ঝিনাইদহের গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃত আসামীদ্বয়কে ঝিনাইদহ জেলার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব সূত্র, ঝিনাইদহ জেলার সদর থানাধীন ৩নং পানির ট্যাংকি পাড়ার হামদহ এলাকায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার সময় ভিকটিমের ভাড়া বাসায় আসামীরা প্রবেশ করে ভিকটিমের স্বামীর নিকট ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে এবং ভিকটিমের ব্যবহুত স্বর্ণের অলংকার ছিনিয়ে নেয়। ঐ সময় ভিকটিম আসামীদেরকে বাধা প্রধান করলে আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ভিকটিমের স্বামীকে আটক রেখে ভিকটিমকে তাদের ভাড়া বাসার বিল্ডিং এর তৃতীয় তলার ছাদে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে আসামী শিমুল ও তার সহযোগী আসামীরা ভিকটিমকে পালাক্রমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
এ বিষয়ে ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি ধর্ষণ ও চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে। উক্ত ঘটনাটি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং জনমনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার বিষয়ে র্যাব-৬, ঝিনাইদহ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ছায়া তদন্ত শুরু।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, উক্ত গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী রাঙামাটি জেলার লংগদু থানা এলাকায় আত্নগোপন করে আছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৭ চট্টগ্রাম এর একটি অভিযানিক দলের সহায়তায় ২৯ মার্চ রাত সাড়ে ৩টায় রাঙামাটি জেলার লংগদু থানাধীন কালাপাকুজ্জা ইউনিয়নের গহীন পাহাড়ি বনাঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করে উক্ত মামলার প্রধান আসামী ১। মোঃ শিমুল(২৫), পিতা-কালাম, সাং-৩নং পানির ট্যাংকিপাড়া, থানা-ঝিনাইদহ সদর, জেলা-ঝিনাইদহকে গ্রেপ্তার করে।
পরবর্তীতে আসামী শিমুলের দেওয়া তথ্য মতে র্যাব-৬, ঝিনাইদহ ক্যাম্পের অন্য একটি আভিযানিক দল আসামী শিমুলের সহযোগী অন্য আসামী আকাশ(৩০), পিতা-আকামত, সাং-৩নং পানির ট্যাংকিপাড়া, থানা-ঝিনাইদহ সদর, জেলা-ঝিনাইদহকে একই তারিখ সকাল সাড়ে ৭টায় ঝিনাইদহ সদর থানার হাটগোপালপুর এলাকা হতে গ্রেপ্তার। গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামী শিমুল এবং অন্যতম সহযোগী আসামী আকাশকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত ঘটনার সাথে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। গণধর্ষণ ও চাঁদাবাজি মামলার অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে র্যাবের অভিযান অব্যাহত আছে।
খুলনা গেজেট/ টি আই