খুলনা, বাংলাদেশ | ৪ শ্রাবণ, ১৪৩১ | ১৯ জুলাই, ২০২৪

Breaking News

  কোটা নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানি রোববার; বিশেষ চেম্বার আদালতের আদেশ
  রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে পুলিশ বক্সে আগুন দি‌য়ে‌ছে বি‌ক্ষোভকারীরা

মৃত ব্যক্তির জন্য জীবিতদের করণীয় (পর্বঃ ০৬)

হাফেজ মাওলানা মুফতি জুবায়ের হাসান

দূর্ঘটনায় ইন্তিকালকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে করণীয়: 

• যদি কোন মৃতের শুধুমাত্র মাথা অথবা শরীর অর্ধেকের কম পাওয়া যায়, তাহলে তাকে গোসল দিবে না এবং তার জানাযা আদায় করবে না। বরং পবিত্র কাপড়ে পেঁচিয়ে দাফন করে দিবে। -আদ্দুররুল মুখতার ৩/১০৭

• যদি কোন মৃতের শরীর অর্ধেকের বেশি পাওয়া যায়, (চাই মাথা সহকারে অথবা মাথা ব্যতীত) সেক্ষেত্রে তার গোসল, কাফন ও জানাযা স্বাভাবিক নিয়মে আদায় করতে হবে। আর যদি মাথা সহকারে অর্ধেক পাওয়া যায়, তাহলে সবকিছু স্বাভাবিক নিয়মে আদায় করবে। মাথা ব্যতীত অর্ধেক শরীর পাওয়া গেলে গোসল, কাফন ও জানাযা না আদায় করে পবিত্র কাপড়ে পেঁচিয়ে দাফন করে দিবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫৯

সাগরের মাঝে নৌযানে কারো ইন্তিকাল হলে নৌযানটি যদি তীরের নিকটবর্তী হয় এবং অবতরণ করা সম্ভব হয় বা নৌযান গন্তব্যে পৌঁছার আগে লাশে কোনো ধরনের পরিবর্তন ঘটার আশঙ্কা না থাকে তাহলে লাশ ভূমিতেই দাফন করতে হবে। আর যদি নৌযান থেকে ভূমিতে অবতরণ করার আগে আগে লাশে পরিবর্তন ঘটার আশঙ্কা থাকে তাহলে নৌযানেই তার গোসল, কাফন ও জানাযা দিয়ে লাশটি সাগরে ছেড়ে দিবে। সম্ভব হলে লাশের সাথে কোনো ভারি বস্তু যেমন পাথর ইত্যাদি বেঁধে দিবে। যাতে লাশ নিচে চলে যায়। পানিতে ভেসে না থাকে। –মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১৯৭৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৩৫; ফাতহুল কাদীর ২/১০২; ইমদাদুল ফাত্তাহ ৬৩৯

বি. দ্র. অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে যে, মৃত ব্যক্তিকে কবরে তিনটি সওয়াল করা হবে। কিন্তু এমনও লোক আছে যাদের মৃত্যু হয় আকাশে বা সাগরে যাদের লাশ মাটিতে দাফন করার সুযোগ হয় না। তাদেরকে কোথায় সুওয়াল করা হবে?

এর উত্তর হল, মৃত্যুর পর সওয়াল-জওয়াব এবং এর পরবর্তী প্রতিদান ও শাস্তি ইসলামী আকীদার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মৃত্যুর পর সওয়াল-জওয়াব হওয়ার জন্য লাশ মাটিতে দাফন করা এবং লাশ অক্ষত থাকা জরুরি নয়; বরং এ সময়ে বান্দার দেহ যেখানে যেভাবে থাকুক আল্লাহ তাঁর কুদরতে ঐ দেহের সাথে রূহের সম্পর্ক করে দিবেন এবং সওয়াল-জওয়াব ও শান্তি বা শাস্তি সব কিছুই হবে। লাশ মাটিতে দাফন করা হোক বা না হোক এবং লাশ অক্ষত থাকুক বা না থাকুক এর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই ।

যেমন হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান এবং হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা.সহ অন্যান্য সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের আগে এক ব্যক্তি ছিল, যে মৃত্যুর সময় তার ছেলেদেরকে অসিয়ত করেছে যে, আমি তো আল্লাহর নিকট কোনো ভালো আমল জমা রাখিনি। জেনে রাখ, আমি যখন মৃত্যুবরণ করব তোমরা আমার দেহকে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে প্রবল বাতাসের দিন সমুদ্রে উড়িয়ে দিবে। অতপর ছেলেরা অসিয়তমতে মৃত্যুর পর তার দেহকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে প্রবল বাতাসের দিন সমুদ্রে উড়িয়ে দিয়েছিল। পরে আল্লাহ তাআলা ঐ ছাইগুলো জমা করে তাকে জীবিত করে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাকে এ কাজে কিসে প্ররোচিত করল? সে বলল, একমাত্র আপনার ভয়ই আমাকে এ কাজ করতে বাধ্য করেছে। তখন আল্লাহ তাআলা তাকে মাফ করে দিলেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৪৮০, ৬৪৮১; সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৭৫৭; মুসনাদে আহমদ, হাদীস ২৩৩৫৩; কিতাবুর রূহ ৭৪; মিরকাতুল মাফাতীহ ১/৩১০

• যদি অগ্নিদগ্ধ হয়ে কেউ ইন্তিকাল করে এবং লাশ জ্বলে-পুড়ে একেবারে কয়লা হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে গোসল ও জানাযা না আদায় করে পবিত্র কাপড়ে পেঁচিয়ে দাফন করে দিবে। -বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯

• যদি মাইয়্যেতের লাশ এমন অবস্থায় পাওয়া যায় যে, তা একেবারে ফুলে-ফেটে গেছে। সেক্ষেত্রে ভিজা হাত দ্বারা মাসাহ করবে অথবা তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত করে দিবে। অতঃপর যতদূর সম্ভব কাফন ও জানাযা আদায়ের ইহতেমাম করবে। আর যদি লাশ এই পরিমাণ ফেটে যায় যে, তাতে হাত লাগানো দুস্কর হয় তাহলে জানাযা আদায় করবে না। শুধুমাত্র তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত করে পাক কাপড়ে পেঁচিয়ে দাফন করে দিবে। -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১০

কোন দূর্ঘটনায় যদি মুসলিম ও অমুসলিম উভয় মৃত্যু বরণ করে এবং ধর্ম ভিত্তিতে লাশ শনাক্ত করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে মুসলমানের মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার আশংকা হলে, সকল মাইয়্যেতকে গোসল দিবে, কাফন পরাবে ও জানাযা আদায় করবে। তবে জানাযা আদায়ের সময় শুধুমাত্র মুসলমানদের নিয়ত করবে। সকল লাশ মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করে দিবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫৯
নোটঃ মুসলমানদের মৃত্যুর হার কম হলেও বর্ণিত নিয়মে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

• দূর্ঘটনা অথবা রোগের কারণে যদি জীবিত মানুষের কোন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ আলাদা হয়ে যায়, তাহলে সেই অঙ্গ পবিত্র কাপড়ে পেঁচিয়ে দাফন করে দিতে হবে। -আদ্দুররুল মুখতার ৩/১১৭।

লেখক : ইমাম ও খতিব, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও সদস্য, আল মাহমুদ ফাউন্ডেশন, খুলনা।

খুলনা গেজেট/এমএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!