খুলনার চালনা পৌরসভায় ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই, নেই পর্যাপ্ত নালা। গণশৌচাগার ও চিত্তবিনোদনের জন্য নেই কোনো শিশুপার্কও।
পৌরসভার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, এখানে নাগরিক সুবিধার কিছুই নেই। পৌরবাসীর পানির চাহিদা মেটাতে নয়টি ওয়ার্ডের কোনো ওয়ার্ডে পানির সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া পৌরসভার বেশির ভাগ এলাকায় সড়কবাতি নেই। কিন্তু এসব নাগরিক সুবিধা না পেলেও এলাকার বাসিন্দাদের নিয়মিত কর দিতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসন না হওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তাছাড়া পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তা খানাখন্দে ভরা।
পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের নভেম্বর মাসে এ পৌরসভা গঠিত হয়। নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ পৌরসভার আয়তন ৯ দশমিক ৪৯ বর্গকিলোমিটার। চালনা পৌরসভাটি ২০১৩ সালের আগস্টে ‘গ’ থেকে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। লোকসংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার।
পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী প্রনব মল্লিক খুলনা গেজেটকে বলেন, পৌরসভায় ৫০ কিলোমিটার রাস্তা আছে। এরমধ্যে সিসি রাস্তা ৩০ কিলোমিটার, পাকা ১৭ কিলোমিটার, সোলিয়ের ৭ কিলোমিটার, এখনো কাচা (মাটির) ৩ কিলোমিটার রাস্তা। আড়াই কিলোমিটারের মতো জায়গায় এখনো বিদ্যুৎ পৌছায়নি।
পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শেখ মো. ইমরুল ইসলাম বলেন, পৌরসভায় একটি পৌরভবন ছাড়া আর তেমন কিছু নেই। তা-ও করা হয়েছে চালনা বাজারের শত শত মানুষের গোসলের পুকুর ভরাট করে। তিনি অভিযোগ করেন, চালনা লেকের পাড় ছিল পৌরবাসির জন্য একমাত্র বিনোদন স্থান। সেখানে পশুরহাট থাকায় দিন দিন ভেঙ্গে পাড়টি এখন আর বিনোদনের উপযোগি নেই।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, চালনার প্রাণকেন্দ্র হলো বৌমার গাছতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকা। বাসস্ট্যান্ডের পাশেই একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ও সোনালি ব্যাংক চালনা বাজার শাখা। কিন্তু সেখানে যানবাহন পার্কিং করার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। পৌর শহরের নিদির্ষ্ট কোনো জায়গায় ট্রাকস্ট্যান্ড ও পৌর সুপারমার্কেট নেই। এছাড়া পৌর বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলার কোনো ভাগাড় নেই। এ কারণে বাজারের যেখানে-সেখানে আবর্জনা পড়ে থাকে। এ ছাড়া ওই বাজারের বেশির ভাগ ময়লা আছাঁভূয়া খাল ও চালনা খালের পাড়ে ফেলা হচ্ছে। এতে খাল ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা না থাকায় দুর্গন্ধে খালের আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
পৌরসভার সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম খুলনা গেজেটকে জানান, অপরিকল্পিত পৌরসভাকে সাজানোর জন্য নকশা করা হয়েছে। পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ও বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণসহ আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থাও হাতে নেয়া হচ্ছে। পৌরবাসির জন্য কোটি টাকা ব্যয়ে পানির লাইন বসানোর ব্যবস্থা করা হবে। নাগরিক সুবিধা দেয়ার জন্য যা প্রয়োজন সেগুলির জন্য প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পগুলো মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। এ ছাড়া তিনটি প্রকল্পের আওতায় পৌরসড়ক ও ড্রেননির্মাণে কাজ চলমান রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা থেকে কিছুটা রেহাই পাবে পৌরবাসি।
চালনা পৌর সভার মেয়র সনত কুমার বিশ্বাস মুঠোফোনে খুলনা গেজেটকে বলেন, শহররক্ষা বাঁধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম গেল নির্বাচনে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজটি করা হবে। সেই অনুসারে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। পরিকল্পনা বিভাগের কমিশনারের আওতায় প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া নাগরিক সুবিধার জন্য কয়েকটি প্রকল্পের প্রস্তাব প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে পৌরশহর দৃশ্যমান হবে বলে দাবি করেন পৌরমেয়র।
গত নির্বাচনে সনত কুমার বিশ্বাস আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। এবারও আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়প্রত্যাশী তিনি। সনত জানান, নৌকা প্রতীক পেলে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। এজন্য তিনি দলীয় সভানেত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করতে আগে-ভাগে নির্বাচনীয় প্রচারণায় নেমে পড়েছেন।
খুলনা গেজেট / এ হোসেন