সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সরকারি খালে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে চার ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষে ছোট দুই ভাইয়ের চুরিকাঘাত ও মারপিটে মেঝো ভাই নিহত ও বড় ভাই গুরুতর আহত হয়েছে। শনিবার (৫ এপ্রিল) সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বোয়লিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হতাহতের এ ঘটনায় পুলিশ ছোট দুই ভাই ও তাদের এক ভাইয়ের স্ত্রীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার।
নিহতের নাম মোশারফ হোসেন সরদার (৪৮)। তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বোয়লিয়া গ্রামের মৃত ফজর আলী সরদারের ছেলে। গুরুতর আহত বড় ভাইয়ের নাম মো. আবুল হোসেন (৫৫)। তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের মৃত ফজর আলী সরদারের ছেলে ও নিহতের আপন দুই ভাই মো. আশরাফ হোসেন, মো. সোহরাব হোসেন এবং সোহরাব হোসেনের স্ত্রী মোছা. সায়মা খাতুন (২৫)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বোয়ালিয়া গ্রামে বাড়ির একটি সরকারি খালে মাছ ধরতে যায় মোশারফ হোসেন। এসময় তার ছোট দুই ভাই আশরাফ হোসেন ও সোহরাব হোসেন তাকে বাধা দেয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা তিন ভাই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় আশরাফ তার মেঝ ভাই মোশারফ হোসেনকে মারপিটের একপর্যায় ছুরিকাঘাত করে। বিষয়টি তাদের বড় ভাই আবুল হোসেন জানতে পেরে মোশারফকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে পিছন দিক থেকে তার পিঠে কুড়ালের কোপ মারে ছোট ভাই সোহরাব। এ ঘটনায় গুরুতর আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ (সামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে মোশারফ হোসেন মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় আবুল হোসেনকে সামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে খবর পেয়ে কলারোয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছোট ভাই আশরাফ হোসেন, সোহরাব হোসেন এবং সোহরাবের স্ত্রী সায়মা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ নিহতের মরদহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সামসুল আরেফীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বোয়ালীয়া গ্রামের খালে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে চার ভাইয়ের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে এক ভাই নিহত ও অপর এক ভাই গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ঘাতক ছোট দুই ভাইসহ তাদের একজনের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
খুলনা গেজেট/জেএম