খুলনা, বাংলাদেশ | ১৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ | ৩০ নভেম্বর, ২০২০

Breaking News

  ঢাকাকে ৩৭ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু কাপ ক্রিকেটে জয়ে ফিরলো খুলনা
  ভাস্কর্যকে মূর্তির সঙ্গে তুলনা উসকানির অপচেষ্টা মাত্র : তথ্যমন্ত্রী
  করোনার টিকার দায়িত্ব সশস্ত্র বাহিনীকে দেওয়ার দাবি বিএনপির
  সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করে কানাডায় পালিয়ে যাওয়া পিকে হালদারের বিরুদ্ধে সব মামলার নথি চেয়েছে ইন্টারপোল
খুলনায় নাগরিক সংলাপে বক্তারা

সুন্দরবনের পাশে সব ধরনের শিল্প-কারখানা বন্ধের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে গড়ে ওঠেছে অসংখ্য বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরবন। এ ছাড়া কৃষি জমিতে শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠায় ফসলের আবাদ কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। সুন্দরবন-সংলগ্ন অঞ্চলে সব ধরনের শিল্পায়ন বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

শনিবার (২১ নভেম্বর ) সকালে খুলনা নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘সুন্দরবন-সংলগ্ন অঞ্চলে শিল্পায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবাধিকার’ র্শীষক এক নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে। উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) এবং সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যাণ্ড পাটিসিপের্টরি রিসার্চের (সিইপিআর) উদ্যোগে নাগরিক সংলাপটি হয়েছে।

সিইপিআর‘র চেয়ারপারসন গৌরাঙ্গ নন্দীর সভাপতিত্বে সংলাপটির সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কাদির। সংলাপের শুরুতে সুন্দরবন-সংলগ্ন অঞ্চলে শিল্পায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবাধিকার বিষয়ক মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।

মূলপ্রবন্ধে হাসান মেহেদী বলেন, সুন্দরবনের পাশে প্রকৃতিগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) সর্বমোট ১শ‘ ৯০টি বিভিন্ন আকারের শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে ৩২টি পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সংলাপে তিনি সুন্দরবনের ইসিএ এলাকায় অবস্থিত সব ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধের জোর দাবি জানান।

নাগরিক সংলাপে বক্তারা বলেন, মানুষের অনিয়ন্ত্রিত মুনাফাভিত্তিক কার্যক্রমের ফলে সুন্দরবন আজ হুমকির মুখে পড়েছে। ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমে সুন্দরবন রক্ষা করা সম্ভব। এজন্য রাজনৈতিক দলের পরিবেশ বিষয়ক কমিটিগুলো সক্রিয় হতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আইন এবং নীতিমালা সরাসরি সুন্দরবনের ওপর প্রভাব ফেলছে। সুন্দরবনকে রক্ষার জন্য সকল প্রকারের নীতিমালা সমন্বয় অতি জরুরি বলে মনে করে বিশিষ্টজনেরা। তাঁরা এ অঞ্চলের ভূমি ব্যবহার ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য সমন্বিত মনিটরিং-এর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

এতে অংশ নেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক দিলীপ কুমার দত্ত, ফরেস্ট্রি অ্যাণ্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন, শরীফ হাসান লিমন, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান, শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র‘র সমন্বয়কারি হুমায়ন কবির, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির বিভাগীয় সমন্বয়কারি মাহফুজুর রহমান মুকুল, ইনিশিয়েটিভ ফর রাইট ভিউ‘র সমন্বয়কারি জাভেদ খালিদ পাশা, মোংলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শেখ নূর আলম প্রমূখ।

সুন্দরবনের আশেপাশে শিল্পায়নের জন্য মোংলা সমুদ্রবন্দরকে সবচেয়ে বেশি দায়ী করে সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কাদির বলেন, এই বন্দরের কারণেই সব ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে। তিনি বলেন, সুন্দরবন-সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে আজকে যে ক্ষয়ক্ষতিগুলো দেখা যাচ্ছে এর সবকিছুরই গোড়াপত্তন মোংলা বন্দর হওয়াতে।

 

খুলনা গেজেট / এআর



আরও সংবাদ




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692