খুলনা, বাংলাদেশ | ৩১ আশ্বিন, ১৪২৮ | ১৬ অক্টোবর, ২০২১

Breaking News

  আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৪
  সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় বিএনপি’র হাত আছে : ওবায়দুল কাদের
  কুমিল্লায় ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, শিশুসহ তিন যাত্রী আহত
  রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে ৫ কেজি আইস, অস্ত্র ও গুলিসহ টেকনাফ মাদক সিন্ডিকেটের সদস্য খোকনসহ গ্রেপ্তার ২

প্রতিবেশীদের সাথে আদব (পর্ব : ১৪)

মুফতি জুবায়ের হাসান

এক প্রতিবেশীর জন্য অপর প্রতিবেশীর ওপর যেসব অধিকার পুরাপুরিভাবে আদায় করা এবং একে অপরের সাথে যেসব আদব রক্ষা করে চলা ওয়াজিব, মুসলিম ব্যক্তি সেগুলোর যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান করে; এই স্বীকৃতির মূল কারণ হল, আল্লাহ তা‘আলা এরশাদ করেছেন:
وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ

আর তোমরা … পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী ও দুর-প্রতিবেশীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করো। -সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৬

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ، حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ
জিব্রাঈল আ. এসে আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে অবিরত উপদেশ দিতে থাকলেন; এমনকি আমার মনে হল, হয়ত তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারিশ বানিয়ে দিবেন। -সহীহ বুখারী, হাদিস নং- ৬০১৫

তিনি আরও বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে। -সহীহ বুখারী, হাদিস নং- ৫৬৭৩

এ জন্য প্রতিবেশীর হক আদায়ের ব্যাপারে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখাঃ

১. তাকে কথায় বা কাজের দ্বারা কষ্ট না দেওয়া; কারণ, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। -সহীহ বুখারী, হাদিস নং- ৬০১৮

২. তার উপকার করা; আর এটা এভাবে সম্পন্ন হবে— যখন সে তার কাছে সাহায্য চাইবে, তখন সে তাকে সাহায্য করবে; যখন সহযোগিতা চাইবে সহযোগিতা করবে; যখন সে অসুস্থ হবে, তখন তার সেবা করবে; যখন সে আনন্দিত হবে, তখন তার আনন্দের অংশীদার হবে; আর যখন বিপদগ্রস্ত হবে, তখন তাকে সমবেদনা জ্ঞাপন করবে; যখন সে কোনো কিছুর অভাব অনুভব করবে, তখন তাকে সহযোগিতা করবে; তাকে আগে আগে সালাম প্রদান করবে; তার সাথে কোমল ব্যবহার করবে; তার সন্তানের সাথে কথা বলার সময় মমতা প্রদর্শন করবে; যে পথে তার দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ হবে, তাকে সে পথ দেখাবে; তার দিকে খেয়াল রাখবে এবং তার সীমানা সংরক্ষণ করবে; তার ভুল-ভ্রান্তি মার্জনা করবে এবং তার গোপন বিষয় জানার চেষ্টা করবে না; তার ভবন বা চলার পথকে সংকীর্ণ করে দেবে না; ছাদের পানি নিষ্কাশনের নল বা ময়লা অথবা তার বাড়ির সামনে আবর্জনা নিক্ষেপ করার দ্বারা তাকে কষ্ট দেবে না; আর এসব কিছুর অর্থই হল তার প্রতি ইহসান বা সদ্ব্যবহার করা, যে ব্যাপারে কুরআন ও হাদিসে বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

৩. তাকে ভালো ও কল্যাণকর কিছু দেয়ার মাধ্যমে সম্মান করা; কেননা, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: “হে মুসলিম রমনীগণ! কোনো প্রতিবেশিনী যেন অপর প্রতিবেশিনীকে তুচ্ছজ্ঞান না করে, এমনকি বকরীর একটি ক্ষুর উপঢৌকন পাঠালেও নয়।-সহীহ বুখারী, হাদিস নং- ৬০১৭

হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ কে লক্ষ্য করে বললেন: আমার তো দুইজন প্রতিবেশী আছে, আমি তাদের কার কাছে উপঢৌকন পৌঁছাবো? তখন তিনি বললেন: “উভয়ের মধ্যে যার ঘর তোমার বেশি কাছে হয়, তার কাছে পাঠাও। -বুখারী, হাদিস নং- ৬০২০

৪. তাকে সম্মান ও কদর করা; সুতরাং সে তাকে নিজের পক্ষ হতে সুবিধা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত করবে না এবং তাকে জিজ্ঞাসা না করে তার সাথে সংযুক্ত বা তার নিকটবর্তী কোনো কিছু বিক্রয় করবে না বা ভাড়া দেবে না।

দু’টি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণী:

প্রথমত: মুসলিম ব্যক্তি যখন তার প্রতিবেশীদের কাছে ভালো কিংবা মন্দ হবে, তখন সে নিজেই নিজেকে চিনতে পারবে; কেননা, রাসূলুল্লাহ ﷺ এ বিষয়ে প্রশ্নকারী এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলেন: “যখন তুমি তোমার প্রতিবেশীদেরকে বলতে শুনবে তুমি ভালো, তখন তুমি প্রকৃতই ভালো; আর যখন তুমি তাদেরকে বলতে শুনবে তুমি মন্দ, তখন তুমি প্রকৃতই মন্দ।

দ্বিতীয়ত: যখন কোনো মুসলিম ব্যক্তি তার প্রতিবেশীর দ্বারা দুর্ভোগের শিকার হবে, তখন সে যেন ধৈর্যধারণ করে; কারণ, তার ধৈর্যধারণ অচিরেই তার থেকে মুক্তির কারণ হবে; জনৈক ব্যক্তি নবী ﷺ এর কাছে এসে তার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন: “তুমি ধৈর্যধারণ কর; অতঃপর চতুর্থ অথবা তৃতীয় বারে তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন: তুমি তোমার মালপত্র রাস্তার মধ্যে ফেলে দাও, তারপর সে তাই করল; অতঃপর জনগণ তার পাশ দিয়ে পথ চলতে গিয়ে বলতে শুরু করল: তোমার কী হয়েছে? তখন সে বলল: তার প্রতিবেশী তাকে কষ্ট দিয়েছে; তারপর তারা বলতে শুরু করল: আল্লাহ তাকে ‘লানত’ করুন; অতঃপর তার প্রতিবেশী তার নিকট আসল এবং বলল: তুমি তোমার মালপত্র ফিরিয়ে নাও; আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে আর কখনও কষ্ট দেব না।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে প্রতিবেশীদের হক আদায়ের ব্যাপারে আরও যত্নবান হওয়া এবং তাঁদের প্রতি জুলুম ও অসদাচরণ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692