খুলনা, বাংলাদেশ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ব্যাংকক থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা

আশাশুনিতে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবিতে বানভাসি মানুষের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ভাঙনকবলিত বিছট গ্রামে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার বানভাসি মানুষ। ‘সংষ্কার নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ চাই, দাবি মোদের একটাই টেকসই বাঁধ চাই’ স্লোগান সম্বলিত প্লাকর্ড হাতে নিয়ে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বেলা ১১টায় গ্রামবাসীর উদ্যোগে গ্রামের ভাঙন পয়েন্টের কাছে বেড়িবাঁধের উপর দাঁড়িয়ে তারা এ মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বানভাসি শত শত নারী ও পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে ওয়াসিম আকরাম বলেন, বিগত ২৫-৩০ বছর ধরে বিছট গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে ভাঙন চলছে। অব্যহত নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ক হয়েছে শতাধিক বিঘা ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে মোড়ল বাড়ি ও গাজী বাড়ি জামে মসজিদ, একটি এফতেদায়ি মাদ্রাসা, সরকারি পুকুরসহ অসংখ্য স্থাপনা। বসতভিটাসহ সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে গ্রামের শতাধিক পরিবার। গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে অনেকে। হুমকির মুখে রয়েছে বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

মো. মিজানুর রহমান মিজান বলেন, এই গ্রামের বেড়িবাঁধটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলে বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটে গ্রামবাসীর। সারারাত জেগে বেড়িবাঁধ পাহারা দেয় তারা। কিন্তু অদ্যাবধি টেকসই বাঁধ নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

তিনি বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় শুধু সংষ্কার করলে হবে না, টেকসই বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। বিছট গ্রামে টেকসই বাঁধ নির্মাণের কোন বিকল্প নেই। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

রাবেয়া খাতুন বলেন, অব্যহত নদী ভাঙনে বিছট গ্রাম একরকম বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বহু মানুষ তাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি হারিয়ে গ্রাম ছাড়া হয়েছে। নদী ভাঙনে সৃষ্ট বিপর্যয় থেকে আমরা স্থায়ী মুক্তি চাই, তা না হলে পুরো বিছট গ্রাম একদিন সর্বগ্রাসী খোলপেটুয়া নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

তিনি দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

খুলনা গেজেট/জেএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!