যশোরে ঈদের রাতে বাজি ফুটানো নিয়ে গোলযোগে অলিদ হোসেন হত্যার ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) মামলাটি করেছেন নিহত অলিদের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নওদাগ্রামের হৃদয় হাসান।
হত্যার দুই দিন পর বুধবার রাতে এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক ও আদালতে সোপর্দ করেছে তালবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা। বিচারক আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে আটক চারজন হলো, পাগলাদাহ গ্রামের বাবর আলীর ছেলে রাশেদুল ইসলাম, সমছের মোল্লার ছেলে লুৎফর মোল্লা, রিপন হোসেনের ছেলে আপন ও সাইদের ছেলে শামীম। এছাড়া মামলার পলাতক আসামি হচ্ছে, লুৎফরের ছেলে রিপন।
বাদী উল্লেখ করেন, ঈদের দিন সন্ধ্যা ৭ টায় অলিদের মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। এরপরে সে মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাইরে বের হয়। অলিদ তার বন্ধুদের নিয়ে পাগলাদাহ ব্রিজ এলাকায় ঘুরতে যায়। রাত ৮ টার দিকে ব্রিজের ওপর বসে ছিল অলিদসহ তার বন্ধুরা। এ সময় রাশেদুল, আপন ও শামীম বাজি ফোটাচ্ছিল। এ সময় একটি বাজি অলিদের পায়ের কাছে বিস্ফোরিত হয়। এ সময় অলিদ তাদের নিষেধ করে ওইখানে বাজি ফোটাতে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রাশেদুলসহ অন্যরা। পরে তারা অলিদকে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় ঠেকাতে আসেন অলিদের বন্ধু আরিফ। তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক অলিদকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তালবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আল আমিন বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। একই সঙ্গে ওই চারজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর তারাও হাসপাতালে আসে। অলিদের মৃত্যুর খবর শুনে কেউ কেউ পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতাল এলাকা, নওদাগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে আটক করা হয়েছে। অপর আসামিকে আটকের অভিযান চলছে।
খুলনা গেজেট/টিএ