আলহামদুলিল্লাহ। হাজারও শুকরিয়া মহান আল্লাহ পাকের দরবারে। তিনি ‘দৈনিক খুলনা গেজেট’ নামক পত্রিকাটি প্রকাশনার সুযোগ দিয়েছেন। এজন্য অনেক চড়াই উৎরাই পেরুতে হয়েছে। শত বাঁধা অতিক্রম করে দৈনিকটি পাঠকের হাতে তুলে দিতে পেরেছি। খুলনার গণমাধ্যমে এটি নতুন সংযোজন। নতুনত্বের আমেজ। এ পত্রিকার সাথে সংশ্লিষ্ট, বিজ্ঞাপনদাতা, গ্রাহক ও সংবাদপত্র বিক্রেতাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
আজকের এই শুভ দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মহান শহীদদের। এ আন্দোলনে আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করি। বাঙালি জাতির জন্য গর্বের ১৮ কোটি মানুষের ঘাড়ে চেপে বসা স্বৈরশাসনের অবসান হয়েছে। এজন্য দেশের গণতন্ত্রমনা সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। নতুন যাত্রায় আমাদের কাছে গণমানুষের প্রত্যাশা অনেক। দেশে গণতন্ত্রে উত্তরণের আকাঙ্খা নিয়ে যখনই রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়েছে, তখনই জনমনে গণমাধ্যমের প্রতি প্রত্যাশা বেড়েছে।
সবার মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে স্বাধীন দেশে স্বাধীন সংবাদপত্র প্রকাশিত হবে। আমরা পাঠকের কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমাদের প্রিয় পত্রিকাটি হবে সৃজনশীল। দল মতের উর্ধ্বে থেকে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর স্বার্থে আমরা কথা বলব। সত্য প্রকাশে থাকব আপোষহীন। ন্যায় ও নীতির পক্ষে হবে আমাদের পথচলা। বিশেষ করে দক্ষিণ জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্খার কথা বলতে আমরা পিছপা হব না। বাঁধা আমরা অতিক্রম করবই। দক্ষিণ জনপদের মানুষের দাবি বন্ধ কল-কারখানা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ, মাদকমুক্ত সমাজ, জলবদ্ধতা দুরীকরণে সংবাদ প্রকাশে আমরা সচেষ্ট থাকব। অনলাইনের মাধ্যমে আমরা যে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পেরেছি তার যথাযথ মর্যাদা দিতে সক্ষম হব। সততা, সাহসিকতা ও একশ’ ভাগ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সকল মহলের সহযোগিতা আমাদের প্রত্যাশা।
নতুন দৈনিকে আমরা নতুনত্ব এনেছি। পাঠকের আকর্ষণ বাড়ানোর লক্ষ্যে চার পৃষ্ঠাই রঙিন। পত্রিকায় থাকবে পাঠকের চাহিদা পূরণের প্রতিবেদন, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, সম্পাদকীয় ইত্যাদি। গতানুগতিক পত্রিকার বেড়াজাল থেকে মুক্ত হয়ে ব্যতিক্রমধর্মী ও পাঠকপ্রিয় পত্রিকা হবে বলে আমাদের বিশ^াস। আপনাদের সবার জীবন সুন্দর হোক। দেশের রাজনীতিতে সুবাতাস বইতে থাকুক। ৬৯, ৭১, ৯০, সর্বোপরি ২০২৪ গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।
খুলনা গেজেট/এনএম