খুলনা, বাংলাদেশ | ১২ বৈশাখ, ১৪৩১ | ২৫ এপ্রিল, ২০২৪

Breaking News

  রাঙামাটির সাজেকে শ্রমিকবাহী মিনি ট্রাক পাহাড়ের খাদে পড়ে ৯ জন নিহত

চৌগাছায় বোরো মৌসুমে স্যালো মেশিন চুরির হিড়িক, চিন্তত কৃষক

চৌগাছা প্রতিনিধি

বোরো ধানের মাঠ থেকে স্যালো মেশিন চুরির ঘটনায় শংকিত হয়ে পড়েছেন যশোরের চৌগাছার কৃষকেরা। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চারটি স্যালো মেশিন ও পাম্প চুরির ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ চোররা কৃষকের মাঠ থেকে মাটি কাটা এসকেভেটর মেশিনের ব্যাটারীও চুরি করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

বোরো চাষের ভরা মৌসুমে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। জমিতে পানি দেয়া, জমি প্রস্তুত করাসহ নানা কজে ব্যস্ত। হাঁড় কাপানো শীতে কৃষক দিনের বেলায় জমিতে পানি দিয়ে সন্ধ্যার সাথে সাথে বাড়িতে ফিরছেন । আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে চোরচক্র কৃষকের বোরোধান চাষের অন্যতম অবলম্বন স্যালোমেশিন চুরিতে মেতে উঠেছে। গত দুই সপ্তাহে চৌগাছার ইছাপুর গ্রামের মাঠ ও পৌরসভার মাঠপাড়া মহল্লা হতে ১টি স্যালোমেশিন ১টি টিউবওয়েল ও ৩টি স্যালোমাশিনের পাম্প চুরি করে নিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ইছাপুর গ্রামের কৃষক মোফাজ্জেল হোসেন জানান, গত সপ্তাহে মাঠ হতে তার একটি স্যালোমেশিন ও টিউবওয়েল চুরি হয়ে গেছে। নিজের জমি ছাড়াও ওই স্যালোমেশিনের আওতায় অন্তত ১৫/১৬ বিঘা বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। অভাব অনাটনের সংসারে অনেক কষ্টে ধান চাষ করছি। অভাবের সংসারে ধান ক্ষেতের ব্যয় মিটাতে যখন হিমশীম খেতে হচ্ছে ঠিক সেই সময়ে স্যালোমেশিন চুরি হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে। আবারও ধারদেনা করে আর একটি স্যালোমেশিন কিনে জমিতে পানি দেয়া শুরু করেছি। একই রাতে পৌরসভার মাঠপাড়া,উপজেলার পূর্বপাড়া ও ইছাপুর গ্রামের মাঠ থেকে কৃষক বাবলুর রহমান,সাগর হোসেন ও আশাদুল ইসলাম আশার স্যালোমেশিনের পাম্প খুলে নিয়ে গেছে চোরেরা।

ভুক্তভোগী কৃষকরা বলেন, সংঘবদ্ধ চোরচক্র দীর্ঘদিন ধরে কৃষকের ক্ষতি করে যাচ্ছে। তারা বিভিন্ন সময়ে মাঠে থেকে ফসলও চুরি করছে। সম্প্রতি চোরেরা ইছাপুর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীরের জমি হতে কাঁচাকলা কেটে নিয়ে গেছে। এখন বোরো চাষের ভরা মৌসুম, এই সময়ে কৃষককে দেনা করে মাঠে ধান চাষ করতে হচ্ছে। তারমধ্যে যদি চুরির ঘটনা ঘটে তাহলে ক্ষতির শেষ নেই।

এদিকে শুক্রবার দিবাগত রাতে চৌগাছা-ঝিকরগাছা সড়কের পাশে মাঠের ভিতরে রাখা মাটিকাটা এসকেভেটরের ব্যাটারী খুলে নিয়ে গেছে চোররক্র।

এসকেভেটরের ব্যবসায়ী উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কামরুল ইসলাম বলেন, প্রতি দিনের মত শুক্রবার মাটি কেটে মাঠে রাখে সকলেই চলে যায়। সকালে এসে দেখতে পাই ব্যাটারী নেই। রাতের আধারে চোরেরা ব্যাটারী খুলে নিয়ে গেছে। বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি ছাগল-গরু চুরির ঘটনা প্রায় শোনা গেলেও কৃষকের ফসল ও স্যালোমেশিন চুরির খবর সকলকে ভাবিয়ে তুলেছে।

খুলনা গেজেট/ এসজেড




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!