খুলনা, বাংলাদেশ | ২৯ আষাঢ়, ১৪৩১ | ১৩ জুলাই, ২০২৪

Breaking News

  কুষ্টিয়ায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল ২ রাজমিস্ত্রির
  পঞ্চম বর্ষে পা রাখলো ‘খুলনা গেজেট ‘। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সকল পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা।

ভুল অস্ত্রোপচারে মৃত রোগীর দাফন : দু’লাখ টাকায় দফারফা!

জীবননগর প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ইবনে সিনা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে মৃত্যু বরণ করা নওয়াজেস হোসেনকে (৪৮) দাফন করা হয়েছে। এদিকে বিষয়টি মীমাংসার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে ২ লাখ টাকা দিয়েছে ক্লিনিক কতৃপক্ষ। বিষয়টি মীমাংসার সময় নওয়াজেসের স্বজনসহ কেডিকে ইউপি সদস্য সৈয়দ আলী মোল্লা উপস্থিত ছিলেন। নওয়াজেস হোসেন উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে এগারোটার সময় কাশিপুর দক্ষিণ পাড়া কবরস্থানে তার লাশ দাফন সম্পূর্ণ হয়েছে। এর আগে গত বুধবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নওয়াজেসের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান,পল্লি চিকিৎসক কায়দার আলী তাকে গত ৭তারিখে জীবননগর ইবনে সিনা ক্লিনিকে নিয়ে যান। ক্লিনিকের মালিক আব্দুল জব্বার বিভিন্ন পরীক্ষা করার পর বলেন হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করতে হবে। আগামী কাল সকালে তাকে অস্ত্রোপচার করা হবে।কিন্তু কাউকে না জানিয়ে সেই দিন রাত ৮টার দিকে তাকে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে গত ২১ তারিখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর জানায় তার ভুল অস্ত্রপচার করা হয়েছিল। তাকে আইসিইউতে রাখতে হয়েছিলো। পিলাস্টিকের নাড়ীর মাধ্যমে তিনি বাথরুম করতে। বুধবার বিকাল আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে ভুল চিকিৎসায় নওয়াজেসের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ক্লিনিক মালিকদের কোনঠাসা করে একটি ঘরে আটকিয়ে রাখেন। পরে দুই লাখ টাকার চেক দিয়ে বিষয়টি দফারফা করেন কর্তৃপক্ষ।
মৃত ব্যক্তির ভাই মস্ত বলেন, হার্নিয়ার অপারেশন করতে গিয়ে নওয়াজেস মারা গেছেন। তার দুই স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা থানা পুলিশ না করে মেম্বারের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করে নিয়েছি।

কেডিকে ইউপি সদস্য সৈয়দ আলী মোল্লা বলেন,নওয়াজেসের পরিবারের সদস্য ও তার স্বজনরা উপস্থিত থেকে বিষয়টি দুই লাখ টাকা সমাধান হয়েছে। স্থানীয় কায়দার ডাক্তার জিম্মাদার হয়ে সাতদিন সময় নিয়ে একটা চেক দিয়েছেন। এসময় আমি ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলাম।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এস এম জাবীদ হাসান বলেন, এবিষয়ে মৃত ব্যক্তি পরিবার মঙ্গলবার একটি অভিযোগ দেন; তবে মৃত্যুর বিষয়ে এখনও কিছুই জানাইনি। তবে মামলার এজাহার দিলে আমার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

খুলনা গেজেট/কেডি




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!