খুলনা, বাংলাদেশ | ১৪ ফাল্গুন, ১৪৩১ | ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

Breaking News

  অপারেশন ডেভিল হান্টে ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে গ্রেপ্তার ৭৪৩

পাবলিক টয়লেটের দুর্গন্ধে বসবাসকারীদের দুর্ভোগ, পরিবেশ দূষণ

একরামুল হোসেন লিপুু

কেসিসি ১নং ওয়ার্ডের খুলনা-যশোর মহাসড়কের মাইল পোস্ট নামক স্থানে ৩টি পাবলিক টয়লেটের কারণে ওই এলাকায় পরিবেশ দূষণ দেখা দিয়েছে। সেফটি ট্যাংকি পরিষ্কার করে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলানোর কারণে টয়লেটের পাশে বসবাসকারীরের প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বসবাসকারীরা বিষয়টি সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করেছে।

এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, প্রায় ২৫/৩০ বছর পূর্বে পাট ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক নিজস্ব পাট গোডাউনের পার্শ্ববর্তী সরকারি ডিসিআরের জায়গার উপর নিজস্ব খরচে তিনটি পাবলিক টয়লেট তৈরি করেন। পাবলিক টয়লেটের পাশেই ডিসিআরের সম্পত্তির উপর ১৫/২০টি পরিবার বসবাস করে। এছাড়া পাবলিক টয়লেট লাগোয়া এলাকাবাসীর যাতায়াতের জন্য সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নির্মিত তিন ফুট চওড়া একটি ঢালাইয়ের রাস্তা রয়েছে। পাবলিক টয়লেটটি’র পাশেই রয়েছে একটি ডোবা। টয়লেটে সেফটি টাংকি ভর্তি হওয়ার পর সেই বজ্রগুলো ডোবার পাশে ফেলা হলে সেগুলো ডোবার পানিতে জমা হয়। ফলশ্রুতিতে বসবাসকারী পরিবারগুলিকে দুর্গন্ধের কারণে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এছাড়া সড়কটি দিয়ে যাতায়াতকারীদেরও দুর্গন্ধের কারণে নাক বন্ধ করে যাতায়াত করতে হয়।

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ময়লা আবর্জনা মলমূত্রসহ ডোবার পানিতে বসতিগুলোর উঠান তলিয়ে যায়। তখন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করে।

জানা যায়, টয়লেটের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসকারী প্রত্যেকের আলাদা টয়লেট রয়েছে। টয়লেট তিনটি স্বাস্থ্যসম্মত নয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে উঠেছে। জনসাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। টয়লেটের মলমূত্র সড়কের পাশে ডোবায় এসে জমা হয়। বাথরুমের টাঙ্কি ভর্তি হওয়ার পর সেফটি ট্যাংকির ময়লা বসতির ভেতর জোরপূর্বক ফেলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্গন্ধের কারণে বসবাস করতে সমস্যা সৃষ্টি হয়। টয়লেটের ময়লার কারণে পার্শ্ববর্তী ডোবার পানি ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।

টয়লেটের পার্শ্ববর্তী বসবাসকারী সুফিয়া বেগম বলেন, ‘খোলা পায়খানার কারণে এখানে বসবাস করতে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয়। পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করা অযোগ্য হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধের কারণে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারি না।’

কোহিনুর বেগম বলেন, ‘খোলা পায়খানার কারণে দুর্গন্ধে আমরা টিকতে পারি না। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারি না। সামনে রমজান মাস। আমাদের চিন্তা হচ্ছে রোজা রেখে দুর্গন্ধে কিভাবে থাকবো?’

ফাতেমা বেগম বলেন, খোলা বাথরুমের কারণে নামাজ পড়ার সময় সেজদায় গেলে নাকের ভিতর দুর্গন্ধ ঢুকে। ঠিকমতো নামাজও পড়তে পারি না। একটা অস্বস্তিকর অবস্থা। পথচারী এবং আশেপাশের পুরুষেরা অনেক সময় বসতীর দিকে মুখ করে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়। তখন আমরা মহিলারা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ি। বাথরুম ভরে যাওয়ার পর স্থানীয় কিছু লোকজন যারা বাথরুমটি ব্যবহার করেন তারা ট্যাংকীর ময়লা আবর্জনা পুকুর সংলগ্ন গলি দিয়ে ফেলে। পরবর্তীতে ময়লাগুলো বসতির ভিতর চলে আসে।

তিনি আরও বলেন, আশেপাশে বসবাসকারী সবার ব্যক্তিগত বাথরুম রয়েছে। তারপরেও এটা অযথা ব্যবহার করছে। এর ফলে এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

টয়লেট সংলগ্ন বসবাসকারীরা অপ্রয়োজনীয় টয়লেট তিনটি দ্রুত অপসারণের জন্য খুলনা সিটি কর্পোরেশনের যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!