খুলনা, বাংলাদেশ | ১৭ আষাঢ়, ১৪২৯ | ১ জুলাই, ২০২২

Breaking News

  গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৩৮০ জন ও আক্রান্ত হয়েছেন ৭ লাখ ১৯ হাজার ৪৮০ জন

দুধ পানে আমরা যেসব উপকার পাই

লাইফস্টাইল ডেস্ক

দুধ একটি আদর্শ ও প্রসিদ্ধ খাবার হিসেবে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। দুধে রয়েছে নানাবিধ পুষ্টিগুণ। দুধ মানুষের শরীরে নানাবিধ উপকার করে থাকে। অন্যান্য মাসের তুলনায় রমজান মাসে বাজারে দুধের প্রচুর চাহিদা পরিলক্ষিত হয়।

আসুন জেনে নিই দুধ মানুষের শরীরে কি কি উপকার সাধন করে থাকে :

১। দুধ স্নায়ু কোষ এবং মেমোরি কোষ সমূহকে পরিপুষ্ট করে, ফলে প্রতিভা বিকাশ ত্বরান্বিত হয়।

২। দুধ ক্যালসিয়ামের সবচাইতে ভালো উৎস । ক্যালসিয়াম আমাদের দাঁত ও হাড়ের গঠন মজবুত করে। এছাড়াও ক্যালসিয়াম ভিটামিন ডি এর সাহায্যে আমাদের হাড় ও দাঁতে শোষিত হয়ে হাড় ও দাঁতের গঠন দৃঢ় করে এবং দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।

৩। বাচ্চাদের ছোট কাল থেকেই দুধ পানের অভ্যাস করানো উচিত এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই অভ্যাসটি অপরিবর্তিত থাকলে দেহে বার্ধক্য আসবে দেরিতে।

৪। কর্মব্যস্ততার পর ক্লান্তি দূর করতে এক গ্লাস গরম দুধ খুবই উপকারী। গরম দুধ ক্লান্ত পেশি সতেজ করতে সাহায্য করে।

৫। দুধ খেলে শরীরে মেলটোনিন ও ট্রাইপটোফ্যান’ হরমোন নিঃসৃত হয়, এই হরমোনগুলো ঘুম ভালো হতে সাহায্য করে।

৬। দুধে রয়েছে কেজিন নামক উৎকৃষ্টমানের প্রোটিন যা মাংসপেশির গঠনে অনেক বেশি সহায়তা করে। দুধ মাংসপেশির আরষ্টতা দূর করতে সক্ষম হয়।

৭। দুধে রয়েছে পটাশিয়াম যা হৃদপিন্ডের পেশী সুস্থতা বজায় রাখে। তাছাড়া এর খনিজ উপাদান হৃদপিণ্ড সতেজ রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতেও সহায়তা করে।

৮। দুধে আছে প্রচুর ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা চুলের জন্য খুবই উপকারী।

৯। দুধের শর্করা হল ল্যাকটোজ, যেখানে স্বল্প পরিমাণে গ্লুকোজ থাকে। ল্যাকটোজ হলো মস্তিষ্কের খাদ্য। গ্লুকোজ কম থাকায় দুধ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য শ্রেষ্ঠ পানীয়।

১০। দুধ শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে। দুধে রয়েছে নানা ধরনের ভিটামিন মিনারেল ও নানা পুষ্টিগুণ। প্রতিদিন দুধ পান করলে ত্বক নরম কোমল ও মসৃণ হয়।

১১। দুধের অন্য একটি বড় গুণ হচ্ছে এটি মানসিক চাপ দূর করতে সহায়তা করে। দুধ পানে ঘুমের উদ্রেক হয়, যার ফলে মস্তিষ্ক শিথিল হয়ে যায় এবং মানসিক চাপ দূর হয়। সারাদিনের মানসিক চাপ দূর করে শান্তির নিদ্রা চাইলে প্রতিদিন রাতে এক গ্লাস কুসুম গরম দুধ পান করা উচিত।

১২। দুধ পানে পাকস্থলী ঠান্ডা হয় এবং বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা দূর করে। দুধে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি, ভিটামিন, মিনারেল রয়েছে যা দেহের ইমিউন সিস্টেম উন্নত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

১৩। এটি কোলেস্ট্রেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রক্ত পরিষ্কারের পাশাপাশি রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।

১৪। বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে পর্যাপ্ত দুধপান মলাশয় ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ মূলক কাজ করে। মলাশয়ের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে ক্যালসিয়াম ও দুধে স্বাভাবিকভাবে সৃষ্ট Conjugated Linoleic Acid(CLA) প্রতিরোধকমূলক কাজ করে থাকে।

১৫। যারা নিয়মিত দুধ ও দুগ্ধজাত গ্রহণ করেন, তাদের মধ্যে মলাশয়ের ক্যান্সার হবার হার কম।

১৬। নিয়মিত দুগ্ধজাত খাবার খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস এর ঝুঁকি হ্রাস পায়।

