কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম ঢাকা ও বগুড়ার তিনটি সংসদীয় আসনে তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে ঘোষণা দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এ দাবি জানান।
স্ট্যাটাসে হিরো আলম বলেন, ‘যেহেতু ইশরাককে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ঘোষণা করা হয়েছে, হিরো আলমকে ঢাকা-১৭, বগুড়া-৪, ৬ আসনের এমপি পদ ফিরিয়ে দেওয়া হোক। আমি তো অনেক নির্যাতিত হয়েছি।’
এ ছাড়া এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা বলার সময়ও হিরো আলম একই দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘বগুড়া ও ঢাকায় সংসদ নির্বাচনের পর পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানিয়ে মামলা করেছিলাম। ইশরাক ফেরত পেয়েছেন। আমিও পাওয়ার আশা রাখি। কারণ, আমিও বঞ্চিত।’
হিরো আলম ২০২৩ সালের ২৩ জুলাই ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের ভোট বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দেন। নির্বাচন বাতিল ও পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, ‘২০২৩ সালের ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে আমি আরশাফুল হোসেন আলম (হিরো আলম) নির্বাচনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একতারা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। নির্বাচনের দিন ইমেইলের মাধ্যমে আপনাকে অবহিত করেছিলাম যে, ভোটগ্রহণ শুরুর ১ ঘণ্টার মধ্যে আমার তালিকাভুক্ত মনোনীত প্রায় ৮৮ জন এজেন্টকে ১৯টি ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে ব্যাপক জাল ভোট দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বনানী বিদ্যা নিকেতন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে সরকার দলীয় ক্যাডাররা আমার ওপর শারীরিকভাবে হামলা চালায়। এ ঘটনা দেশ ও বিদেশের কোটি কোটি মানুষ সংবাদ মাধ্যমে দেখেছে।’
ওই ঘটনার পর বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আমার মনোনীত এজেন্টদের জোর করে বের করে ভোট গণনা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ নির্বাচনবিধি পরিপন্থী। আমার ওপরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা ও ব্যাপক জাল ভোট ও ভোট গণনায় অনিয়ম নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাই আমি মনে করি, এই নির্বাচন বিধিসম্মত হয়নি।
এদিকে, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রায় শেষের দিকে গিয়ে হামলার শিকার হন স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম। এ সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ভোট কেন্দ্রের মাঠে তাঁর ওপর মারমুখী হয়ে ওঠেন একদল মানুষ। তিনি সেখান থেকে বের হয়ে আসলেও তাঁকে ধাওয়া করে হামলাকারীরা। সে সময় হিরো আলমের ওপর এলোপাতাড়িভাবে মারধরও চলতে থাকে। ভিডিওতে জয় বাংলা স্লোগান দিতেও শোনা যায়।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে আসামি করে বনানী থানায় মামলা করেন হিরো আলমের ব্যক্তিগত সহকারী মো. সুজন রহমান শুভ। মামলার পরে অনেককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
খুলনা গেজেট/এএজে