খুলনা, বাংলাদেশ | ১৩ ফাল্গুন, ১৪৩০ | ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

Breaking News

  তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন ভারতের বিমানবাহিনী প্রধান
  ভারতের জনপ্রিয় গজল শিল্পী পঙ্কজ উদাস মারা গেছেন

ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আগুন থামান, অন্যাথায় সবাইকে জ্বলতে হবে : হাইকোর্ট

গেজেট ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারকের সঙ্গে আইনজীবীদের বাকবিতণ্ডার ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। তিনি বলেছেন, ‘সবাই মিলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আগুন থামান। অন্যথায় আমাদের সবাইকে জ্বলতে হবে।’

তলবাদেশে আইনজীবীরা হাজির হওয়ার পর এ বিষয়ে শুনানিকালে মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব মন্তব্য করেন। আদালতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইনজীবীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুন নুর দুলাল, অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন।

শুনানির শুরুতে অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বার নেতৃবৃন্দের পক্ষে আদালতকে বলেন, আদালত অবমাননার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য আমরা দুই মাস সময় প্রার্থনা করছি।

আদালত অবমাননার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য দুই মাস সময় প্রার্থনা করায় আদালত বলেন, আপনারা কি কনটেস্ট করতে চাচ্ছেন?

আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, আমরা ব্যাখ্যা করবো। এ কারণে সময় চাইছি। আদালত বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা সারাবিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আদালত অবমানার রুল জারির পর থেকে এ বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নজির দেখেছি, পড়েছি। পৃথিবীর কোথাও আদালত কক্ষে এ রকম ঘটনা ঘটেনি। সভ্যতা বিবর্জিত ঘটনা। আমরা কোন দিকে যাচ্ছি সেটা আমাদের সবার ভাবার বিষয়।

এসময় আইনজীবী নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলেন, কোনও কোর্ট বর্জন করবেন না। সবাই মিলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আগুন থামান। অন্যথায় আমাদের সবাইকে জ্বলতে হবে। এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে আইন-আদালত বলে কিছু থাকবে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বার সভাপতিকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, আপনি তো শুধু আইনজীবী নন। আপনি আইনজীবী নেতা। মানুষ যখন বড় পদে যায়, তখন আরও বিনয়ী হয়। তার দায়িত্ব বেড়ে যায়।

আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বার সভাপতি আইনজীবী সমিতির সব সদস্যের পক্ষে কথা বলেছেন। এটা বারের সিদ্ধান্ত ছিল। উনি ব্যক্তিগত স্বার্থে এটা করেননি। তিনি সাধারণ আইনজীবীদের স্বার্থে কথা বলেছেন।

হাইকোর্ট বলেন, আদালত তো শক্তি প্রদর্শনের জায়গা নয়। শুধু ভোটের চিন্তা করবেন না। আমাদের সবার ইমেজের বিষয়। আদালতকে অসম্মান করতে থাকলে এটা কারও জন্য শুভ হবে না। আদালতকে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। তাহলে আপনারা সম্মান পাবেন। আদালত না থাকলে আপনারাও থাকবেন না। অনেকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন আদালত।

এ পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য সময় আবেদন করেন।

তখন আদালত বলেন, আমরা সময় দিতে পারি। আপনারা পরিস্থিতি কুল ডাউন (শান্ত) করুন। কোনও কোর্ট বর্জন করবেন না।

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি মোমতাজ উদ্দিন ফকির, সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুন নুর ‍দুলাল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা, শাহ মঞ্জরুল হক আদালতকে বলেন, আমরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছি। কাজ শুরু করেছি। আমাদের সময় দিন।

আদালত বলেন, আপনারা পরিস্থিতি কুল ডাউন করুন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আমরা কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখবো। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা জুডিসিয়ারিকে ধ্বংস হতে দিতে পারি না। আমরা প্রতি মুহূর্ত পর্যবেক্ষণ করছি।

এ সময় সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি মোমতাজ উদ্দিন ফকির আদালতকে উদ্দেশ করে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় আপনারা আইনজীবীদের তলব করলেন। আদালত অবমানার রুল জারি করলেন। কিন্তু বিচারকদের প্রতি আদালত অবমাননার রুল জারি করলেন না। বিচারকদের বিরুদ্ধেও আদালত অবমাননার রুল জারি করুন। আইনজীবীদের সঙ্গে বিচারক খুব খারাপ আচরণ করেছেন। আমরা কতদিন এই আচরণ সহ্য করবো?

এ সময় আদালতে উপস্থিত আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতির বক্তব্যর প্রতি সমর্থন জানিয়ে উচ্চস্বরে ঠিক ঠিক বলে ওঠেন।

জবাবে আদালত বলেন, এটা সত্যিই অপ্রত্যাশিত। এখানে কি বার আর বেঞ্চের যুদ্ধ শুরু হয়েছে? এজলাস কক্ষে কি বাইরে থেকে লোক ঢুকেছে? সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা তো এ রকম করতে পারে না।

তখন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা এটা করতে পারেন না। সবাই চুপ করুন।

আদালত বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। বিচারকের ভুল করতে পারেন। এর জন্য প্রধান বিচারপতি, আইনমন্ত্রী আছেন। তাদের কাছে বিচার চাইতে পারতেন। আদালত তো শক্তি প্রদর্শনের জায়গা নয়। আমাদের জুডিসিয়ারির অস্তিত্বের বিষয়। পরিস্থিতি কুল ডাউন করুন। আপনারা ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আগুন থামান। অন্যাথায় এই আগুনে সবাইকে জ্বলতে হবে।

পরে আদালত ব্যাখ্যার বিষয়ে সময় আবেদন গ্রহণ করে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করেন।

এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ ফারুকের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও অশালীন আচরণের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টকে অভিযোগ করা হয়। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে রেজিস্ট্রার জেনারেল বিচারকের অভিযোগটি বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠান। এরপরই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের তলব করেন হাইকোর্ট।

খুলনা গেজেট/কেডি




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!