খুলনা, বাংলাদেশ | ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ | ১৯ মে, ২০২২

Breaking News

  ২২ মে পর্যন্ত বাড়ানো হলো সরকারি-বেসরকারি হজযাত্রী নিবন্ধনের সময়
  সংসদের বাজেট অধিবেশন বসছে ৫ জুন

পাইকগাছায় ধান-চিংড়ি সমন্বিত চাষে জমি মালিকদের স্মারকলিপি

পাইকগাছা প্রতিনিধি

সুন্দরবন উপকূলীয় পাইকগাছায় ধান চাষের পাশাপাশি চিংড়ি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বুধবার (৫ জানুয়ারী) ইউএনও বরাবর চিংড়ি চাষীরা স্মারকলিপি প্রদান করে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, উপজেলার দেলুটি ও জিরবুনিয়া মৌজায় গত প্রায় ৩ দশক ধরে ১১ হাজার ১ শ’ বিঘা জমিতে চিংড়ির পাশাপাশি ধান চাষ হয়ে আসছে। যেখানে বছরের শ্রাবণ মাস পর্যন্ত লবণ পানির চিংড়ি চাষ এরপর নদীর পানি মিষ্টি হওয়ায় একই জমিতে ধান চাষও হয়ে আসছে।

এদিকে পরিবেশ রক্ষার কথা বলে সম্প্রতি একটি মহল উপজেলা অভ্যন্তরে লবণ পানি উঠানো বন্ধের দাবীতে তৎপর রয়েছে। ইতোমধ্যে লবণ পানির উত্তোলন বন্ধে তারা জমি মালিকদের একাংশকে সংঘবদ্ধ করে সভা-সমাবেশ ও আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। ঘটনায় সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন উপজেলা প্রশাসনও।

চিংড়ি চাষীসহ এর সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে অযৌক্তিক নানা বিষয়কে সামনে রেখে এলাকায় লবণ পানির উত্তোলন বন্ধ করলে অঙ্কুরেই বিনাশ হবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান চিংড়ি শিল্প ও বেকার হয়ে পড়বে এর সাথে সংশ্লিষ্টরা। স্মারকলিপিতে তারা ২১নং পোল্ডারের মৌজার খালগুলো অবমুক্ত করে খনন, ১৬ কিঃমিঃ ওয়াপদার বাঁধ সংস্কার ও তিনটি স্লুইচ গেটগুলো সংস্কারের দাবি জানান।

চিংড়ি ঘেরের জমি মালিকদের পক্ষে স্মারকলিপি প্রদান করেন, দেলুটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্মল কান্তি মন্ডল, আবুল হোসেন, নিরঞ্জন রায়, বিভুতি ভুবন রায়সহ অন্যান্যরা। একই সময়ে তারা জেলা প্রশাসকসহ ৫ টি দপ্তরে এর অনুলিপি প্রদান করেন। এব্যাপারে তারা খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবুকেও স্মারকলিপি প্রদান করবেন বলে জানান।

প্রসঙ্গত, পাইকগাছায় লবণ পানির চিংড়ির উৎপাদন বন্ধে মহল বিশেষ জমি মালিকদের একাংশকে সংঘবদ্ধ করে ইতোমধ্যে সভা-সমাবেশসহ আন্দোলন করে আসছে। অন্যদিকে ঘের মালিকরা চাইছেন, বছরের বৈশাখ থেকে আষাঢ়-শ্রাবণ পর্যন্ত নদীতে লবণ পানির অস্তিত্ব থাকে এরপর নদীর পানি মিষ্টি হয়ে যায়। এরপর মূলত অধিকাংশ এলাকায় কৃষকরা তখন ধান চাষ করে থাকেন। তবে ঘের মালিকদের অনেকে নানা ব্যস্ততায় ধানের আবাদ থেকে দূরে থাকেন। তবে পরিবেশ সৃষ্টি হলে জমি মালিকদের ধানের আবাদেরও আহ্বান জানান তারা।

তীব্র সংকটের মুখে সম্ভাবনাময় চিংড়ি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে চাষিরা ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে এক মতবিনিময় সভায় চিংড়ি চাষের ইতিবাচক বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তবে ইউপি চেয়ারম্যানদের একটি অংশ লবণ পানি উত্তোলনের বিপক্ষে মত দিয়ে তারা মিষ্টি পানিতে ধানের পাশাপাশি চিংড়ি চাষের দাবি জানান। এসময় তারা দাবি করেন, সারা বছর জমিতে লবণ পানি ধরে রেখে চিংড়ি চাষ করার ফলে জমির উর্বরতা ক্রমশ নষ্ট হচ্ছে। এর বিরুপ প্রভাবে এলাকার গাছপালা মরে যাচ্ছে, গো-খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। দেশীয় প্রজাতির মিষ্টিপানির মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে।

এছাড়া লবণ পানির চিংড়ি চাষের ফলে পানির ঢেউয়ের নিয়মিত আঘাতে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে পাকা ও কাঁচা রাস্তাসমূহ ভেঙ্গে মারাতœকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। শত শত ঘেরমালিক ওয়াপদার রাস্তা কেটে নীচ দিয়ে পানি সরবরাহ করে ক্ষতিগ্রস্থ করছেন। যেখানে রাস্তা কেটে পাইপ ঢোকানোর ফলে সেই এলাকা নিচু হয়ে নদীর জোয়ারের পানি প্রবেশ করে ভাঙ্গনসহ এলাকা লবণ পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। যদিও উপজেলা প্রশাসন থেকে এরআগে রাস্তার পাশের চিংড়ি ঘেরে বিকল্প বেঁড়ি বাঁধ দিয়ে চিংড়ি চাষের আহ্বান জানায়।

সর্বশেষ আন্দোলনের মুখে এদিকে লবণপানিতে চিংড়ি আর মিষ্টিপানিতে মাছের সাথে সাথিফসল হিসেবে ধান ও মাছ চাষের সম্ভাব্যতা যাচাইপূর্বক মতামত দিতে এ বিষয়ে একটি কমিটি হয়েছে। কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম। অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, কৃষি কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা, ১০ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, চিংড়ি চাষি সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১০ সদস্য।

এ বিষয় পাইকগাছা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র কুমার দাশ জানান, পরিকল্পিত উপায়ে আধুনিক পদ্ধতির চিংড়ি চাষ শুরু হলে জমিতে আর লবণপানি তোলা লাগবেনা।

পাইকগাছা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, পাইকগাছার সোলাদানা, গদাইপুর, দেলুটি ও গড়ইখালী ইউনিয়নে আশির দশক থেকে লবণপানিতে চিংড়ি চাষ হয়ে আসছে। এ এলাকায় চিংড়িঘেরের মাটি দীর্ঘদিন লবণ পানিতে ডুবে থাকায় নষ্ট হচ্ছে মাটির অনুজ। জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, বিষয়টি নিয়ে যতদ্রুত সম্ভব কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বসে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করা হবে।

খুলনা গেজেট/ এস আই




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692