খুলনা, বাংলাদেশ | ২১ আষাঢ়, ১৪২৯ | ৫ জুলাই, ২০২২

Breaking News

  গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে ৭০২ জনের মৃত্যু হয়েছে ও নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ২৯ হাজার ৬৬ জন

দিঘলিয়ায় নিলামের বাইরে ১২৮ টি গাছ কর্তনের সত্যতা মিলেছে

দিঘলিয়া প্রতিনিধি

ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিলামের বাইরে ১২৮ টি অতিরিক্ত সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি। কমিটির সদস্যরা গত ১৭ মে বেলা ৩ টা থেকে সন্ধা ৬ টা পর্যন্ত ঘটনাস্থল উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নের মাঝিরগাতী হতে সোনাকুড় পর্যন্ত রাস্তা সরজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে রাস্তার দুই পাশ হতে কর্তনকৃত গাছের সংখ্যা গণনা করে ৩৩৭ টি গাছের পরিবর্তে ৪৬৫ টা গাছ কর্তনের চিহ্ন পায়।
কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদার মোঃ হাবিবুর রহমান তারেক তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত বক্তব্য উল্লেখ করেন প্রতিনিয়ত তদারকি কর্মকর্তা সাইট ভিজিট করে গাছ কর্তনের কোন অসংগতি পান নাই। কাজ শুরু করার পূর্বেই ৩৫-৪০ টি গাছ কম ছিলো বলে তিনি দাবি করেন।

১৯ মে তদন্ত কমিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত কমিটি তাদের পর্যালোচনা ও সার্বিক মন্তব্যে উল্লেখ করেন, ৩৩৭ টি গাছের পরিবর্তে ৪৬৫ টি গাছ কর্তনের চিহ্ন পাওয়া যায় যা নিলামকৃত গাছ হতে ১২৮ টি বেশী। কার্যাদেশ বহির্ভূত বেশী গাছ কর্তনের বিষয়ে বিধি মোতাবেক উপজেলা পরিষদ কর্তৃক পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুবুল আলম উপজেলা ভূমি অফিস, দিঘলিয়া খুলনা এর ১৯/০৫/২০২২ ইং তারিখের ১৩৪ নং স্বারকের তদন্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে ২৪ মে উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর এক পত্রে উল্লেখ করেন, নিলামকৃত গাছ হতে ১২৮ টি গাছ বেশী কর্তন করা হয়েছে। কার্যাদেশ বহির্ভূত হওয়ায় এবং গাছের মালিক উপজেলা পরিষদ হওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপেক্ষিতে বিধি মাফিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হলো। যার স্বারক নং ৪৩৭। তাং ২৪/০৫/২০২২।

৩১ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গাজীরহাট ইউনিয়নের মাঝিরগাতী হতে সোনাকুড় সড়কের পার্শ্বে অবস্থিত মরা, শুকনা, ঝুঁকিপূর্ণ শিশু গাছসমূহ (যেখানে যে অবস্থায় আছে) প্রকাশ্যে নিলাম হয়। যার স্বারক নং ৩১৬ তাং ০৩/০৪/২০২২ ইং। একই দিন নিলাম মূল্যায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে দিঘলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও যুবলীগ নেতা (বর্তমানে সাময়িক বহিস্কৃত) এস এম হাবিবুর রহমান তারেককে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। নিলাম মূল্যায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা জমা দেওয়ার জন্য নোটিশ জারি করা হয় এবং ৫ এপ্রিল থেকে ৫ মে  এর মধ্যে ৩৩৭ টি শিশু গাছ কর্তনের আদেশ প্রদান করেন। সে মোতাবেক তিনি উল্লেখিত নিলামের টাকা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে প্রদান করেন। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিলামের বাইরে অতিরিক্ত সরকারি মূল্যবান গাছ কর্তনের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা ব্যাপী ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলীমুজ্জামান মিলনকে আহবায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির অন্য দুই সদস্য ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবু তারেক সাইফুল কামাল এবং উপজেলা বন কর্মকর্তা সৈয়দ আবুল হোসেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ মারুফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, উপজেলা পরিষদের সভা করে এ ব্যাপারে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খুলনা গেজেট/ টি আই




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692