খুলনা, বাংলাদেশ | ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  শরীয়তপুরের জাজিরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ
  রোহিঙ্গাদের আগামী বছরের মধ্যে পাঠানো যাবে কি না বলা যাচ্ছে না : প্রেস সচিব
  রাজধানীর মিরপুরে প্রাইভেটকার-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ২ যুবক নিহত

শেখ জুয়েলের আলোচিত এপিএস সাইদুর এখন আমেরিকায়

এ এইচ হিমালয়

যুক্তরাষ্ট্রে দেখা গেল খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েলের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) সাঈদুর রহমানকে। দেশটির পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ল্যাঙ্গাস্টার শহরে বন্ধুদের নিয়ে বেড়ানোর একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন সাঈদুর।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময়ের পর থেকে সাঈদুর রহমানকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। আত্মগোপনে চলে যান তিনি। তার যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাপ্রাপ্তি এবং যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন সাঈদুর রহমান। তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কোটচাদপুরে। থাকতেন নগরীর ট্যাংক রোডে। ধারাভাষ্যকার হিসেবে ক্রীড়া জগতের সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে শেখ জুয়েল খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তাকে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপরই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় নাম ওঠে সাঈদুরের। সাবেক এমপি শেখ জুয়েলের হয়ে সরকারি দপ্তরে নিয়োগ, বদলি, তদারকি করতেন তিনি। একপর্যায়ে শেখ জুয়েলের নাম ভাঙিয়ে নিজেও নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন। সাঈদুর খুলনা মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহসভাপতি পদে রয়েছেন।

সাঈদুর সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হন ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে। ওই নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েলের সঙ্গে ডামি প্রার্থী হিসেবে খুলনা-২ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন সাঈদুর রহমান। তার প্রতীক ছিল ঈগল। দেশের বিভিন্ন স্থানে ডামি প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের ছোট নেতারা প্রার্থী হলেও খুলনা-২ আসনে তা হয়নি। এমপির পিএসকে ডামি প্রার্থী হিসেবে দেখে আওয়ামী লীগের নেতারা ক্ষুব্ধ হন। বিষয়টি নিয়ে তখন বেশ হাস্যরস তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদও প্রকাশ হয়।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, চুকনগর কলেজে এমপিওভুক্ত ছিলেন সাঈদুর রহমান। এমপির এপিএস হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর কলেজে অনিয়মিত ছিলেন তিনি। তারপরও নিয়মিত বেতন তুলতেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষক নির্বাচনে অংশ নিতেন পারেন না। কিন্তু তার নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস পাননি কেউ। গত বছর জুলাই আন্দোলনের কয়েকদিন আগে কলেজের চাকরি থেকে অব্যহতি নেন তিনি। ওই সময় শেখ হাসিনার চাচাতো ভাইয়েরাও দেশত্যাগ করেন।

চুকনগর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবদুল হাফিজ মাহমুদ বলেন, গত বছর ৩০ জুন সাঈদুর রহমান অব্যাহিত চেয়ে আবেদন করেন। জুলাই মাসে সেটি গ্রহণ করা হয়। এরপর কলেজ কমিটির সভায় তাকে বাদ দেওয়া হয়।

জানা যায়, অভ্যুত্থানের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পেতে তৎপরতা চালান তিনি। আন্দোলন শুরুর আগে তার চাকরি থেকে অব্যাহতি গ্রহণ, আমেরিকার ভিসা গ্রহণ, শেখ পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগ একই সূত্রে গাঁথা কিনা, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। অভ্যুত্থানের কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি দেশ ছাড়েন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঈদের পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন সাঈদুর। তার একটিতে তিনি লেখেন, ‘এতো ভালো ঈদ কাটবে; কল্পনাও করিনি।’

গত বছর সংসদ নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া হলফনামায় দেখা যায়, নগদ ও ব্যাংক মিলিয়ে সাঈদুরের কাছে ৯৭ লাখ ৩৮ লাখ টাকা রয়েছে। ঝিনাইদহ, ঢাকা ও খুলনায় জমি রয়েছে ৫ জায়গায়। তার স্ত্রীর নামেও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জমি রয়েছে।

এসব বিষয়ে সাঈদুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে ওয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি সাড়া দেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘আমরা দলের পেছনে খেটে মরতাম। আর সুবিধা নিতো এপিএসরা। অভুত্থানের পর থেকে এমপি, নেতা, কারও কোনো হদিস নেই। আমরা পালিয়ে আছি। তারা কেউ আমেরিকা, কেউ ভারতে আরামে সময় কাটাচ্ছেন।’

খুলনা গেজেট/হিমালয়




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!