খুলনা, বাংলাদেশ | ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  মার্কিন শুল্ক ইস্যু নিয়ে জরুরি সভায় বসেছেন প্রধান উপদেষ্টা
  বাংলাদেশের মতো এত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আর কোথাও নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
  শরীয়তপুরের জাজিরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ

রূপসায় দু’ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কবর সংরক্ষণের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনার রুপসা উপজেলার দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম প্রান্তে মহান মুক্তিযুদ্ধে দুজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কবর সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উদ্যোগের অংশ হিসেবে কবরে নামফলক স্থাপন করা হয়েছে। এ দু’ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হচ্ছেন শ্রমিক নেতা হাবিবুর রহমান খান ও থানা আনসার কমান্ডার মোসলেম আলী হাওলাদার। ১৯৭১ সালে ৪ এপ্রিল গল্লামারীসহ রেডিও সেন্টার দখলের যুদ্ধে তারা শহীদ হন।

এ উপলক্ষে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মো. আবু জাফর। তিনি গল্লামারী যুদ্ধের গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা। অনুষ্ঠানে রূপসা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, রুপসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আহবায়ক শেখ তৈয়েবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, শহীদ মোসলেম আলী হাওলাদের ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম লাল মিয়া, মেয়ে হাসিনা বেগম, মেয়ে নাসরিন বেগম, জামাই আনোয়ার হোসেন মিন্টু, শহীদ হাবিবুর রহমান খান এর ভ্রাতুষ্পুত্র কামরুজ্জামান বাবু, দেবীপুর মাধ্যমিক উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ জাহিদুল ইসলাম রবি, নৈহাটি ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব দিদারুল ইসলাম দিদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ অনুষ্ঠানে জেলা আহ্বায়ক একাত্তরের ৪ এপ্রিল গল্লামারী যুদ্ধের বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি এ যুদ্ধে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার সুতালড়ি গ্রামের সন্তান আনসার কমান্ডার শহীদ মোসলেম আলী হাওলাদার (গেজেট নম্বর১৬৮২) ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার বদনকাটি গ্রামের সন্তান খুলনা দাদা ম্যাচ এর শ্রমিক নেতা হাবিবুর রহমান খান (গেজেট নম্বর ১৩৮) শহীদ হওয়ার বীরত্বের প্রেক্ষাপটও বর্ণনা করেন।

চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য গল্লামারীসহ রেডিও সেন্টার দখলের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নবম সেক্টরের কমান্ডার মেজর এমএ জলিল এ বেতার কেন্দ্র দখলের নির্দেশনা দেন। তার আগের দিন রুপসা উপজেলার রামনগর গ্রামের হামিদা মনজিলে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। একই দিনে দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও অনুরূপ ক্যাম্প স্থাপন হয়। এ দুটি ক্যাম্প থেকে গল্লামারী রেডিও সেন্টার দখলের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা রওনা হয়। এ ক্যাম্পের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন জেলা মুজিববাহিনীর অধিনায়ক শেখ কামরুজ্জামান টুকু। জেলা মুজিববাহিনীর অধিনায়ক উপস্থিত থেকে পরদিন দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম প্রান্তে দু’ শহীদের লাশ দাফন করেন।

পরবর্তীতে এ দুটি কবর শনাক্ত করেন নৈহাটি ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান খান বজলুর রহমান ও সাবেক সদস্য শেখ আব্দুল ওহাব। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক কবর দুটি সংরক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করলে গত ১৯ মার্চ তার দপ্তর থেকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে রুপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেন। গল্লামারী যুদ্ধে অপর শহীদ হলেন এ যুদ্ধের অধিনায়ক বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার আড়ুয়াবর্ণি গ্রামের সুবেদার মেজর (অবঃ) শেখ জয়নাল আবেদীন। নিরালা এলাকার সিটি কলেজ ছাত্রাবাস এর কাছে তার দাফন করা হয়। এ যুদ্ধে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন। কয়েকজন পাক সেনা নিহত হন।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!