বেতন, হাজিরা বোনাস, ভাতা বৃদ্ধিসহ কয়েকটি দাবিতে পাঁচ দিন আগে সাভার ও গাজীপুরে দেখা দেয় শ্রমিক অসন্তোষ। নানা উদ্যোগে গাজীপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও সাভারের আশুলিয়ায় এখনও অস্থিরতা বিরাজ করছে। শিল্পাঞ্চলে হঠাৎ এমন পরিস্থিতির নেপথ্যে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, তা খুঁজে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন পোশাক কারখানার মালিকরা।
শিল্প এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে গতকাল শুক্রবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতারা। বৈঠকে পোশাক খাতে অস্থিরতা নিরসনে একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল মধ্যরাতে সাভার ও গাজীপুরে শুরু হয়েছে যৌথ বাহিনীর ‘ব্লক রেইড’। প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, শ্রমিক বিক্ষোভের নামে আর নৈরাজ্য করতে দেওয়া হবে না। ভাঙচুর, নাশকতায় জড়ালে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করবে পুলিশ। এরই মধ্যে সাভারে নেওয়া হয়েছে বাড়তি পুলিশ ফোর্স।
আজ শনিবার কারখানা খোলার পর যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে যৌথ বাহিনী।
আটক ১৪ জন
সাভারে অভিযানে গতকাল পর্যন্ত অন্তত ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে যৌথ বাহিনী তাদের আইনের আওতায় নেয়। এ ছাড়া গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে অস্থিরতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। কোনাবাড়ী বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক হন তিনি।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) আহম্মদ মুঈদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আশুলিয়ায় বিভিন্ন কারখানায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। পোশাক কারখানায় হামলা-ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনকে আশুলিয়া থেকে এবং তিনজনকে সাভার থেকে আটক করা হয়। আটকদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও যাচাই-বাছাই চলছে।’
কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, ‘বেশ কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের শিল্প এলাকা, টঙ্গী ও কোনাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় পোশাক তৈরি কারখানায় বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কোনাবাড়ী বিসিক শিল্পনগরী এলাকার নিরাপত্তাকর্মী মনিরুজ্জামানকে আটক করা হয়েছে।’