খুলনা, বাংলাদেশ | ২০ ফাল্গুন, ১৪৩০ | ৪ মার্চ, ২০২৪

Breaking News

  ঢাকায় অর্ধশত রেস্তোরাঁয় পুলিশের অভিযান, আটক ৪০

মন্ত্রীর বিদেশে সোয়া ২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসাকে ইতিবাচক দেখা উচিত

অনিন্দ্য হক

বাঙালির স্বাভাবিক একটা বৈশিষ্ট্য আছে-তা হচ্ছে, সবকিছুকেই নেতিবাচকভাবে দেখা! তবে সবাই যে নেতিবাচকভাবে দেখে, বা চিন্তা করে তা কিন্তু নয়। দু-একজন ইতিবাচকভাবেও চিন্তা করে। সরকারের মন্ত্রিসভার এক মন্ত্রীর বিদেশে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকার ব্যবসা রয়েছে। এটা সত্যিই একটা ইতিবাচক দিক! তবে তিনি নির্বাচনি হলফনামায় কেন- যে এ তথ্যটি দেননি সেটি ভেবে পাচ্ছি না? একজন বাংলাদেশি মন্ত্রীর বিদেশে সাফল্যের সঙ্গে ব্যবসা করাকে অন্যান্য মন্ত্রী, এমপি বা ব্যবসায়ীদেরকে আগ্রহী করে তুলতে পারে। এইদিক দিয়ে ওই মন্ত্রী একজন পথিকৃত হতে পারেন।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে ‘নির্বাচনী হলফনামার তথ্যচিত্র: জনগণকে কী বার্তা দিচ্ছে?’ শিরোনামে মঙ্গলবার টিআইবির এক সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন তুলে ধরেন এই গবেষণা দলের প্রধান মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে পরে মন্ত্রীর বিদেশে সম্পদ থাকার তথ্য জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, তাদের কাছে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী সরকারের মন্ত্রিসভার অন্তত একজন সদস্যের নিজ নামে বিদেশে একাধিক কোম্পানি থাকার প্রমাণ রয়েছে। হলফনামায় তা দেখা যাচ্ছে না। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ওই মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীর মালিকানাধীন ছয়টি কোম্পানি এখনো বিদেশে সক্রিয়ভাবে আবাসন নির্মাণ (রিয়েল স্টেট) ব্যবসা পরিচালনা করছে। সেগুলোর মূল্য ১৬ দশমিক ৬৪ কোটি পাউন্ড বা ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা। ওই মন্ত্রী তাঁর হলফনামায় বিদেশে থাকা সম্পদের ব্যাপারে তথ্য দেননি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ওই মন্ত্রী ২০১০ সালে প্রথমে একটি কোম্পানি খোলেন, যার বর্তমান সম্পদ মূল্য ১ দশমিক ৭৩ কোটি পাউন্ড। এরপর ২০১৬ সালে আরেকটি কোম্পানি খোলেন, যার বর্তমান সম্পদ মূল্য ৭ দশমিক ৩১ কোটি পাউন্ড। ২০১৯ সালে তৃতীয় কোম্পানি খোলেন, যার বর্তমান সম্পদ মূল্য ২ দশমিক ৭৯ কোটি পাউন্ড। তিনি ২০২০ সালে চতুর্থ কোম্পানি চালু করেন, যার সম্পদ মূল্য ২ দশমিক ১৫ কোটি পাউন্ড এবং ২০২১ সালে পঞ্চম ও ষষ্ঠ কোম্পানি খোলেন, যেগুলোর বর্তমান সম্পদ মূল্য ৩ দশমিক ২২ কোটি পাউন্ড। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর নাম জানতে চাইলে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যেহেতু তথ্য গোপনের ব্যাপার রয়েছে এবং তিনি (মন্ত্রী) নিজে তা প্রকাশ করেননি। সে কারণে তাঁর নাম প্রকাশ করা টিআইবির এখতিয়ারবহির্ভূত। তবে সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষ যদি টিআইবির কাছে তথ্যসূত্র জানতে চায়, তাহলে তাঁরা তথ্যপ্রমাণসহ তা দেবেন।

পাকিস্তান আমলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ২২জন কোটিপতি ছিলেন। তা নিয়ে ওই সময়ে রাজনীতির মাঠ সরগরম ছিল। তবে ঐ কোটিপতিরা রাজনীতির মাঠে নামতেন না। এখন কিছু টাকা হলেই অনেকে জাতীয় সংসদের সদস্য হতে চান। এখন কেউ আর খ্যাতিম্যান, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, ক্রিকেটার কিংবা নায়ক, নায়িকা, গায়ক, গায়িকার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে থাকতে চান না। এমপি তাদের হতেই হবে! এজন্য মমতা থেকে শুরু করে ডলি সায়ন্তনি, মাহিয়া মাহি, ফেরদৌস, সাকিব, মাশরাফি সবাই এখন এমপির দৌড়ে। আসলে এমপি না, তারা ওই বিপুল সম্পদের মালিক মন্ত্রীর মতো সম্পদের পাহাড় গড়তে চান।

টিআইবির রিপোর্টে দেখা যায়, অস্থাবর সম্পদের ভিত্তিতে এবারের নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা রেকর্ড গড়েছে। এক দশক আগে দশম সংসদ নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থী ছিলেন ২০২ জন। এবারের নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ৫৭১ জন। এত কোটিপতি প্রার্থী অতীতের কোনো নির্বাচনেই ছিলেন না।

টিআইবির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১০০ কোটি টাকার বেশি আছে এমন প্রার্থীর সংখ্যা এবার ১৮ (মোট প্রার্থীর ১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ)। ১ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকার মালিক মোট প্রার্থীর ২১ দশমিক ২০ শতাংশ, ১০ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার মালিক প্রার্থীদের ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। ৫০ কোটি থেকে ১০০ কোটি টাকার মালিক ১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। (সূত্র প্রথম আলো অনলাইন)।

আর কয়েকদিন পরেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। টেলিভিশনের খবর ও সংবাদপত্রের পাতায় জমে উঠেছে নির্বাচন। গতবার কাগজে-কলমে জাতীয় পার্টি বিরোধীদল হলেও এবার তা নিয়ে গোল বেধেছে! জাতীয় পার্টি, স্বতন্ত্র, তৃণমূল বিএনপি না অন্য কোন দল যে বিরোধী দল হবে-তা জানতে হলে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এই অবস্থায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দল কে হবে- সে বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানতে চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে একই কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। (সূত্র মানবজমিন অনলাইন)।
তবে সব কথার শেষ কথা বলেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনে গুরুতর অসদাচরণ করলে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। কয়েকজন প্রার্থীকে এরই মধ্যে নোটিশ দিয়ে ডেকেও পাঠিয়েছি। আমরা শতভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারি আগের রাতে ভোট হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটবে না, সুযোগও নেই। এ জন্য অনেক কেন্দ্রে ব্যালট পেপার সকালে যাবে। এমনকি কোনো রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে ভোটের ফলাফল পরিবর্তনেরও কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের আইস ফ্যাক্টরি রোডে পিটিআই মিলনায়তনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ সব কথা বলেন। (সূত্র সমকাল অনলাইন)। এখন দেখার বিষয় শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কী রকম হয়?




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!