Edit Content
খুলনা, বাংলাদেশ
শনিবার । ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ । ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২
Edit Content

বেলডাঙ্গার যুবক নাজিমুদ্দিন শেখ খুনের ঘটনায় চারজনের যাবজ্জীবন

মোহাম্মদ সাদউদ্দিন, কলকাতা

মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙ্গা এলাকার যুবক নাজিমুদ্দিনকে খুনের মামলায় বুধবার (১৩ আগস্ট)কৃষ্ণনগর এডিজে থার্ড কোর্টের বিচারক বসন্ত শর্মা চার অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন। পাশাপাশি ধৃতদের কুড়ি হাজার টাকা জরিমানা ও জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে সরকারি আইনজীবী অর্ণব গাঙ্গুলী জানান, ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর বেলডাঙ্গার বেগুনবাড়ি এলাকার বাসিন্দা নাজিমুদ্দিন শেখ ব্যাঙ্গালোর থেকে ফেরার পথে শিয়ালদা থেকে রাত ৮:২০ মিনিটের মিমু লোকালে বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। ট্রেনের মধ্যে তারা এক ক্যাপসিকাম বিক্রেতা মহিলাকে কান্নাকাটি করতে দেখে কথা বলে জানতে পারেন, ব্যবসার জন্য বহরমপুর থেকে শিয়ালদা গিয়ে ক্যাপসিকাম কিনে ফেরার পথে চুরি হয়ে গেছে তার সমস্ত মাল। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া মহিলাকে নাজিমুদ্দিন ও তার বন্ধুরা অর্থ দিয়ে সাহায্য করেন।

সেই সময় একই ট্রেনে ফিরছিলেন ঘোষ সম্প্রদায়ের কয়েকজন ছানা বিক্রেতা। অভিযোগ, তাদের ব্যাগ থেকে চুরি হওয়া ক্যাপসিকাম উদ্ধার করে মহিলার হাতে তুলে দেন নাজিমুদ্দিন ও তার বন্ধুরা। এই ঘটনায় ছানা বিক্রেতাদের সঙ্গে বাদানুবাদ শুরু হয় এবং নদীয়ার দেবগ্রাম (পলাশীর আগে)স্টেশনে পৌঁছে অভিযুক্তরা নাজিমুদ্দিন ও তার বন্ধুদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।

পরে দেবগ্রামে ট্রেন থামলে পাঁচজন ছানা বিক্রেতা নাজিমুদ্দিন ও তার বন্ধুদের ট্রেন থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে। বন্ধুরা কোনওভাবে পালিয়ে গেলেও নাজিমুদ্দিনকে মারধরের পর চলন্ত ট্রেনের দুই বগির মাঝের ফাঁকা জায়গায় ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যার ফলে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর নাজিমুদ্দিনের দাদা আব্দুর রহিম কৃষ্ণনগর জিআরপিতে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালীন এক অভিযুক্ত বাপ্পাই ঘোষের মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দীর্ঘ শুনানির পর বাকি চার অভিযুক্ত নরেন ঘোষ, বীরু ঘোষ, সুদীপ ঘোষ ও বাবাই ঘোষ দোষী প্রমাণিত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানার সাজা পেলো।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন