দাম বৃদ্ধির সংবাদের পর পরই ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। কিন্তু দাম কমার পর তা বাস্তবায়ন করতে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন তারা। এ হচ্ছে বর্তমান বাজারের চিত্র। শুক্রবার নগরীর নতুন বাজারে এমন কথা জানালেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মো: সামসুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার গ্যাস ও তেলের দাম কমিয়ে নির্ধারণ করে দিলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
৩ অক্টোবর ভোজ্য তেলের দর নির্ধারণ করে দেয় সরকার। তারপর চার দিন অতিবাহিত হলেও বাজারে তার কোন প্রভাব পড়েনি। বৃহস্পতিবার নতুন করে পাম ওয়েলের দাম কমানো হয়। প্রতি লিটার ১২৫ টাকা দর নির্ধারণ করে দিলেও ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন ১৪৪ টাকায়।
অন্যদিকে সরকার চিনির দাম কেজিতে ৬ টাকা বাড়িয়ে ৯০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও খুলনায় পরেরদিন তা বিক্রি হচ্ছে আরও ২ টাকা বাড়িয়ে ৯২ টাকায়!
ক্রেতা সামসুর রহমান ক্ষোভের সাথে এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা এখন টাকা উৎপাদন মেশিনে পরিণত হয়েছি। আয় বাড়েনি, কিন্তু ব্যয় বেড়েছে। বেড়েছে বাসাবাড়ির ভাড়া। ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ বেড়েছে। জীবন চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বাজারে এলেই খুব অশান্তি লাগে।
নিউ মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী শাহীন বলেন, ২০২০ সালের শেষের দিক থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে দোহাই দিয়ে বাড়ানো হয় ভোজ্য তেলের দাম। এখন তো আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের কোন সংকট নেই, তাহলে কেন এখনও বর্ধিত দরে বিক্রি করা হচ্ছে এ পণ্যটি। দেশটা আজ ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি হয়ে গেছে। এরা যেভাবে চাইছে সেভাবে চলছে সব কার্যক্রম। ৯০ টাকার তেলের লিটার এখনও ১৯২ টাকায় কিনতে হচ্ছে। সরকার ৩ অক্টোবর তেলের নতুন দর নির্ধারণ করে দিলেও তাকে বর্ধিত দরেই কিনতে হয়েছে।
দিন মজুর আনারুল খুলনা গেজেটকে বলেন, সব জিনিষের দর বেড়েছে। বাড়েনি তার পারিশ্রমিক। বেশী চাইলে কোন মহাজন কাজে নিতে চায় না। পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আয়ের সাথে ব্যয়ের সামঞ্জস্য খুঁজে পাচ্ছে না। পাম ওয়েলের দাম কমেছে ৮ টাকা জেনে বাজারে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে গিয়ে দেখেন দোকানদার পূর্বের বেশি দামেই বিক্রি করছেন তা।
রূপসা বাজারের ব্যবসায়ী ও বাগেরহাট স্টোরের কর্ণধার এ প্রতিবেদককে জানান, সরকার ভোজ্য তেলের নতুন দর নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এটা সত্য কিন্তু বড় বাজারের ব্যবসায়ীরা এখনও দাম কমায়নি। ব্যবসায়ীরা এখনও তাদের কাছে বেশী দরে তেল বিক্রি করছেন। উপায়ন্তু না পেয়ে আমাকে বেশী দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। নতুন করে চিনির দাম বাড়ানো হয়েছে। বিক্রি করতে গেলে আমাকে বেশী দরে বিক্রি করতে হবে, না হলে পরের ট্রিপে মাল আনতে গেলে তার লস হবে। যদিও তার ঐ বক্তব্য অযৌক্তিক।
নগরীর এখনো ১ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯২ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। একই ভাবে ৫ লিটারের বোতল ৯৪০ টাকা ও খোলা এককেজি সয়াবিন ১৮০ টাকায় বিক্রি করছেন। অথচ সরকার ৩ অক্টোবর সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৪ টাকা ও খোলা তেলে প্রতি লিটারে ১৭ টাকা দাম কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করে দেয়।
সরকার নির্ধারিত নতুন দর অনুযায়ী প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৫৮ টাকা, বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন ১৭৮ টাকা ও ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ৮৮০ টাকা বিক্রি হওয়ার কথা।
অন্যদিকে এলপিজি বোতলের দাম ৩৫ টাকা কমিয়ে ১২০০ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সরকারের কথায় কর্ণপাত না করে ১২৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।
এর আগেও সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য কমিয়ে পুন:নির্ধারণ করে দিলেও খুলনার ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে দাম কমাতে বিলম্ব করেছে। এ অবস্থায় স্থানীয় ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারাও খুব একটা পদক্ষেপ নেন না। বরং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলেন। ফলে সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করতে সাহস পাচ্ছে অসৎ ব্যবসায়ীরা।