খুলনা, বাংলাদেশ | ৫ কার্তিক, ১৪২৭ | ২১ অক্টোবর, ২০২০

Breaking News

  ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ‘সংকটাপন্ন’, আছেন লাইফ সাপোর্টে
  সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী গ্রেপ্তার
  পাকিস্তানের ভিসা পেতে পদদলিত হয়ে ১৫ আফগান নিহত
  নভেম্বরে খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষামন্ত্রীর ইঙ্গিত
  এইচএসসির ফরম পূরণের আংশিক টাকা ফেরত পাবেন শিক্ষার্থীরা
সরেজমিন পরিদর্শনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের টীম

খুলনা ডেন্টাল কলেজ এন্ড হাসপাতাল হচ্ছে লবনচরা থানার পাশেই

আশরাফুল ইসলাম নূর

দেশের দ্বিতীয় পুর্ণাঙ্গ সরকারি ডেন্টাল কলেজ এন্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বিভাগীয় শহর খুলনায়। লবনচরা থানার পাশে ২০ একর জমি প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ডেন্টাল শিক্ষা) ডাঃ মোঃ মোশাররফ হোসেন খন্দকারের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সরেজমিন পরিদর্শন করেন। অত্যাধুনিক পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল কলেজটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দ্বোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে ওরাল এন্ড ডেন্টাল চিকিৎসা সেবা।

সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গেল বছরের ২৬ ডিসেম্বর যশোরে এক অনুষ্ঠানে খুলনায় ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। তার ঘোষণার প্রেক্ষিতে তৎকালীন স্বাস্থ্য সচিব বর্তমানে জনপ্রশাসন সচিব ইউসুফ হারুন, বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন ও দন্ত বিশেষজ্ঞ ডাঃ শহিদুজ্জামান বাবলু সম্ভাব্য জায়গা অনুসন্ধান শুরু করেন। শুরু হয় খুলনা ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। গত ৯ ফেব্র“য়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা-১ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বাকউল স্বাক্ষরিত এক স্মারকে একই বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) কে খুলনা বিভাগের খুলনা জেলায় একটি ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহে নীতিগত সম্মতি প্রদানের বিষয়টি অবহিত করেন। নবসৃষ্ট কলেজটির স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের লক্ষ্যে ভৌত অবকাঠামো সৃষ্টির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল ওই স্মারকে।

এরইমধ্যে, গত ১২ মার্চ খুলনা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ অসীম কুমার সাহাকে। তিনি ওএসডি হিসাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চাকুরিরত এবং কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে সংযুক্ত ছিলেন। জমি অধিগ্রহণ ও একাডেমিক কার্যক্রম চালুর বিষয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয় নবনিযুক্ত অধ্যক্ষকে। কলেজটি পূর্ণাঙ্গ রূপে প্রতিষ্ঠিত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দাঁতের চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে- মাথাভাঙ্গা মৌজার ২০ একর জমিতে খুলনা ডেন্টাল কলেজ এন্ড হাসপাতাল নির্মাণ হবে। তার পাশেই প্রস্তাবিত শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা-মাওয়া হাইওয়ে বাইপাস, অন্যপাশে খুলনা-মংলা রেল লাইন, পাশে প্রস্তাবিত একটি অত্যাধুনিক কিডনি হাসপাতাল, শেখ কামাল আইটি পার্কসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা গড়ে উঠবে।

আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডাঃ মোঃ মোশাররফ হোসেন খন্দকারের নেতৃত্বে সরেজমিন পরিদর্শন টীমে ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ জিয়াউর রহমান, স্বাচিপ’র কেন্দ্রীয় নেতা ও বিএমএ খুলনার সাধারণ সম্পাদক খুমেক উপাধ্যক্ষ ডাঃ মেহেদী নেওয়াজ, ডেন্টাল বিশেষজ্ঞ ডাঃ শাহীদুজ্জামান বাবলু প্রমুখ।

খুলনা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ শাহীদুজ্জামান বাবলু বলেন, খুলনায় কোন ডেন্টাল কলেজ নেই। প্রধানমন্ত্রী যশোর সফরকালে বিভাগীয় কমিশনারকে আমি খুলনায় ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছিলাম। তিনি (বিভাগীয় কমিশনার) বলতেই প্রধানমন্ত্রী অগ্রাধিকারভিত্তিতে খুলনায় ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্র“তি দেন। এর ফলশ্র“তিতে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ডেন্টাল শিক্ষা) ডাঃ মোঃ মোশাররফ হোসেন খন্দকারের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। আশা করি দ্রুতগতিতে খুলনা ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হবে। দাঁতের চিকিৎসা সাধারণ মানুষের দ্বোরগোড়ায় পৌঁছাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ডেন্টাল শিক্ষা) ডাঃ মোঃ মোশাররফ হোসেন খন্দকার বলেন, স্থানটি ডেন্টাল কলেজের জন্য উপযুক্ত মনে হয়েছে। বিভাগীয় শহর খুলনায় ডেন্টাল কলেজের অসীম প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেভাবেই দ্রুততার সাথে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, নগরীর লবনচরা থানার পাশেই হবে খুলনা ডেন্টাল কলেজ। তার পাশেই প্রস্তাবিত শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, নির্মাণাধীন খুলনা-মংলা রেল লাইন এবং পদ্মাসেতু। এসব নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে খুলনার চিত্র পাল্টে যাবে। সেদিন আমি থাকবো না, তবে খুলনাবাসীর জন্য কিছু করে যেতে পারছি- সেখানেই আমার তৃপ্তি।

খুলনা গেজেট/এআইএন

আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692