খুলনা, বাংলাদেশ | ১ আশ্বিন, ১৪২৮ | ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

Breaking News

  ডেঙ্গুতে আরও ২৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি ; ঢাকায় ১৮২
  ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা রাসেল ও চেয়ারম্যান নাসরিন গ্রেপ্তার, ২১ অক্টোবরের মধ্যে মামলার প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ আদালতের

খুলনা গভঃ ল্যাবরেটরী হাইস্কুলে নানা সংকট, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

একরামুল হোসেন লিপু

নগরীর খানজাহান আলী থানার তেলিগাতী মৌজার ৪ দশমিক ৪৪ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী গভঃ ল্যাবরেটরী হাইস্কুল। ১৯৬৫ সালে বিদ্যালয়টি নির্মিত হয়। ১৯৬৭ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে ৩৩ জন ছাত্র ০৮ জন সহকারী শিক্ষক, ২ জন করণিক ও ৩ জন পিওন নিয়ে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

তৎকালীন সরকার পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশে) খুলনা, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের জন্য সর্বোত্তম বিভাগ শ্রেষ্ঠ গবেষণাগার হিসেবে এ চারটি বিভাগে মাত্র চারটি গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

শুরুতে ৩য় শ্রেনী থেকে ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত ৬ টি শ্রেনীতে পাঠদান, ১৯৬৮ সালের ১জানুয়ারী থেকে ৯ম শ্রেনীর বিজ্ঞান ও মানবিক শাখায় পাঠদান। এর ১ বছর পর ১৯৬৯ সালের ১জানুয়ারী থেকে ১০ম শ্রেনীর বিজ্ঞান ও মানবিক শাখায় পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে বিদ্যালয়টিতে শুধুমাত্র ছাত্রদেরই ভর্তিপ্রথা ছিলো। স্বাধীনতার পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলদেশ সরকার পূর্বের শুধুমাত্র ছাত্র ভর্তির প্রথা বাতিল করে ছাত্র এবং ছাত্রী উভয়ই ভর্তি প্রথা চালু করে।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৩য় শ্রেনী থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত ১ হাজার ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যায়নরত আছে। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষা এবং পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

অত্র বিদ্যালয়ে সর্বমোট ২৭ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ১৯ জন। দীর্ঘদিন যাবৎ ৮ টি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। গণিত এবং রসায়নের মতো গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে কোন শিক্ষক নেই। বিজ্ঞান বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে ৬ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও শিক্ষক আছেন মাত্র ৩ জন। ভৌত বিজ্ঞান (ফিজিক্স এবং ক্যামেস্ট্রিতে) শিক্ষকের পদ রয়েছে ২টি, শিক্ষক আছেন মাত্র ১ জন। গণিতের শিক্ষকের পদ আছে ৩টি কিন্তু শিক্ষক আছেন মাত্র ১ জন। জীব বিজ্ঞানে শিক্ষকের পদ রয়েছে ২ জনের, আছেন মাত্র ১ জন। ফলে গুরুত্বপূর্ন এ বিষয়গুলোতে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে একদিকে বিদ্যালয়ের পাঠদান এবং শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে এ সকল বিষয়ের শিক্ষার্থীদের বাইরের কোচিং সেন্টার এবং প্রাইভেট শিক্ষকদের উপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে।

অন্যদিকে অফিস সহায়কের ৬ টি পদ দীর্ঘদিন যাবৎ শূন্য থাকার কারণে বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায়ও ব্যাঘাতের সৃষ্টি হচ্ছে। ৭ জন অফিস সহায়কের বিপরীতে আছেন মাত্র ১ জন।

শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় খুলনা অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এর উপ-পরিচালক এ এস এম আব্দুল খালেকের কাছে। তিনি খুলনা গেজেটকে বলেন, “শিক্ষক স্বল্পতা শুধুমাত্র গভঃ ল্যাবরেটরী হাইস্কুলে নয়। এ সমস্যা সারা বাংলাদেশের। আগামী ২/৩ মাসের মধ্যে গভঃ ল্যাবরেটরী হাইস্কুলের শিক্ষক এবং অফিস সহায়কের শূন্য পদগুলোর বিপরীতে যাতে নিয়োগ দিতে পারি সে প্রক্রিয়াগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি”।

এ ছাড়া ছাত্র/ছাত্রীর তুলনায় বিদ্যালয়টিতে পর্যাপ্ত ক্লাস রুমেরও সংকট রয়েছে। কাম্পাসে ১৪ কক্ষ বিশিষ্ট ১টি ভাটিক্যাল বিল্ডিং নির্মাণের কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ হয়নি। স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে ছাত্র/ছাত্রীদের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম খেলার মাঠটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে।

ক্যাম্পাসের ড্রেন, আঙ্গিনা, রাস্তায় পানি জমে ময়লা, দূষিত, দুর্গন্ধময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসটিতে বর্তমানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে।

উপরোল্লিখিত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের জন্য অভিভাবকবৃন্দ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

খুলনা গেজেট/ এস আই




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692