৫৪ বছর পরে চেয়ারম্যানের উদ্যোগে কপোতাক্ষ নদের উপর নির্মাণ হচ্ছে কাঠের সাঁকো

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা

স্বাধীনতার প্রায় ৫৪ বছর পার হলেও সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়ন ও যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের ২০/২৫ গ্রামের মানুষের পারাপারের জন্য কপোতাক্ষ নদের উপর একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবী ছিল দীর্ঘদিনের। উক্ত দাবী উপেক্ষিত হওয়ায় এলাকাবাসীর দুঃখ লাঘবের জন্য এগিয়ে এলেন তালা উপজেলার ১নং ধানদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। মধুমেলাকে কেন্দ্র করে সাধারণ লোকজনের পারাপারের জন্য তিনি নিজ উদ্যোগে প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ করে কপোতক্ষ নদের উপর একটি কাঠের সাঁকো তৈরি করে দিচ্ছেন। যা ইতিমধ্যেই এলাকাবাসীর নজর কেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এরআগে এখানে মানুষ নৗকা দিয়ে কপোতাক্ষ নদ পারাপার হতো। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নদের উপর একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। সেটা নদের শ্যাওলর ও জোয়ারের পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুনরায় নৌকায় যাতায়াত শুরু করে ওই দুই ইউনিয়নের মানুষ। এজন্য ওই এলাকার তিন শতাধিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য যাতায়াত ও মালামাল আনা নেওয়ায় ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। এদিকে প্রতিবছর মধুমেলা আরম্ভ হলে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের ও নদী পারাপারের চাপ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। নির্মাণ কাজ শেষ হলে দুই উপজেলার ২০/২৫ গ্রামের ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ এই সাঁকোর উপর দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে পারবে।

সাঁকোটি নির্মাণে দেখভালের দায়িত্বে থাকা সুমন হোসেন বলেন, সামনে মধু মেলার কারণে দ্রুত সাঁকোটির কাজ শেষ করতে হবে এজন্য জাহাঙ্গীর ভাইয়ের তরফ থেকে আমি সব সময় সাঁকোটির নির্মাণ কাজ দেখভাল করছি। আশা রাখি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সাঁকোটির কাজ শেষ করতে পারবো।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মইনুল আমিন মিঠু বলেন, আগামী ২৪ জানুয়ারি থেকে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মদিন উপলক্ষে সাত দিনের জন্য অনুষ্ঠিত হবে মর্ধমেলা অনুষ্ঠিত হবে। এই মেলাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা থেকে সড়ক পথে দ্রুত মধুমেলায় যাওয়ার জন্য এ সাঁকোর উপর দিয়ে প্রতিদিন শার্শা, সেনেরগাতি, কৃষ্ণনগর, শানতলা, ধানদিয়া, সারুলিয়া, ঝড়গাছা, দৌলতপুর, নগরঘাটা, পাটকেলঘাটা, শাকদাহ, ভৈরবনগর, ত্রিশমাইল, সৈয়দপুর, পাঁচপাড়া, বাটরা, গড়েরডাঙ্গা, খোরদো ও কোমোরপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৩০ থেকে ৪০হাজার মানুষ যাতায়াত করবে। পুরানো সাঁকোটি ভেঙ্গে সেখানে নতুন একটি সাঁকো তৈরি করে দেওয়ায় স্থানীয় লোকজন ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীরকে সাধুবাদ জানানা।

তিনি আরও বলেন, কেশবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাগরদাঁড়িতে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা শুরু হবে আগামী ২৪ জানুয়ারি। যে কারণে সাঁকোটির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলায় তারা খুশি।

এ ব্যাপারে তালার ধানদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি পরপর তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি জনগণের ভালোবাসার কারণে। শুধু সাঁকো না মানুষের কষ্ট দূর করার জন্য এরকম কাজ আমি অনেক করে থাকি। সম্প্রতি নিজে উদ্যোগে ও গ্রামবাসীর সহযোগিতায় প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে আরো একটি রাস্তা সংস্কার করে দিয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমি নির্বাচিত হয়েছি শুধুমাত্র সৎ ও নিষ্ঠার সাথে আমি আমার দায়িত্ব পালন করি বলে। এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করলে তাদের ভোগান্তি আর থাকবে না।

এ ব্যাপারে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, মেলার পরে এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য দ্রুত উদ্যোগ নেয়া হবে।

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল বলেন, এলাকাবাসীর কথা মাথায় রেখে মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের উপরে যাতে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা যায় সে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন