মেয়েকে নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার কাক ডাকা ভোরে কাজের জন্য গ্রাম থেকে ঝিনাইদহ শহরের বিসিক শিল্প নগরীতে আসছিলেন রাসুলা বেগম (৬০)। তাদের সঙ্গে ছিলেন এলাকার আরও ছয় নারী শ্রমিক। কালীগঞ্জ শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে পৌঁছালে তাদের বহনকারী লেগুনাটি দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে ধাক্কা দেয়।
এতে ওই লেগুনায় থাকা রাসুলা বেগমসহ সাতজন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তবে নিহতের বড় মেয়ে রোজিনা বেগম হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত জামেনা, নুর নাহার, জাহিদা, ছবিরন ও রেখা বেগম এবং অপর একজনকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের বাড়িও একই গ্রামে।
মৃত রাসুলা বেগম কালীগঞ্জ উপজেলার বড়-সিমলা গ্রামের কওসার খন্দকারের স্ত্রী। নিহত ও আহতরা জেলা শহরের বিসিক শিল্প নগরী এলাকার জামান জুট মিলে সুতা তৈরির কাজ করতো।
নিহতের ছোট মেয়ে পপি বেগম জানান, ভোরে কালীগঞ্জ মেইন বাসস্ট্যান্ড থেকে লেগুনাতে করে মা, বোনসহ ৮ জন ঝিনাইদহ যাচ্ছিল। কিছুদূর যেতেই তারা দুর্ঘটনার স্বীকার হয়। এতে আমার মা মারা গেছেন, আর বোন আহত। বাবা নেই, মাও চলে গেলে। আমরা এতিম হয়ে গেলাম, দেখার মত কোন অভিভাবক থাকল না।
কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শেখ মামুনুর রশিদ জানান, লেগুনাটি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ছোয়া ইসরাইল জানান, নিহত রাসুলা বেগমের মাথায় আঘাত ছিল। কান দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
খুলনা গেজেট/ এএজে