নানা ধরনের প্রাণীবৈচিত্র্যে অনন্য সুন্দরবন। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হলো সুন্দরবন। সেই বাঘ সংরক্ষণে নানা উদ্যোগ নিয়েছে বনবিভাগ। এরই অংশ হিসেবে গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সরেজমিনে বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সুন্দরবনের কোলঘেষা কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনে যেয়ে দেখা যায়, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রং তুলি ব্যবহার করে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও জীব বৈচিত্র্য বিষয়ে চিত্র আঁকছেন। উপকূলের শতাধিক শিক্ষার্থী নিজের পছন্দমত দৃশ্য আঁকছেন ও মনের আনন্দে রং করছেন। কেউ গাছপালাসহ হরিণ ও বাঘের ছবি আকঁছেন, কেউ আবার পশুপাখির সংমিশ্রণে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য তুলে ধরছেন। এসব চিত্রকর্ম দেখেছেন বনবিভাগের কর্মকর্তা, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অভিভাবকরা। বিভিন্ন চিত্রে সুন্দরবনের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়ে মুগ্ধ হয়েছেন তারা।
সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের আওতাধীন খুলনা রেঞ্জের উদ্যোগে কাশিয়াবাদ ফরেষ্ট ক্যাম্পে এ চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ আয়োজন করা হয়। বনবিভাগের পক্ষ থেকে প্রত্যেক প্রতিযোগিকে টি-শার্ট, আর্ট পেপার, রং পেন্সিলবক্স, রাবার ও কাঠ পেন্সিল সরবরাহ করা হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে ১০ জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এই চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা পরিদর্শন করতে ছুটে আসেন খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ছবি আঁকা আমাদের শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতিরই অংশ। এই আয়োজনের মাধ্যমে সুন্দরবন সুরক্ষার বিষয়টি শিশুরা মনের মধ্যে ধারণ করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ ও বাঘ-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে ‘সুন্দরবন বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়। ক্রমাগত সুন্দরবনের বাঘ বাড়ছে। ২০১৫ সালে বাঘ ছিল ১০৬টি, ২০১৮ সালে ছিল ১১৪টি ও সর্বশেষ ২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ি বাঘ রয়েছে ১২৫টি।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাশিয়াবাদ স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ সাদিকুজ্জামান, প্রধান শিক্ষক রনজিত কুমার সরকার, সহকারি শিক্ষক রোকনুজ্জামান, আব্দুর রহিম, ফরেস্টার আল আমিন প্রমূখ।
খুলনা গেজেট/ টিএ