তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেখানে রয়েছে অপারেশন থিয়েটার, এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ ও আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি। কিন্তু শুধুমাত্র সার্জারি চিকিৎসক না থাকায় বন্ধ রয়েছে অপারেশন কার্যক্রম।
এতে দুর্ভোগে পড়ছেন উপজেলার প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ। চিকিৎসাসেবা নিতে প্রতিদিন অনেক রোগীকেই যেতে হচ্ছে ২৩ কিলোমিটার দুরে খুলনায়, অতিরিক্ত সময় ও অর্থ খরচ করে। এক সময়ের ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল সংকট কাটেনি। ১৪৪টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৭৩টি এখন শূন্য। চিকিৎসক পদের সংকট সবচেয়ে বেশি ২১টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন।
চিকিৎসাসেবা পেতে আসা রোগীরা জানান, সামান্য অপারেশন বা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের খুলনা মহানগরীতে যেতে হয়। এতে করে সময়, শ্রম ও খরচ তিনটিই বেড়ে যায়।
রোগী জাহিদুল ইসলাম বলেন,“এখানে ডাক্তার কম, কিন্তু যারা আছেন তারা আন্তরিক। তবে অপারেশন হয় না, কিছু কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও এখানে হয় না। সেজন্য আমাদের খুলনায় যেতে হয়।”
দুই যুগ ধরে এক্স-রে মেশিনটি বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীর অভাবও তীব্র। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা বেতন না পাওয়ায় অনেকেই দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেন না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নুরুন্নবী তুহিন বলেন, অল্প সংখ্যক জনবল নিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন-চার’শ রোগীর সেবা দিতে হয়। অপারেশন বিভাগে কেবল সার্জন পদটি শূন্য থাকায় অপারেশন কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় নিয়োগ পেলে দ্রুতই সেবা সম্প্রসারণ সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, সিভিল সার্জনের সাথে যোগাযোগ হয়েছে। আমরা আশাবাদী, অল্প সময়ের মধ্যেই অপারেশন কার্যক্রম চালু করতে পারবো। তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান আরও বাড়বে।
খুলনা গেজেট/এনএম