খুলনা, বাংলাদেশ | ১ আশ্বিন, ১৪২৮ | ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

Breaking News

  ডেঙ্গুতে আরও ২৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি ; ঢাকায় ১৮২
  ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা রাসেল ও চেয়ারম্যান নাসরিন গ্রেপ্তার, ২১ অক্টোবরের মধ্যে মামলার প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ আদালতের

দিল্লিতে দলিত শিশুকে ধর্ষণ করে জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ, পুরোহিত গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মাত্র নয় বছরের একটি বাচ্চা মেয়েকে শ্মশানঘাটে ধর্ষণ করার পর ধর্ষণকারীরাই জোর করে তার দেহ জ্বালিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহতের পরিবার ও এলাকার বাসিন্দারা এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে ঘটনার প্রায় চব্বিশ ঘন্টা পর দিল্লি পুলিশ অভিযুক্ত একজন পুরোহিত ও তার তিনজন সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করেছে। দিল্লি সরকারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এই ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।

তবে বিভিন্ন দলিত সংগঠন বলছে, ধর্ষিতা মেয়েটি যেহেতু দলিত বা নিম্নবর্ণীয় সমাজের তাই এই ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধেও তেমন জোরালো প্রতিবাদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লিতে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার পাশ ঘেঁষেই রয়েছে একটি বাল্মিকী বস্তি, যে সম্প্রদায়ের লোকজন মূলত সাফাইকর্মী হিসেবেই জীবন ধারণ করেন।

যে নৃশংস ঘটনার বিরুদ্ধে ওই এলাকার বাসিন্দারা সোমবার থেকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন, সেটি ঘটেছিল তার আগের দিন রাতেই।

নিহত মেয়েটির মা বলছিলেন, “আমরা সেদিন গাঁয়ে গিয়েছিলাম-আর আমাদের বাচ্চা শ্মশানঘাটের ওয়াটার কুলার থেকে খাবার জল নিতে গিয়েছিল।”

“শ্মশানের মন্দিরের পুরোহিত বা পন্ডিতজি আমাদের ফোন করে হঠাৎ খবর দেয়, কুলার থেকে জল নিতে গিয়ে আমাদের মেয়ে নাকি কারেন্ট খেয়ে মারা গেছে।”

“সে রাতেই তাড়াহুড়ো করে ওর সৎকার করে দেওয়া হয়-কিন্তু আমাদের বিশ্বাস পন্ডিতজি আর ওর দলবল আমাদের মেয়েকে জীবন্ত পুড়িয়ে দিয়েছে।”

রাধেশ্যাম নামে মূল অভিযুক্ত ওই পুরোহিতকে সোমবার রাতেই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, সঙ্গে আটক করা হয়েছে লক্ষ্মীনারায়ণ, কুলদীপ ও সালিম নামে তার তিনজন সঙ্গীকেও। তাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে ধর্ষণ, হত্যা, ভয় দেখানো ও প্রমাণ লোপাট করা সহ বিভিন্ন অভিযোগ।

পুরানা নাঙ্গাল নামে ওই এলাকায় অবশ্য এখনও পুলিশের বিরুদ্ধে অসন্তোষ তীব্র। অনেকেই বলছিলেন চারজন অভিযুক্তকে পুলিশই জিপে করে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে-এবং তারা গরিব ও বাল্মিকী বলেই বিচার পাচ্ছেন না। কেউ কেউ আবার জানাচ্ছেন, নিহত মেয়েটির মা-বাবাকে থানার ভেতরেই উল্টে মারধর করা হয়েছিল।

“আর পুলিশের মদতেই ওই শ্মশানঘাটে বহুদিন ধরে চলছিল জুয়া, মদ্যপান ও নানা অসামাজিক কাজকর্মের আখড়া”, বলছিলেন এলাকার বাসিন্দারা।

এই মুহুর্তে অভিযুক্তদের মৃত্যুদন্ড ছাড়া তারা যে কোনও শাস্তিতেই সন্তুষ্ট হবেন না বাল্মিকীরা সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

পুরোহিত ও তার সঙ্গীদের ফাঁসির দাবিতে পুরানা নাঙ্গাল সরব হলেও দিল্লি সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী রাজেন্দ্র গৌতম ওই বস্তিতে গিয়ে কথা দিয়ে এসেছেন – দোষীদের অবশ্যই উপযুক্ত শাস্তি হবে।

মি গৌতম বলেন, “দেশের রাজধানীতে এমন ঘটনা ভাবাই যায় না। উত্তরপ্রদেশের দেহাত অঞ্চলে শোনা যায় ভিক্টিমের পরিবারকেই ভয় দেখিয়ে বয়ান বদলাতে বাধ্য করা হয়-কিন্তু দিল্লিতেও কেন এ জিনিস ঘটবে?”

“যদিও দিল্লিতে আইন-শৃঙ্খলা আর পুলিশ রাজ্য সরকারের হাতে নেই, তবু নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর দোষীরা যাতে সাজা পায় আমরা তা নিশ্চিত করব”, জানিয়েছেন তিনি।

তবে এরকম পাশবিক ঘটনাতেও দিল্লির প্রতিবাদ কেন স্তিমিত, দলিত সংগঠনগুলি এই প্রশ্নও তুলছে।

প্রায় ন’বছর আগে দিল্লিতে নির্ভয়া কান্ডে নামে পরিচিত ধর্ষণ মামলায় নিহত মেয়েটি যে উচ্চবর্ণের ছিল – এবং গোটা দিল্লি যে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবাদে মুখর হয়েছিল, দলিত নেতারা সখেদে সেটাও আজ মনে করিয়ে দিচ্ছেন। বিবিসি বাংলা।

 

খুলনা গেজেট/এএ




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692