১৭। নিয়মিত দুধ খেলে আর্টারিওস্ক্যারোসিস(arteriosclerosis) এ আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচা যায়। এ রোগ হলে আমাদের আর্টারিগুলোর দেয়াল পুরু, শক্ত ও অস্থিতিস্থাপক হয়ে যায়। এতে শরীরের রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে হার্ট অ্যাটাক হতে পরে।

১৮। দুধ খেলে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

১৯। রাতে ঘুমানোর আগে প্রতিদিন এক গ্লাস গরম দুধ পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর হয়।

দুধ খাওয়ার ব্যাপারে সাবধানতা:
১। যাদের কিডনিতে পাথর হয়েছে তাদের দুধের ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। কিডনির পাথরের একটি উপাদান হচ্ছে ক্যালসিয়াম। আর দুধে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে। তাই এ ধরনের রোগীর উচিত দুধ কম খাওয়া এবং রাতে একেবারেই দুধ না খাওয়া।

২। যাদের শরীরে ‘ল্যাক্টেজ’ (lactase) নামক এনজাইমের অভাব আছে, তাদের উচিত দুধ খাওয়ার ব্যাপারে সাবধান হওয়া। ল্যাক্টেজ দুধ হজম করতে আমাদের সাহায্য করে। এটি দুধের উপাদান ল্যাক্টোজ (lactose)–কে ভেঙে দেয়। বস্তুত আমাদের শরীর সরাসরি ল্যাক্টোজ গ্রহণ করতে পারে না। তাই ল্যাক্টেজের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, যাদের শরীরে ল্যাক্টেজের অভাব আছে, তাদের দুধ খাওয়ার ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ শুনতে হবে।

৩। যাদের ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশের আলসার তথা ডিউডেনাল আলসার আছে বা যাদের ‘কোলেসিসটিটিস’ (cholecystitis) তথা গলব্লাডারের সমস্যা আছে তাদের উচিত দুধ খাওয়ার ব্যাপারে সাবধান হওয়া। কারণ, দুধ এই দুই ধরনের রোগীর রোগ আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।

৪। যাদের পেটে অপারেশান করা হয়েছে, তাদের দুধ খাওয়া ততদিন বারণ, যতদিন না তারা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠছেন। অর্থাৎ ঘা শুকিয়ে গেলে, তখন দুধ খাওয়া যাবে।

৫। যাদের শরীরে আয়রন বা লোহার অভাব পূরণের জন্য নিয়মিত আয়রন ট্যাবলেট খাচ্ছেন, তাদের উচিত দুধ না খাওয়া। দুধে ক্যালসিয়াম আছে, আছে ফসফেটও। এই পদার্থগুলো আয়রনের সাথে বিক্রিয়া করে আপনার শরীরের ক্ষতি করতে পারে। তাই যতদিন আয়রন ট্যাবলেট খাচ্ছেন, ততদিন দুধ খাওয়া বন্ধ থাকুক। যখন আয়রন ট্যাবলেট খাওয়া বন্ধ করবেন, তখন দুধ চলতে পারে আগের মতোই।

৬। যারা লিড (lead) বা সিসা নিয়ে কাজ করেন, তাদের উচিত দুধ খাওয়ার ব্যাপারে সাবধান হওয়া। সিসা আসলে এক ধরনের বিষ। অন্যদিকে, দুধে আছে ল্যাক্টোজ। ল্যাক্টোজ আমাদের শরীরে সিসাকে জমে থাকতে সাহায্য করে।ফলে শরীরে সিসার বিষক্রিয়াসহ পেট ব্যাথা , মাথা গরম হওয়া, অনিদ্রা রোগ হতে পারে।

৭। যারা পাকস্থলীর আলসার তথা গ্যাস্ট্রিক আলসারের রোগী, তাদেরও দুধ খাওয়া উচিত নয়। এ ধরনের রোগী দুধ খেলে পেট ব্যথা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন।

৮। যারা প্যানক্রিয়েটিটিস (Pancreatitis) বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ রোগে আক্রান্ত, তাদের উচিত দুধ না-খাওয়া। দুধে স্নেহজাতীয় পদার্থ আছে। এ ধরনের উপাদান হজমের জন্য পিত্ত ও অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত এনজাইম প্রয়োজন হয়। যদি অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি দুধ খান, তবে তার অসুস্থতা বেড়ে যাবে।

৯। এলার্জি থাকলে, দুধ খাওয়ার ব্যাপারে সাবধান হোন। কারণ, এলার্জির রোগীদের দুধ খেতে নিষেধ করেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। দুধ আপনার এলার্জি বাড়িয়ে দিতে পারে। এলার্জির রোগী দুধ খেলে তার পেট ব্যথা ও ডায়রিয়াও হতে পারে। তা ছাড়া, অন্ত্র ফুটো হয়ে রক্তপাতও হতে পারে।

(তথ্য সংগ্রহে আমাদের দিঘলিয়া প্রতিনিধি একরামুল হোসেন লিপু)

 




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692