সদ্য সমাপ্ত পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বদ্বতাকারিদের মধ্যে জামানাত হারিয়েছেন ২৭ জন। এদের মধ্যে ৮জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ১০০ এর নিচে রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশাশুনি উপজেলার ১১ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সর্বমোট ৫৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বদ্বতা করেছিলেন। যার মধ্যে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক ১১ জন, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ২ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকে ৪ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ মনোনীত মশাল প্রতীক ১ জন ও বাকী ৩৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী চশমা, ঘোড়া, আনারস, মোটরসাইকেল, টেবিল ফ্যান, টেলিফোনসহ বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। এসকল প্রার্থীদের মধ্যে ৩৭ জন প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী মোট পোলকৃত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পাওয়ায় তারা তাদের জামানত হারিয়েছেন।
জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে শোভনালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন জামানত হারিয়েছেন। এর মধ্যে আব্দুল মজিদ মোল্যা ঘোড়া প্রতীকে ১৬২ ভোট, এসএম মনিরুজ্জামান লাঙ্গল প্রতীকে ২৮৯ ভোট এবং লুৎফর রহমান হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ১৫৬ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। বুধহাটা ইউনিয়নে ৪ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। এরা হলেন এমডি ফিরোজ আহমেদ আনারস প্রতীকে ২০৪ ভোট, আবুল হাসেম চশমা প্রতীকে ১৯৮৩ ভোট, রেজবিদান সরদার লাঙ্গল প্রতীকে ১৬৭ ভোট এবং মোবারক হোসেন হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২২৬ ভোট। কুল্যা ইউনিয়নে ২ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এরা হলেন, মাসুম আলী ঘোড়া প্রতীক ৮৩ ভোট এবং ইয়াকুব আলী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫০৯ ভোট। দরগাহপুর ইউনিয়নে ৩ জন জামানত হারিয়েছেন। যার মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক ঘোড়া প্রতীকে ৪৮৯ ভোট, স ম জাকির হোসেন চশমা প্রতীকে ১২১৩ ভোট এবং অজিয়ার রহমান হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৪২ ভোট। বড়দল ইউনিয়নে ৪ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। যার মধ্যে, আব্দুল হান্নান মন্টু সরদার আনারস প্রতীকে ১৪৬৪ ভোট, এসএম নাসিরউদ্দীন আরজু সানা চশমা প্রতীকে ১০৯ ভোট, আবু সাইদ ঢালী মোটরসাইকেল প্রতীকে ২১৬ ভোট এবং আব্দুল গফুর রজনীগন্ধা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১১৭ ভোট। শ্রীউলা ইউনিয়নে ১ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুজ্জামান ছট্টু চশমা প্রতীকে ১৩৯১ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। খাজরা ইউনিয়নে ৫ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। যার মধ্যে ফজলুর রহমান ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৩ ভোট, রবিউল ইসলাম রবি চশমা প্রতীকে ১৩২৫ ভোট, বোরহান উদ্দিন মোটর সাইকেল প্রতীকে ৫০ ভোট, ফজলুল হক মশাল প্রতীকে ৩৬ ভোট ও নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল রজনীগন্ধা ফুল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫১ ভোট। আনুলিয়া ইউনিয়নে ১ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী জাবেদুল মাওলা মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে ৫০ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। প্রতাপনগর ইউনিয়নে ৩ জন প্রার্থীর জামানত হারিয়েছেন। এর মধ্যে নুরুল ইসলাম ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৫ ভোট, শেখ রিয়াদ মাহমুদ মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৩ ভোট ও হারুন-উর-রশিদ টেবিল ফ্যান প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৩৪২ ভোট। কাদাকাটি ইউনিয়নে অমৃত কুমার সানা ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ৮৬৬ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। জামানত হারানো ২৭ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ৮ জন ১০০ ভোটও পাননি।