Edit Content
খুলনা, বাংলাদেশ
শনিবার । ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ । ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২
Edit Content

গাজার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক দক্ষিণ সুদানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা ইসরাইলের

আন্তর্জা‌তিক ডেস্ক

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ফিলিস্তিনিদের আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদানে স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা করছে ইসরায়েল ও দক্ষিণ সুদান- এমন দাবি করেছে রয়টার্সকে দেওয়া তিনটি কূটনৈতিক সূত্র। তবে বিষয়টি ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব এবং দক্ষিণ সুদান উভয়ই প্রত্যাখ্যান করেছে।

সূত্রগুলোর তথ্যমতে, এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়নি, তবে ইসরাইল ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে বিষয়টি আলোচনায় আছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই বছরের বিধ্বস্ত গাজা থেকে মানুষকে এমন এক দেশে পাঠানো হবে, যেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জাতিগত সহিংসতা বহু বছর ধরেই চলমান।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্রও সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে বলেছেন, আমরা ব্যক্তিগত কূটনৈতিক আলাপ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলি না।

সম্প্রতি নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, গাজায় সামরিক নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘায়িত করার ইচ্ছা রয়েছে তার। তিনি একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, ফিলিস্তিনিদের উচিত স্বেচ্ছায় এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া। তবে আরব বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক মহল এ ধরনের ধারণা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফিলিস্তিনিরা একে নতুন “নাকবা” হিসেবে দেখছে- ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে যেমন লাখো মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল।

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, গত জুলাই মাসে দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্ডে সেমায়া কুম্বার ইসরাইল সফরের সময় বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। যদিও দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এ ধরনের খবরকে “ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

ফিলিস্তিনি লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) নির্বাহী কমিটির সদস্য ওয়াসেল আবু ইউসুফ বলেন, “আমাদের জনগণকে দক্ষিণ সুদান বা অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার যে কোনো পরিকল্পনা আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি।” একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয়ও। তবে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এদিকে ইসরাইলের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যারন হাসকেল দাবি করেছেন, আলোচনার মূল বিষয় ছিল কূটনৈতিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সংগঠনে সহযোগিতা এবং দক্ষিণ সুদানের মানবিক সংকট- গাজাবাসীকে সরিয়ে নেওয়া নয়।

সব মিলিয়ে, গাজার মানুষদের দক্ষিণ সুদানে পুনর্বাসনের ধারণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন এক বিতর্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: রয়টার্স

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন