খুলনা, বাংলাদেশ | ২০ ফাল্গুন, ১৪২৭ | ৫ মার্চ, ২০২১

Breaking News

  শিশুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় : হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চের রায়; অপরাধ যাই হোক, সাজা ১০ বছরের বেশি নয়
প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে বেজায় খুশি আব্দুর রহমান

‘সারাদিন কষ্টের পরে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারবো’

তরিকুল ইসলাম

এই বয়সে সারাদিন হাট বাজারে ঝুরিভাজা বিক্রি করেও শান্তিতে ঘুমাতে পারতাম না । ঠান্ডা বাতাস ঢুকায় শীতের কুপুনিতে ঘুম আসতো না। সামান্য বৃষ্টি হলেই পড়তো পানি। গরমের দিনে ঝড়ের আতংকে থাকতাম সারাক্ষণ। একটু বাতাস হলেই চিন্তায় পড়তাম ছেলে নিয়ে কোথায় যাব। তবে এখন আর চিন্তা নাই, কষ্টের পরে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারবো। সন্তান নিয়ে আল্লাহর রহমতে থাকতে পারবো নিশ্চিন্তে। প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে বেজায় খুশিতে এসব কথা বলছিলেন খুলনার রূপসার পিঠাভোগ গ্রামের ঝুরিভাজা( ময়দা দিয়ে তৈরি) বিক্রেতা ৭৫ বছর বয়সের বৃদ্ধ আব্দুর রহমান। তিনি আরও বলেন, আমরা কখনও ভাবেনি পাকা ঘরে বাস করবো। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রধানমন্ত্রী মাধ্যমে আজ একটি পাকা ঘর পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাকে নেক হায়াত দান করেন এই কামনা করি।

আরেক সুবিধাভোগী জাতিসংঘ থেকে রিয়েল হিরো উপাধি পাওয়া রূপসার বাগমারার আখি বলেন, নিজেদের ঘর না থাকায় পিতা-মাতার সাথে এতদিন খালা বাড়িতে থেকেছি। এখন ঘর পেয়ে নিজেদের বাড়িতে উঠবো। সেখানে খোলামেলা পরিবেশে খুব ভালোভাবে কাটবে বলে আশাকরছি। ঘরে বসে সেলাইয়ের কাজ করতে পারবো।

উপকারভোগী কয়রার নাকশার নার্গিস আক্তার বলেন, আমার স্বামী তালাক দেওয়ার পর থেকে এতদিন মেয়েকে অন্যের বাড়ি থেকেছি । লোকের বাড়ি কাজ করে ও নদীতে মাছ ধরে সংসার চালানোর পাশাপাশি অনেক চেষ্টা করেও নিজের একটি মাথা গোজার ঠাঁই জোগাড় করতে পারিনি। এভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ঘর পাবো জীবনে কখনও ভাবেনি।

রূপসার মিশাঘুনি গ্রামের সুবিধাভোগী মাহমুদা বানু বলেন, বিধবা মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে এখন থেকে এক সাথে থাকতে পারবো ভেবেই খুব আনন্দ লাগছে। এতদিনতো আমি থাকতাম এক বাড়িতে আর ওই মেয়ে থাকতো আরেক বাড়িতে। এখন আমাদের মা জননী হাসিনা জায়গা দিয়েছে, ঘর দিয়েছে- আমি তাতে অনেক খুশি।

রূপসার আঠারোবেকী নদী ভাঙ্গনে নিঃস্ব হওয়া ৮০ বছরের ইনুচ জানান, নদীর পাশে সরকারী জমিতে ঝুপড়িতে বেধে ৩০ বছর ধরে থাকছি। ঝড়-বৃষ্টিতে অনেক কষ্ট করেছি।  আমি প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করি। তিনি যেন মানুষের কল্যাণে আরো কাজ করতে পারেন।’

এমনই প্রতিকূলতার মধ্যে জীবন পার করা খুলনার ভুমিহীন ৯২২ পরিবার এখন ২ শতাংশ জমিসহ একটি সেমি পাকা ঘরের মালিক হয়েছেন। ঘর পেয়ে তারা মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন এবং প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেন। আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি। তারা আনন্দে উদ্বেলিত ও উচ্ছাসিত।
মুজিববর্ষের উপহার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেসিং এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ৬৪ জেলায় ৪৯২ উপজেলায় একযোগে জমিসহ ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে খুলনা ৯২২ পরিবার পেলেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে রূপসা উপজেলার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ ভূমিহীন-গৃহহীন এ সকল পরিবারের কাছে জমির দলিল ও ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন।

উল্লেখ্য, খুলনার ৯২২টি পরিবারের মধ্যে তেরখাদা ৪০টি, দিঘলিয়া ৭০টি, ডুমুরিয়া ১৪০টি, ফুলতলা ৪০টি, রূপসা ৭২টি, পাইকগাছা ২২০টি, বটিয়াঘাটা ১৫০টি, কয়রা ৫০টি, দাকোপ ১৪০টি পরিবার জমি ও ঘর পেয়েছেন। এই ৯২২ পরিবারের প্রধানদের মধ্যে ৫৭০জন দিন মজুর, ৩২ জন শ্রমিক, ০৩ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ২০১ জন কৃষক, ৫৮জন গৃহিনী, ০৪ জন প্রতিবন্ধী, ২৮ জন ভ্যানচালক, ১২ জন ভিক্ষুক এবং অন্যান্য ১৪ জন।

খুলনা গেজেট/ টি আই




আরও সংবাদ




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692