খুলনা, বাংলাদেশ | ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ | ২৬ মে, ২০২৪

Breaking News

  ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়েছে ‘রেমাল’, মোংলা-পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৭ এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত
  উপকূলীয় এলাকায় লঞ্চ চলাচল বন্ধের নির্দেশ

গু‌লিস্তানে বিস্ফোরণ নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

গেজেট ডেস্ক

রাজধানীর গুলিস্তানের সিদ্দিক বাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক। এদিকে বিস্ফোরণ নিয়ে নানা তথ্য জানা যাচ্ছে।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ভবনটি পরিদর্শন করে বলেছে, ভবনের বেজমেন্টে বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে।

তবে ভবনের ধ্বংসস্তূপ, আহত ও নিহত হওয়ার ধরন দেখে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলটি মনে করছে, ভবনের বেজমেন্টের বদ্ধ কোনো কক্ষে গ্যাস জমে সেটি ‘গ্যাস চেম্বারে’ পরিণত হয়েছিল। সেখানে যেকোনো উপায়ে স্পার্ক (আগুনের স্ফুলিঙ্গ) হওয়ার পরই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য পাঁচটি উপায়ে গ্যাস জমতে পারে বলে মনে করছে তারা।

সম্ভাব্য পাঁচটি কারণ হলো—ভবনের মাটির নিচে পানির ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত হতে পারে; দুটি ভবনের মাঝখানে একটি সেপটিক ট্যাংক ছিল, সেখান থেকে গ্যাস নির্গত হতে পারে; বিচ্ছিন্ন হওয়া কোনো গ্যাসের লাইন থেকে গ্যাস জমতে পারে বা দেয়ালে মিথেন গ্যাস জমে থাকতে পারে; পয়োনিষ্কাশন লাইনের পাইপ লিকেজ হয়ে গ্যাস জমতে পারে এবং ভবনে থাকা বড় জেনারেটর থেকেও কোনোভাবে গ্যাস জমতে পারে।

সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) রহমত উল্লাহ চৌধুরী  বলেন, যেকোনো উপায়েই হোক ভবনের আবদ্ধ কক্ষে গ্যাস জমেছিল। সেখানে বৈদ্যুতিক শট সার্কিট বা অন্য কোনো উপায়ে স্পার্ক থেকে ভবনে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে।

এ বিস্ফোরণ কোনো নাশকতা নয় বলেও প্রাথমিকভাবে মতামত দিয়েছেন এডিসি রহমত উল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, কোনো বিস্ফোরক বা আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) সার্কিটের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কোনো বিস্ফোরক ব্যবহার হলে ধোঁয়ার সময় কোনো রঙিন বা কালো ধোঁয়া হয়। কিন্তু সেখানে এমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কোনো লাশের আঘাতের ধরনও বলছে এটি গ্যাস জমে বিস্ফোরণ হয়েছে। দগ্ধ ব্যক্তিদের আহত হওয়ার ধরন দেখে মনে হয়েছে, গ্যাসের স্তরটি তিন থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতায় ছিল। এতে মনে হয়েছে এই বিস্ফোরণ মিথেন গ্যাস থেকে হয়েছে।

বুধবার (৮ মার্চ) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ভবনের বেসমেন্ট এবং নিচতলা যথেষ্ট পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই যথেষ্ট প্রিপারেশন (প্রস্তুতি) নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিস্ফোরণের মূল কারণ জানা যাবে। আজ দ্বিতীয় দিনের মতো ভবনে উদ্ধার অভিযান চলছে।

এদিকে রাজধানীর গুলিস্তানের সিদ্দিক বাজারে মঙ্গলবার বিকেলের বিস্ফোরণ স্বাভাবিক নয় বলে বুধবার (০৮ মার্চ) দুপুরে মন্তব্য করেছেন র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের প্রধান মেজর মশিউর রহমান।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে পেয়েছি ভবনের বিস্ফোরণ বেজমেন্ট থেকে হয়েছে। এটা স্বাভাবিক কোনো বিস্ফোরণ নয়। গ্যাস জমে কিংবা অন্য কোনোভাবে বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ ঘটনা এসি থেকে ঘটেনি, এটা নিশ্চিত হয়েছি।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে উদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এখানে উপস্থিত আছে। তারা তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এবং রাজউকের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা ধ্বংসস্তূপ পর্যবেক্ষণ করেছি। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, এটা তদন্ত করে বের করা দরকার। এটি কোনো স্বাভাবিক কেমিক্যাল বিস্ফোরণের ঘটনা নাকি অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড, সেটা তদন্তের প্রয়োজন আছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি একটার পর একটা দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

‘আমরা অনেকগুলো প্রাণ হারিয়েছি। এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা। এ ঘটনার যাতে কোনো পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।’

কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন বাহিনীর যারা বিশেষজ্ঞ আছে, তারা তদন্ত করে সঠিক ঘটনাটি বের করবে। আমি মনে করি তারা যথেষ্ট যোগ্য। এগুলো তারা বোঝেন, জানেন এবং সে অনুযায়ী চেষ্টা করছেন।’

কেন অন্তর্ঘাতমূলক মনে হলো ঘটনাটি, তা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কামাল উদ্দিন বলেন, ‘তদন্তের আগে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত কোনো কিছু বলার অবস্থা আসেনি, তবে আমি অবাক হচ্ছি বেজমেন্টের একটি বিস্ফোরণে বহুতল ভবনের একাধিক তলা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো। এটা কী ধরণের বিস্ফোরক, সেটা বের করা প্রয়োজন, তবে এটা অন্তর্ঘাতমূলক ঘটনা নাও হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে যে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং সায়েন্স ল্যাবে যে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, এটা কিসের ইঙ্গিত, সেটা ভাল করে বোঝার দরকার রয়েছে। যে যেখানে আছেন, সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক কিছু দেখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে।

‘কয়েক বছর আগে আমাদের দেশে বেশ কিছু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়েছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সচেষ্ট হয়ে তাদের ধরেছে। তখন তদন্তে বের হয়েছিল কেউ কেউ এ ধরনের খারাপ কাজ করার চেষ্টা করছেন।’

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রয়োজন আছে কি না জানতে চাইলে মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখানে অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন আছে, তবে এখানে যারা বিশেষজ্ঞ আছে, তারাই তদন্ত করে বের করবে আসল ঘটনা কী।’

ঘটনার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছিলেন, সিদ্দিক বাজারের নর্থ সাউথ রোডে একটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। আমাদের যারা এক্সপার্ট আছেন, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে দেখেছেন এটা কোনো নাশকতামূলক ঘটনা না। অনেক সময় নানা কারণে বিস্ফোরণ হয়, কখনো মিথেন গ্যাস, কখনো এসির গ্যাস। এটা গ্যাসজনিত কোনো বিস্ফোরণ হতে পারে। এরপরও তদন্ত করে দেখা যাবে যে এটা নাশকতা, নাকি দুর্ঘটনা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে তারা নাশকতার পথে হাটছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখছি।

বুধবার সকালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিণ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনা নাশকতা কিনা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই সময়ে এ ধরণের ঘটনা রহস্যজনক।

 




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!