খুলনা, বাংলাদেশ | ২০ মাঘ, ১৪২৯ | ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

Breaking News

  বিশ্বজুড়ে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ১ হাজার ৩০০ জন, আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ১০৪ জন
  আইএমএফের ঋণের ৪৭৬ মিলিয়ন ডলারের প্রথম কিস্তি পেয়েছে বাংলাদেশ

ড. মসিউর রহমান : ক্ষমতার প্রভাব যাকে স্পর্শ করতে পারেনি

একরামুল হোসেন লিপু

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতা পেয়ে নিজেকে প্রভাবমুক্ত রাখতে পেরেছেন এমন ব্যক্তির সংখ্যা খুব কমই। অধিকাংশই ক্ষমতার অপব্যবহার দাপটে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। কলুষিত করেছেন নিজেকে। ঘৃণিত হয়েছেন জনগণের কাছে। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ব্যক্তিদের তালিকায়  রয়েছেন ড.মসিউর রহমান। যিনি একটানা ১৩ বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিব ছিলেন। ১৯৬৫ সালে সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি) তে যোগদান করে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত একটানা ৩৩ বছর পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে শীর্ষ পদে চাকুরী করেছেন। এর মধ্যে দুইবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর’র চেয়ারম্যানের মতো লোভনীয় পদে চাকুরী করেছেন। ১৯৯৬ সালে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (ইআরডি)’র সচিব থাকাকালীন অবস্থায় অবসরে যান।

৩৩ বছর পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকুরী করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবেও টানা ১৩ বছর সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে ক্ষমতার প্রভাব তাকে কখনোই স্পর্শ করতে পারেনি। ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন কিংবা করছেন তার বিরুদ্ধে এমন কোন সংবাদে তিনি পত্রিকার শিরোনাম হননি। তিনি পত্রিকার শিরোনাম হয়েছেন একজন পেশাদার, সৎ, দক্ষ, কর্মঠ আমলা হিসেবে। সর্বদা সকল লোভ -লালসার ঊর্ধ্বে থেকে তিনি নিজেকে কলুষমুক্ত রেখেছেন। পদ্মা সেতু নিয়ে তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ কানাডীয় আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

ড.মসিউর রহমানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমানের কাছ থেকে জানা গেছে,  নৈতিকতা বিরোধী কোনো কাজ উনাকে দিয়ে কেউ করাতে পারেন না। নীতি এবং আদর্শের ব্যাপারে তিনি সর্বদা অটুট। রাষ্টের স্বার্থটাকেই তিনি সর্বদা প্রাধান্য দেন। যেটা আমি তার কাজের মাধ্যমে বহুবার প্রত্যক্ষ করেছি। তিনি বলেন, আমার জানামতে ১৯৯৬ সালে চাকুরী থেকে অবসর নেয়ার পর রাজধানীর গুলশানে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেন। খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সুগন্ধী এবং সেনহাটীতে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত কিছু জমিজমা রয়েছে। আমার জানামতে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলতে এতটুকুই। উনার নিজস্ব কোনো গাড়ি এবং বাড়ি নেই। রাজধানী ঢাকার রমনা ৩ নং হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে থাকেন এবং উনার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়িতে চড়েন”।

ড. মশিউর রহমান উচ্চ শিক্ষিত ভদ্র, বিনয়ী একজন মানুষ। চাল চলন, কথাবার্তা, আচার আচরণে খুবই মার্জিত। তার জন্ম এবং কৈশোর কেটেছে দিঘলিয়া উপজেলার সুগন্ধী গ্রামে। দুই বোনের আদরের একমাত্র ছোট ভাই। বড় বোন জাহানারা বেগম মারা গেছেন দীর্ঘদিন আগে। মেঝ বোন মনোয়ারা জাহান লাইলি জীবিত আছেন। পিতা এমএ জব্বার ব্রিটিশ আমলে এ অঞ্চলের একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি ছিলেন। ১৯১৪ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে চাকুরী করেছেন ব্রিটিশ এবং পাকিস্তান শাসনামলে। পিতার চাকুরীর সুবাদে পটুয়াখালী জেলার জুবলি হাই স্কুলে তার শিক্ষার হাতে খড়ি শুরু হয়। এরপর বাগেরহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সর্বশেষ বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর তার স্ত্রী মারা যান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে এবং এক কন্যা সন্তানের গর্বিত পিতা। দু’জনকেই নিজের মতো উচ্চশিক্ষিত করেছেন। ছেলে ফয়সাল এম রহমান অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা শেষ করে বেসরকারি নর্দান ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং বেসরকারি কোম্পানি এএফ সি হেলথ এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পিতার পিতার সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবনে থাকেন।

কন্যা নাহিদ রহমান লিপিও অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে সেখানে শিক্ষকতা করছেন।

বর্তমানে ড. মসিউর রহমানের বয়স ৮২ বছর। মেধাবী এবং দক্ষ আমলা হিসেবে রাষ্ট্রকে অনেক কিছু দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবেও রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে খুলনা তথা দক্ষিণাঞ্চলের গর্ব ড. মসিউর রহমানের নাম আলোচনার শীর্ষে রয়েছে বলে পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হচ্ছে।  আমাদের সকলের প্রত্যাশা বঙ্গভবনের শীর্ষ ঐ চেয়ারটিতে ড. মসিউর রহমানই অলংকৃত হোক।

লেখক : নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা গেজেট




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!