননা আমরা আশাবাদী। তাই প্রতিযোগিতার বাজারে খুলনা গেজেট দৈনিক পত্রিকাটিও এগিয়ে যাবে। খবরের দিশা দেখাবে।

লেখক : কলকাতার সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট, বহুগ্রন্থ- প্রণেতা ও কবি।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন